প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বুয়েটের অচলাবস্থা কাটছে না, আবরারের খুনীদের স্থায়ী বহিষ্কার চান শিক্ষার্থীরা

ভোরের কাগজ : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর ১০ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীদের অন্যতম দাবি ছিল অভিযুক্তদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার। সেজন্য আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের চার্জশিট ও জবানবন্দির কপি  আদালতে জমা দেয়ার অপেক্ষায় ছিলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাস।  তারা জানিয়েছিলো, কপিগুলো হাতে পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি যাচাই-বাছাই এবং সুপারিশের পর বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। এ জন্য যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন বলেও জানিয়েছিলো তারা। এদিকে গতকালই গতকাল ২৫ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর আসামিদের স্থায়ী বহিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত কোনো ক্লাস হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। ফলে দেশের এই শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিগগিরই সচল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটে শেরেবাংলা হল থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আবরার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমে ১০ দফা দাবি তোলেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে বুয়েট শিক্ষক সমিতি ও সাবেক শিক্ষার্থীরাও সমর্থন প্রকাশ করেন। তাদের দাবির মুখে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ, আবরার হত্যার আসামিদের সাময়িক বহিষ্কার এবং হলগুলোতে নির্যাতন বন্ধে নানা পদক্ষেপ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এদিকে বুয়েট কর্তৃপক্ষ নিজেদের তদন্তের জন্য পুলিশের চার্জশিটের জন্য অপেক্ষার কথা জানিয়েছিল। এখন দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে- এমনটি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জানতে চাইলে বুয়েট ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে আবরার হত্যার আসামিদের চার্জশিট হয়েছে। এরপর চার্জশিটের কপি এবং জবানবন্দির কপি সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয় তদন্ত কমিটিকে দেব। আমরা আগেই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম, কিন্তু চার্জশিট না হওয়ায় অভিযুক্তদের সঙ্গে তদন্ত কমিটি কথা বলতে পারেনি। ইতোমধ্যে করণীয় সম্পর্কে তদন্ত কমিটি ২০-২১টি বৈঠক করেছে। এখন যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত কমিটি অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং চার্জশিট ও জবানবন্দি পর্যালোচনা করে উপাচার্যের কাছে প্রতিবেদন দেবেন। এদের স্থায়ী বহিষ্কার হবে কিনা, হলেও কবে এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মিজানুর রহমান বলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

তবে খুনিদের সঙ্গে ক্যাম্পাস ভাগাভাগি করতে রাজি নন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ক্যাম্পাসের ভাগ্য নির্ধারণ এখন কর্তৃপক্ষের হাতে। কর্তৃপক্ষ যত দ্রুত ব্যবস্থা নেবে, ততই সবার জন্য মঙ্গল। আসামিদের স্থায়ী বহিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে ক্লাসে ফিরবেন তারা। এ ব্যাপারে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র বুয়েটের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহমুদুর রহমান সায়েম ভোরের কাগজকে বলেন, আমরা চার্জশিটের বিষয়টি দেখেছি। এর শুদ্ধতা নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই। অভিযুক্তদের সবাই চার্জশিটে এসেছে কিনা, বা কারো নাম বাদ পড়ল কিনা তা আইনজীবীরা দেখবেন। আমাদের দাবি, যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়েছে স্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের বহিষ্কার করা হোক। তারা যে সত্যিকারের অপরাধী, তার প্রমাণ এই চার্জশিট। যত দ্রুতই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটি কার্যকর করবে, তত দ্রুতই আমরা ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরব। খুনিদের বুয়েট থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ না করা পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেব না। মামলার চার্জশিট হওয়ার পর নিজেদের মধ্যে কোনো বৈঠক হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বৈঠক করিনি। নিজেদের মধ্যে কিছু বিষয়ে কথা বলেছি। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে বসব এবং খুনিদের আজীবন বহিষ্কারের জন্য প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গেও বৈঠক করতে আমরা রাজি।

অনুলিখনঃ ইয়াসিন আরাফাত, সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত