প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আউটার স্টেডিয়ামের বাণিজ্য মেলায় ‘মাছি মারছে’ দোকানিরা

নিউজ ডেস্ক: মেলা মানেই ভিড়, মেলা মানেই মানুষের ঠাসাঠাসি, হৈচৈ। কিন্তু পুরো বিপরীত চিত্র দেখা গেল চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ির আউটার স্টেডিয়ামের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায়। সিলেট থেকে আসা দোকানি কুদ্দুছ বললেন, ‘সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কোনো মানুষ থাকে না। বসে বসে মাছি মারতে হয়।’ সূত্র: চট্টগ্রাম প্রতিদিন

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে চট্টগ্রাম আউটার স্টেডিয়ামে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা চলছে। নামে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা হলেও দর্শনার্থীদের আনাগোনা নেই বললেই চলে। ক্রেতার অভাবে এমনকি দিনের আহারের টাকাও উঠছে না বিক্রেতাদের।

২৭ অক্টোবর বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি মেলা উদ্বোধন করেন। তবে মেলার ১৭ দিন পার হলেও জনমানবশূন্য দেখা গেছে চারপাশ। মেলার এমন পরিস্থিতিতে হতাশ মেলায় স্টলদাতারা। আয়োজক কর্তৃপক্ষ তো আরও হতাশ। মেলায় ২৪০টি স্টলের ব্যবস্থা করা হলেও খালি পড়ে আছে ২০ থেকে ২৫টি স্টল।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চট্টগ্রাম আউটার স্টেডিয়ামে আয়োজিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বিভিন্ন স্টল নিয়ে বসে আছেন স্টলের মালিকরা। কিন্তু পণ্য বিক্রির জন্য পাচ্ছেন না তেমন কোনো ক্রেতা। বিক্রেতারা বলছেন, মানুষ আসলেই তো জিনিস কিনবে। কিন্তু মেলায় যেখানে মানুষই নাই সেখানে কে জিনিস কিনবে? সবমিলিয়ে নামমাত্র চলছে মেলা। নেই কোনো লোকজনের আগমন। অধিকাংশ স্টলই খালি পড়ে আছে। মেলা নিয়ে নেই কোনো প্রচারণা।

ঢাকা থেকে আসা জান্নাত এন্টারপ্রাইজের বিক্রেতা রাসেল হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেক টাকা খরচ ঢাকা থেকে শাড়ি, থ্রি পিস এনে স্টল দিয়েছি। তাছাড়া দোকান ভাড়া, লাইট, ফ্যান এসবের খরচ তো আছেই। যে চাহিদা নিয়ে মেলায় দোকান দিয়েছি, মনে হচ্ছে সে চাহিদাটা পূরণ হবে না। মেলা শুরু হয়েছে ১৬ দিন হয়ে হলো। কিন্তু বিক্রি চাহিদার চেয়ে অনেক কম। মেলায় মানুষের আনাগোনা একেবারে নেই বললেই চলে। অন্যান্য মেলায় যেখানে প্রতিদিন ৩০ হাজারের চেয়ে বেশি বিক্রি হয়, এখন সেখানে ১০ হাজারও বিক্রি করতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘অফার রাখার পরও ক্রেতা পাচ্ছি না। এখানে কিছু জামা ১ সেট ৩৫০ টাকা এবং একসাথে ৩ সেট কিনলে ৯৯৯ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সবমিলিয়ে মনে হচ্ছে বিরাট ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। কারণ এই ১৬ দিনে আশানুরূপ বিক্রি হয়নি। বাকি ১৪ দিনে বিক্রি বাড়বে— এই আশাও করতে পারছি না।’

আইসক্রিম বিক্রেতা মো. ইমরান বলেন, সারাদিন আইসক্রিম নিয়ে বসে থাকি। মেলা জনশূন্য হওয়ায় বিক্রি হয় না তেমন। অবশ্য সন্ধ্যার দিকে কিছু মানুষ আসে। তখন কিছুটা বিক্রি করা যায়।’

সিলেট থেকে আসা আচার বিক্রেতা কুদ্দুছ বলেন, ‘মেলায় দর্শনার্থীদের একটি আকর্ষণ হলো আচার। তাই মেলায় আসলে সকলেরই চোখ পড়ে আচারের ওপর। দোকানে তো ভিড় লেগেই থাকে। কিন্তু এই মেলায় দোকান দিয়ে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন অবস্থা। নেই কোনো মানুষের আনাগোনা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কোনো মানুষ থাকে না। বসে বসে মাছি মারতে হয়। সন্ধ্যার দিকে মোটামুটি একটু মানুষের আনাগোনা বাড়ে, তখন কিছুটা বিক্রি হয়।’

চাঁদপুর মৃৎশিল্পের দোকানি বললেন, ‘এটা মেলা তো না, মনে হচ্ছে খেলা। এই মেলায় তেমন বিক্রি হচ্ছে না। জনশূন্যহীন একটা মেলা। বিক্রি তো করতে পারছি না। দোকানে বসে বসে চারদিকের দোকানগুলো দেখি এই আর কি! তবে সামনে বিজয় মেলা আসছে। তখন এই মেলাটা হবে জমজমাট। কারণ তখন মানুষের একটা আকর্ষণ থাকে মেলার প্রতি।’

‘মা বাবার দোয়া’ স্টলের মালিক অনিক বললেন, ‘মেলায় মানুষ না থাকার কারণ হলো পাশে পলোগ্রাউন্ড মাঠেও আন্তর্জাতিক উইমেন এসএমই এক্সপো হচ্ছে। তাই মানুষ ওইদিকে ভিড় করছে। যার কারণে এদিকে মানুষ কমে আসছে।’

মেলায় ঘুরতে আসা সোহেলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মনেই হচ্ছে না মেলায় এসেছি। কোনো মানুষ নেই, হৈচৈ নেই। অনেক ফাঁকা ফাঁকা লাগছে এই মেলা।’

নাফিজা আক্তার নামে এক তরুণী বলেন, ‘আমি আজই এলাম মেলাতে। এসে অল্প আচার কিনলাম। মেলায় ভিড় থাকলেই ভালো একটা উৎসবে এসেছি বলে মনে হয়। কিন্তু এখানে এসে তার পুরো উল্টো দিকটা দেখছি।’

মেলার এমন দৃশ্য নিয়ে মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সহকারী সচিব জয়নুল আবেদীন জানান, ‘মেলা দর্শনার্থীশূন্য হওয়ার কারণ হল এই সময়টা উপযুক্ত না মেলার জন্য। এখন বাচ্চাদের জেএসসি ও জেডিসিসহ আরও অনেক পরীক্ষা চলছে। যার কারণে দেখা যাচ্ছে পরিবার থেকে কেউ আসতে পারছে না। তাছাড়া পাশে পলোগ্রাউন্ড মাঠেও আন্তর্জাতিক উইমেন এসএমই এক্সপো হচ্ছে। তাই মানুষ ওইদিকে যাচ্ছে। তাছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগও মেলা না জমার অন্যতম কারণ।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মেলার উদ্দেশ্য ছিলো প্রচার এবং প্রসার। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে স্টলদাতাদের সাথে আমরাও হতাশ। হালিশহর আবহানী ফিল্ডে আমাদের আগের মেলাতে প্রতিদিন ১২-১৩ হাজার দর্শনার্থী থাকতো। কিন্তু সে জায়গায় এখানে তিন হাজারের মতো মানুষ আসছে।’

মেলায় প্রবেশপথের বাম পাশে অবৈধভাবে দেওয়া টঙের দোকান নিয়ে তিনি বলেন, ‘ওটা তো আমাদের মেলার সীমানার বাইরে। আমি সে সম্পর্কে কিছু বলতে পারছি না। আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো নিয়ই আমি জানাতে পারবো।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত