প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতের অর্থনীতি ডুবছে কিন্তু আকাশে উড়ছে বিজেপির তহবিল

আসিফুজ্জামান পৃথিল : দল হিসেবে বিজেপি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের তুলনায় অতি নবীন। কিন্তু দলীয় তহবিল সংগ্রহে কংগ্রেসের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে দলটি। এর প্রধানতম কারণ ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট বলে মত দিচ্ছেন অনেক বিশ্লেষক। এদিকে, সর্বশেষ নির্বাচনের আগে বেশ বড় আকারে নির্বাচনী বন্ড বাজারে ছেড়েছিলো দলটি। এতেও এসেছে ঈর্ষণীয় সাফল্য। শুধু সাঙ্গঠনিক সাফল্য নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও বিজেপির অবস্থান ভারতের রাজনীতিতে এখন অনেক শক্ত।

২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ভারতীয় জনতা পার্টির দান থেকে আয় ৭৪২ কোটি রুপি। আয়ের দিক দিয়ে দলটির আশেপাশেই নেই কেউ। কংগ্রেসের আয় বিজেপির আয়ের মাত্র ২০ শতাংশের আশেপাশে। ২য় স্থানে থাকা দলটি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে আয় করেছে ১৪৭ কোটি রুপি। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ আয়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের আয় ৪৪ কোটি রুপি। তবে বিজেপির সর্বোচ্চ সাফল্য বলা হচ্ছে, সর্বশেষ লোকসভা নির্বাচনের অর্থ সংগ্রহের জন্য ছাড়া ইলেক্টরাল বন্ড। দলটি এসময়ের মধ্যে সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি রুপির বন্ড বিক্রি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ধরণের বন্ড ছেড়েছিলো কংগ্রেসও। তবে তাদের বিক্রির পরিমাণ ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি রুপি। সব মিলিয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিজেপির আয় ৫ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার ৯০০ কোটি রুপি। লোকসভা নির্বাচনে মোট ৬ হাজার ১২৮ কোটি রুপির নির্বাচনী বন্ড বিক্রি হয়েছে। যার সিংহভাগই গেছে বিজেপির ঘরে। শতাংশের হিসেবে যা ৮০ শতাংশেরও বেশি।

তবে শুধু ভক্ত বা হিন্দুত্ববাদীরাই নয়, বিজেপির আয়ের একটি বড় উৎস হয়ে উঠেছেন, কংগ্রেস ঘেষা বলে পরিচিত ব্যবসায়ীরা। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিজেপির সবচেয়ে বড় দাতা ব্যবসায়ীগোষ্ঠী টাটা নিয়ন্ত্রিত প্রগ্রেসিভ ইলেক্টরাল ফান্ড। বিজেপির দাতাদের তালিকায় আরও রয়েছে ভারতের বড় বড় মিস্টির দোকান, জুয়েলার এমনকি পাথর কেয়ারির মালিকরাও। বিষয়টি এমন দাঁড়িয়েছে, সবাই যেনো স্বেচ্ছায় দলটিকে অর্থ দিতে প্রস্তুত। সর্বশেষ অর্থবছরে টাটা নিয়ন্ত্রিত ফান্ডটি থেকে বিজেপির আয় ৩৫৬ কোটি রুপি। অথচ টাটা সবসময়ই কংগ্রেস ঘেষা এবং কংগ্রেসের প্রধানতম দাতা বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। বিজেপির নির্বাচনি হলপনামা থেকেই পাওয়া গেছে এই তথ্য।
বিজেপির আয়ের আরও একটি বড় উৎস হলো বিভিন্ন মন্দির ভিত্তিক ট্রাস্ট। কংগ্রেস বা অন্য দলগুলো এক্ষেত্রে একেবারেই পিছিয়ে আছে। মন্দির তৈরী ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাদের ফান্ডে প্রতি বছর কয়েকশ কোটি রুপি আলাদাভাবে জমা পরে। এই দাতাদের মধ্যে রয়েছে একবারেই সাধারণ গৃহবধু থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসায়ীরা। সম্পাদনা : খালিদ আহমেদ

সর্বাধিক পঠিত