প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একা বেড়ে ওঠার কারণে বাচ্চাদের ওজন বৃদ্ধি পায়!

স্বাস্থ্য ডেস্ক : মা-বাবার একমাত্র সন্তান স্থূলতার শিকার হয় বেশি। অতিরিক্ত ওজন নিয়ে জন্ম না নিলেও পরে নানা কারণে এদের বাড়তি ওজন নিয়ন্ত্রণে আনা অসম্ভব হয়ে ওঠে। যেসব সন্তানের আরো ভাই-বোন থাকে তাদের মধ্যে ওবেসিটির হার তুলনামূলক কম।বাংলানিউজ২৪
জার্মানির ১০ হাজার স্কুল শিক্ষার্থীর ওপর জরিপ চালিয়ে গবেষণা করেছেন একদল গবেষক। তাদের গবেষণাতেও প্রাধান্য পেয়েছে ছেলে-মেয়েদের একা বেড়ে ওঠার বিষয়টি। আর অতিরিক্ত ওজনের প্রথম কারণ চিহ্নিত হয়েছে ফাস্ট ফুড বা জাঙ্ক ফুড।

যুক্তরাষ্ট্রের পুষ্টিবিশারদ ড. নাটালি মুথ বলেন, একা বেড়ে ওঠা সন্তানদের খাদ্যাভ্যাস অন্যদের থেকে আলাদা। এসব সন্তানদের তিনি সিঙ্গেলটন নামে অভিহিত করেছেন।

নাটালির মতে সিঙ্গেলটন বাচ্চারা প্রচণ্ড একরোখা, বদরাগী, জ্বেদী হয়। তাদের যেহেতু কারো সঙ্গে নিজের খেলনা বা খাবার ভাগাভাগি করার প্রয়োজন হয় না। তাই এরা তুলনামূলক অন্য বাচ্চাদের চেয়ে স্বার্থপর হয় অনেক বেশি। মা-বাবার সম্পূর্ণ মনোযোগ ও আদর নিয়ে বেড়ে ওঠায় তারা যথেষ্ট স্বেচ্ছাচারী আচরণ করে থাকে এবং নিজের অজান্তে এসব বাচ্চারা ফাস্টফুড খাবারে আগ্রহী বেশি থাকে কারণ আবদার পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে শতভাগ।

একা বেড়ে ওঠা বাচ্চারা আবার অনেক বেশি মেধাবী হয়ে থাকে। এরা চমৎকার ব্যক্তিসত্ত্বার অধিকারী হয় এবং আত্মবিশ্বাসের মাত্রা প্রবল হয়ে থাকে। যে কারণে এদের অহমিকাবোধ প্রবল হয়।

যেসব বাচ্চাদের ভাই-বোন থাকে তারা ছোট থেকেই ভাগাভাগি করতে শেখে। আর এসব পরিবারেও বাইরের খাবারের চেয়ে বাসায় তৈরি খাদ্যে বেশি জোর দেয়া হয়ে থাকে। পাশাপাশি আবদারের ক্ষেত্রে একজনেরটা মানা হলে অপরজনেরটা সেই মুহূর্তে না মেনে নেয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। তাই, সিঙ্গেলটনের চেয়ে বাইরের খাবারে এদের আসক্তি কম থাকে।

চীনের এক বাচ্চা নীতি প্রয়োগের পর দেখা গেছে দেশটিতে আগের তুলনায় শিশুদের স্থূলতার হার অন্তত ৭ শতাংশ বেড়েছে। আর কর্মব্যস্ত জীবনে মায়েরা শিশুদের ক্ষুধা নিবারণে বাড়তি খাবার হিসেবে রেডি ফুড দিয়ে থাকেন। এটি বাচ্চাদের ওজন বাড়ার বড় একটি কারণ।

আধুনিক সময়ে শারীরিক পরিশ্রমের খেলার থেকে ইন্টারনেট গেমে আসক্তি বেশি বাচ্চাদের। সিঙ্গেলটন বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও প্রকট।

ওজন কমানোতে শারীরিক নয় বরং বেশি প্রয়োজন মানসিক ইচ্ছা। শিশুদের ছোট থেকে খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্য সচেতনায় আগ্রহী করে তুললে এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করবে না বলে মত বিশ্লেষকদের।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত