প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাতাসে বিষ কমাতে কলকাতাতেও বায়ু পরিশোধক

রাশিদ রিয়াজ : পুরসভার মেয়র পারিষদ (পরিবেশ) দেবাশিস কুমার বলেন, ‘বেঙ্গালুরুর এক চিকিৎসক এই এয়ার পিউরিফায়ার তৈরি করেছেন। কলকাতায় একটি ম্যারাথনে প্রথমে চার জায়গায় চারটি পিউরিফায়ার বসানো হয়েছিল। অত্যন্ত ভালো ফল দেখে আমরা পুর ভবনের পাশে একটি এয়ার পিউরিফায়ার বসিয়েছিলাম। এক মাস ট্রায়াল দেওয়ার পর দেখা যায় আগের চেয়ে দূষণের মাত্রা কমেছে।’ দিল্লির বিষিয়ে ওঠা বাতাস নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। এই বছর দীপাবলিতে কলকাতাতেও বায়ু দূষণে লাগাম দেওয়া যায়নি। এই অবস্থায় কর্পোরেট জগতের পরিচিত মুখেরাও দূষণ রোধে নয়া দাওয়াইয়ের ভাবনা জাগাতে চাইলেন। দেবাশিসের কথায়, ‘ট্রায়ালের রিপোর্ট আমরা দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে দিয়েছি। পর্ষদের বিশেষজ্ঞরা তাঁদের অভিমত জানালে আমরা এই বিষয়ে এগোব।

দূষণের মোকাবিলায় ২০১৮ সালে উত্তর চীনের শানসি প্রদেশের জিয়ান শহরে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে বিশ্বের উচ্চতম এয়ার পিউরিফায়ার বা বায়ু পরিশোধক নির্মাণ করা হয়েছে। ৩২৮ ফুট উঁচু ওই এয়ার পিউরিফায়ার রোজ ১০ মিলিয়ন ঘন মিটার শুদ্ধ বায়ু পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়। এই চীনা মডেলে ভারতের দূষিত মহানগরগুলিতে এয়ার পিউরিফায়ার বসানো পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করলেন ভারতের প্রথমসারির নারী উদ্যোক্তা বাণী কোলা। সোশ্যাল মিডিয়া ‘লিঙ্কড ইনে’ চীনা এয়ার পিউরিফায়ের ছবি দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘দূষণের মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে পরীক্ষা চলছে, এর মধ্যে চীনের এই এয়ার পিউরিফায়ারের মডেল আশাব্যঞ্জক।’ উল্লেখ্য, কলকাতা পুরসভাও এই মডেলেই দূষণ নিয়ন্ত্রণের রাস্তায় হাঁটতে চাইছে।

যে মডেলের এয়ার পিউরিফায়ার পুর ভবনের পাশে বসানো হয়েছিল, তার বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। যে সংস্থা এই প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে, তারা কলকাতার প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি এয়ার পিউরিফায়ার বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এটাও বলেছে, ছোট দু’টি ওয়ার্ডের জন্য একটি পিউরিফায়ার বসানো যেতে পারে।

পরিবেশবিজ্ঞানী তন্ময় রুদ্রর বক্তব্য, ‘পুরোনো গাড়ি বাতিল করা, নির্মাণ কাজ জনিত দূষণ বন্ধ করা, ধাপায় নোংরা পোড়ানো বন্ধ করার মতো পদক্ষেপগুলির সঙ্গে যদি এয়ার পিউরিফায়ার থাকে, তবেই সাফল্য আসবে।’ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের অবসরপ্রাপ্ত মুখ্য আইন আধিকারিক বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, চীন শুধু এয়ার পিউরিফায়ার বসায়নি, গ্রিন টেকনোলজি চালু করেছে,  নীল আকাশ নীতি নিয়েছে। ভারতে ২০০৬ সালের পর দূষণ মোকাবিলায় কোনও সার্বিক নীতি গ্রহণ করা হয়নি। শুধু বিচ্ছিন্ন ভাবে এয়ার পিউরিফায়ার বসালে কতটা সাফল্য আসবে, তা জানি না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত