প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বুলবুলের কারণে ২২ হাজার ৮৩৬  হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত, বললেন কৃষিমন্ত্রী

শাহীন খন্দকার : ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে ২২ হাজার ৮৩৬ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার পরিমাণ ৭২ হাজার ২১২ মেট্রিক টন। যার আর্থিক মূল্য ২৬৩ কোটি ৫ লাখ টাকা। তবে এ কারণে বাজারে প্রভাব পড়বেনা বলে মনে করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

গতকাল মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সকালে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘুর্ণিঝড় বুলবুল’র প্রভাবে দেশের উপক’লীয় ও তার নিকটবর্তি ১৬ জেলার ১০৩টি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নড়াইল, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, মাদারীপুর,  গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর,  নোয়াখালী, ফেনী এবং লক্ষীপুরসহ  মোট ১৬  জেলার  রোপা আমন, শীতকালীন শাক সবজি, সরিষা,  খেসারি, মসুর ও পান ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

এরমধ্যে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৪ হেক্টর  রোপা আমনের ক্ষতি হয়েছে, ১৬ হাজার ৮৮৪  হেক্টর জমির শীতকালীন সবজি, ১ হাজার ৪৭৬ হেক্টর জমির সরিষা, ৩১ হাজার ৮৮ হেক্টর জমির  খেসারি, ১৯৫ হেক্টর জমির মসুর ডাল, ২ হাজার ৬৬৩ হেক্টর জমির পান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ২২ হাজার ৮৩৬ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা  দেশের  মোট ফসলী জমির ৮ শতাংশ। আর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৫০ হাজার ৫০৩ জন।

এদিকে কৃষিমন্ত্রী জানান, ঘুর্ণিঝড়ে কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। অতিরিক্ত কৃষি পূর্নবাসন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুনভাবে বরাদ্দকৃত অর্থ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এরইমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের শুধু ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের পাশেই নয়, সকল কৃষকদের সুযোগ সুবিধা নিয়মিত  দেখভালের দিক নির্দেশনা  দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, চলতি রবি পরবর্তী খরিপ-১ মৌসুমে ৬৪টি  জেলায় ৮০ কোটি ৭৩ লাখ ৯১ হাজার ৮ শত টাকার কৃষি  প্রণোদনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে। এতে গম, ভূট্টা, সরিষা, সূযর্মুখী, চীনাবাদাম, শীতকালীন সবজি, শীতকালীন মুগ, পেঁয়াজ, গ্রীষ্মকালীন মুগ, তিন ফসলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ক্ষুদ্র কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণের কর্মসূচী চলমান রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বহু কৃষক, মৎস্য খামারিসহ গ্রামের দরিদ্র  লোকজন। আর কয়েকটা দিন পর ধান কেটে ঘরে তোলার আশা করছিলেন কৃষক। জমি লিজ নিয়ে পানের বরজ করেছিলেন অনেকে,  কেউ করেছিলেন মাছের খামার।

এদিকে বাগেরহাট  জেলায় ৪৪ হাজার ৫৬৩টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ১৮ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ, ৩৫ হাজার ৫২৯ হেক্টর ফসলি জমি ও সাত হাজার ২৩৪টি মাছের  ঘের।

সর্বাধিক পঠিত