প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কালকিনিতে ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দিশেহারা

এইচ এম মিলন, মাদারীপুর : উপজেলায় এবারের ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে আমন ধানসহ প্রায় ১১২৬ হেক্টর ফসলি জমি আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির লক্ষাধিক গাছ, দুই শতাধিক কাঁচা ঘড়-বাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে করে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এদিকে চরম ক্ষতির মুখে পড়ে কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে আমন ধান ৯৬৮ হেক্টর, পেঁয়াজ ৪ হেক্টর, পানের বরজ-সবজি ১২ হেক্টর ও বীজতলাসহ রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু কিভাবেএ ক্ষতি পুষিয়ে উঠবে কৃষক তা নিয়ে তারা দিশেহাড়া হয়ে পড়েছে।

তাই সরকারি সহায়তা চান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। উপজেলার নিম্নাঞ্চল এলাকা মিয়ারহাট, গোপালপুর, আলীনগর, সিডিখান ও কয়ারিয়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকার আমন ধান বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। পানি নিষ্কাসনের অভাবে ধান পানিতে পঁচে যাচ্ছে।

অপরদিকে লক্ষ্মীপুর ইউপির সুর্যমনী দাখিল মাদ্রসাসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বুলবুলের আঘাতে লণ্ড ভণ্ড হয়ে গেছে। ওই সকল শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এখন খোলা আকাশের নীচে পাঠদান করানো হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কফিল উদ্দিন বেপারী কান্নজরিত কন্ঠে বলেন, বুলবুলের আঘাতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে আমার ৯বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এ জমিতে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ব্যায় হয়েছে। এখন কিভাবে আমরা এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠবো। সহায়তা তো দুরের কথা কৃষি অফিস থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের কোন খোঁজ খবর নেয়নি।

কৃষানী গৃহবধু নূরনাহার বেগম বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকারি কোন সহায়তা পাইনি। অনেক বছর আগে একটা কৃষি কার্ড পেয়েছিলাম। কিন্তু এরপর আর কিছুই দেয়নি। আমরা কৃষক এখন কিভাবে বাঁচবো।

ঘর্নিঝড়ে ঘরহারা অসহায় এরশেদ আলী বেপারী বলেন, আমার কিছুই নাই। থাকার মধ্যে আমার দোচালা একটি খরপাতার বসতঘর ছিলো। মরার বুলবুল সেই ঘরটাকে উড়িয়ে নিয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিল্টন বিশ্বাস বলেন, আপাততো প্রনোদনা কর্মসুচীর আওতায় কৃষকদের মাঝে বিনামুল্যে সার-বীজ বিতরণ করেছি। তবে তাদের কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবো আমরা।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমান নির্নয় করে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরকারের মাধ্যমে সহায়তা আসলে তা স্থানীয় কৃষকদের মাঝে প্রদান করা হবে। আর ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের খোঁজ খবর নেয়া হয়েছে।সম্পাদনা: জেরিন মাশফিক

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত