প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বড় দুর্ঘটনার কারণ এনালাইসিস এবং ভবিষ্যতে এড়াতে কিছু রিকমেন্ডেশন

মোবাশ্বের হোসেন, ফেসবুক থেকে, এবছরের ২য় বড় রেলের এক্সিডেন্টটি ঘটেছে গভীর রাতে, ৭৪১ তূর্ণা নিশিতা এবং ৭২৪ উদয়ন ট্রেনদুটির সংঘর্ষজনিত কারণে। স্থানঃ মন্দবাগ স্টেশন, কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ১৫ জন নিহত হয়েছেন, আরও বাড়ার সম্ভাবনা। (ছবিগুলো সব কালেক্টেড)

এবার আসি কেন এধরণের দুর্ঘটনা হল। ঘটনা কি ছিল?

কন্ট্রোল অর্ডার অনুযায়ী ৭২৪ উদয়ন ট্রেনটি লুপ লাইনে প্রবেশ করার পর ৭৪১ তূর্ণা ট্রেনটি থ্রু পাস করবে মেইন লাইন দিয়ে। একটি স্বাভাবিক ক্রসিং, সিঙ্গেল লাইনে।

সমস্যা হল, ৭২৪ উদয়ন ট্রেনটি লুপ লাইনে প্রবেশের আগেই ৭৪১ তূর্ণা ট্রেনটি মন্দবাগ আউটার এলাকায় প্রবেশ করে। নিয়ম অনুযায়ী, তূর্ণা ট্রেনটাকে আউটসাইড হতে হবে, উদয়ন কে লুপ লাইনে নেওয়ার পর তূর্ণা মেইন লাইনে থ্রু যাবে।

এখানেই বাধে বিপত্তি। তূর্ণার লোকোমাস্টার এবং এসিস্ট্যান্ট লোকোমাস্টার সিগ্নাল খেয়াল করতে পারেন নি, বলে আউটার, হোম সিগ্নাল অতিক্রম করেছেন, যাকে বলা হয়, ওভারসুট। হোম সিগ্নাল ফুল গতিতে থ্রু পাস করার সময় নিয়মানুযায়ী, সিগ্নাল রেড থাকলে মেইন লাইনে পয়েন্ট সেট করে রাখা হয়না (উল্লেখ্য, এই স্টেশনের লুপ লাইন দুটি, একটি মেইন লাইন)। কাজেই, উদয়নের লুপ ব্যাতিত অন্য লুপ লাইনেই পয়েন্ট সেট করে রাখা দরকার ছিলো, যা স্টেশনমাস্টার ভুলবশত করেননি। করলে তূর্ণা পয়েন্টেই লাইনচ্যুত হত, কিন্ত এত বড় এক্সিডেন্ট হত না।

এরপরে তূর্ণার লোকোমাস্টার ৩য় সিগ্নাল, স্টার্টারও ওভারসুট করেছেন রেড সিগ্নাল হলেও, ততক্ষণে উদয়ন পুরোপুরি লুপ লাইনে ইন করতেই পারেনি।

অর্থাৎ, আপনি যদি দোষ খুজতে যান, তাহলে সরাসরি আপনি ৭৪১ তূর্ণার লোকোমাস্টারদ্বয় এবং মন্দবাগ স্টেশনের সেই সময়ে কর্তব্যরত স্টেশনমাস্টারকে অভিযুক্ত করতে পারেন। বাকিটা তদন্তে উঠে আসবে।

এখন কথা হচ্ছে, ৭৪১ তূর্ণার লোকোমাস্টার কেন এত বড় ভুল করলেন?? রাতে তারা ঘুমাচ্ছিলেন? তারাও জানেন, আপনিও জানেন যে তাদের কতটা সতর্ক থাকতে হয়। তারপরেও তারা ঘুমালে কারণ একটাই হতে পারে, তাদের পর্যাপ্ত রেস্টের টাইম হচ্ছে না।

বলছি না যে তাদের দোষ নাইই, অবশ্যই তারা দোষী। কিন্ত লোকবল সংকটের কারণে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রতিটা ডিপার্টমেন্টেই ওভারডিউটি করতে হয়, রেস্ট টাইম প্রয়োজনের তুলনায় কম। রানিং ক্রুদের রেস্ট টাইম খুব জরুরী কারণ তাদের হাতেই থাকে এত বড় দায়িত্ব। তাদের ভুল মানেই অনেক বড় ক্ষতি।

উদাহরণ যদি দেই, লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনে একসেট এলএমই সুদুর ঢাকা থেকে লালমনিরহাট নিয়ে যান ট্রেন। একইকথা ঢাকা থেকে পার্বতীপুরেও একসেটই ক্রু নিয়ে যান। উদয়ন, মেইল এসব ট্রেনে আখাউড়ায় ক্রু চেঞ্জ হলেও তূর্ণার ক্রু রাতে চেঞ্জ হয়না। ওভার ডিউটির কারণে তাদের অবচেতনতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া কিন্ত যায়না।

আশাকরি, রেলওয়ে এ ব্যাপারে সচেষ্ট হবে এবং রানিং ক্রুদের এ সমস্যা কাটিয়ে তুলবে। একইসাথে আশাকরি রানিং ক্রুরাও যথেষ্ট দায়িত্ববান থাকবেন যাতে এধরণের এক্সিডেন্ট আর না হয়। স্টেশনমাস্টারদেরকেও প্রতিও আশা থাকবে, তারা যেন সেফটি ফার্স্ট নীতিতে পয়েন্ট সেট করে রাখেন।

আর এসব সমস্যা কাটিয়ে তুলতে সিগ্নালিং এর উন্নতি (CBI) এবং ডাবললাইনের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে বলার মনে হয় প্রয়োজন নেই। আজ ডাবল লাইন হলে একটার জন্য আরেকটা বসতোও না, এধরণের এক্সিডেন্টের সুযোগও হত না।

সবাইকে ধন্যবাদ এত বড় পোস্ট পড়ে দেখার জন্য।

সর্বাধিক পঠিত