প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশের সড়ক ও স্থাপনায় থাকা স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম মুছে ফেলার নির্দেশ হাইকোর্টের

মহসীন কবির : বৃহস্পতিবার সকালে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী  ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম পরিবর্তন করে স্থানীয় বীর মুক্তিযুদ্ধাদের নামে নামকরণ করতে বলা হয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব স্থাপনা থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম মুছে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

স্বাধীনতাবিরোধীর নামে স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে রয়েছে- শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের নামে নরসিংদীর মনোহরদীতে সরকারি শিশু পরিবারের নামফলক। যুদ্ধাপরাধী আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক বিএনপি নেতা আবদুল আলিমের (কারাগারে মৃত্যু) নামে বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তন। রাজাকার মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের নামে হবিগঞ্জের মাধবপুরের নোয়াপাড়ায় বাসস্ট্যান্ড ও কায়সারনগর এলাকা। একাত্তরে পাবনার শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান প্রয়াত বিএনপি নেতা সাইফুদ্দীন ইয়াহইয়াহ খান মজলিসের নামে সিরাজগঞ্জে স্কুল ও কলেজ। রাজাকার আবদুর রাজ্জাক মিয়ার নামে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ‘শহীদ আবদুর রাজ্জাক রোড’। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার রাজাকার এনএম ইউসুফের নামে ইউসুফ গনি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লংলা ইউসুফ কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্য মাহতাব উল্লাহর নামে হাই স্কুল। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে রাজাকার আবদুল আজিজের নামে ডেলকা এমসি হাই স্কুল ও বেলকা রোডে রায়জীবন ইউনিয়ন কমপ্লেক্স। একই জেলার সুন্দরগঞ্জের ধর্মপুরে স্বাধীনতাবিরোধী আবদুল জব্বারের নামে ডিগ্রি কলেজ। নোয়াখালীর চৌমুহনীর রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্য তরিকুল্লাহর নামে রাস্তার নামকরণ। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় রাজাকার মিয়া মনসুর আলীর নামে একাডেমি। কুমিল্লার দরগাবাড়ী এলাকায় শান্তি কমিটির সদস্য রেজাউর রহমানের নামে রাস্তার নামকরণ। নাটোরে রাজাকার আবদুস সাত্তার খানের নামে মধু মিয়া রোড। একই জেলার রাজাকার কোসের উদ্দিনের নামে রাস্তা। পুরান ঢাকায় মুজাহিদ বাহিনীর মোহাম্মদ তামিমুল এহসানের নামে রাস্তা। পুরান ঢাকায় মুজাহিদ বাহিনীর কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদউল্লাহ ওরফে হাফেজ্জী হুজুরের নামে রাস্তা। নেত্রকোনার ফাইলাটি ইউনিয়নে রাজাকার আবদুর রহমানের নামে হাই স্কুল। মেহেরপুরের মুজিবনগর এলাকার রাজাকার মিয়া মনসুর আলীর নামে একাডেমি, পৌর এলাকার রাজাকার সবদার আলীর নামে রাস্তা ও মার্কেট। ঝিনাইদহের শৈলকূপায় রাজাকার শফি আহমেদের নামে এলাকা ও পোস্ট অফিস।

স্বাধীনতাবিরোধীদের নামে স্থাপনা, সড়ক, অবকাঠামোর নাম পরিবর্তনের আবেদন জানিয়ে ২০১২ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেছিলেন অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন ও সাংবাদিক লেখক শাহরিয়ার কবির। সেখানে সুনির্দিষ্টভাবে খুলনার খান-এ সবুর রোড এবং কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শাহ আজিজুর রহমান মিলনায়তনের কথা উল্লেখ করা হয়।

দেশ স্বাধীনের পর দালাল আইনে বিচার শুরুর সময় প্রকাশিত ছয়শ’ স্বাধীনতাবিরোধী অপরাধীর তালিকায় মুসলিম লীগ নেতা খান এ সবুরের নাম ছিল। অন্যদিকে জিয়াউর রহমানের সময় প্রধানমন্ত্রী হন শাহ আজিজুর রহমান। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার কারণে তাকে দালাল আইনে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গত এক বছরেও আদালতের ওই আদেশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় ২০টি স্থাপনার নামের তালিকাসহ নতুন এই সম্পূরক আবেদন করেন রিটকারীরা। এ বিষয়ে রিটকারীদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ কে রাশিদুল হক।

 

চ্যানেল২৪ ও সমকাল

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত