প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গেরিলা ৭১ প্রকাশ করলো “স্বৈরাচারের ৯ বছর ও রাজপথের সংশপ্তকেরা” ভিডিও

ডেস্ক রিপোর্ট : সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে নিয়ে একটি ভিডিও চিত্র প্রকাশ করেছে গেরিলা ৭১।  ১৬ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে  তুলে ধরা হয়েছে এরশাদের নয় বছরের শাসনামলের বিভিন্ন ঘটনা।

স্বৈরাচারের ৯ বছর ও রাজপথের সংশপ্তকেরা

★মাত্র ১৬ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডে পতিত শয়তান স্বৈরাচারের ৯ বছরের ধারাবাহিকতা তুলে ধরার প্রয়াস এই ভিডিও। আজ ১৯৯০ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী নাগরিকদের অবশ্যই দেখা প্রয়োজন কেমন ছিল সেই সময়। প্রথম জেনারেলের মৃত্যুর পর থেকে ক্ষমতার মসনদের প্রতি এরশাদের লোভাতুর জিভ বের করার মুহূর্ত থেকে পতন পর্যন্ত ধারাবাহিকতা রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে এই ফুটেজে।★বাংলাদেশ তথা পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য। নাম তার মোহাম্মদ এরশাদ ওরফে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। অতি সুকৌশলী ও ধুরন্ধর এই পতিত স্বৈরাচার পৃথিবীর তাবৎ স্বৈরাচারের মতোই 'নির্লোভ' 'সৎ' ও 'ধার্মিক' প্রমাণের জন্য এহেন কোন কাজ নেই যা করেনি।যে পথ পরিক্রমায় আজ বাংলাদেশ হাঁটছে সেটি মোটেও মসৃণ ছিলোনা। দীর্ঘ ৯ বছর এ দেশের আপামর মানুষ সর্বতোভাবে লড়েছে, মুক্তিযোদ্ধা হত্যাকারী পতিত শয়তান, স্বৈরাচার, ধর্ম,নারী ও কবিতা দূষণকারী, বিশ্ব বেহায়া এরশাদের বিরুদ্ধে। মাকড়সার আটটি পা, তবে আমাদের হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের দুইটি পা থাকলেও তিনি রাজনৈতিক ময়দানে দুই পা দিয়েই আট পায়ের কাজ চালিয়ে এসেছিল।একাত্তরে পাকিস্তানে আটকে পড়া বাঙ্গালি অফিসার ও সৈন্যদের দেশদ্রোহিতার অভিযোগে পাকিস্তানে বিচার শুরু হলে এরশাদ সেই ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিল। এছাড়াও পাকিস্তানে বসে তার গ্রামের বাড়ি রংপুরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দামী মূল্যবান সামগ্রী পাঠাতেন। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, ৭১ পরবর্তী সময় বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের নিয়মিত বিমান চলাচলও ছিল না। কিন্তু তিনি কোন ঝামেলা ছাড়াই তার মূল্যবান পণ্য বাড়িতে পাঠাতে পেরেছেন। কর্নেল শাফায়াত জামিল বলেছিলেন, "আমার ধারণা এরশাদ ছিলেন পাকিস্তানী ISI আর্শীবাদপুষ্টদের অন্যতম প্রধান"। এসব মূল্যবান সামগ্রী পাঠাবার কাজে সার্বিক সহযোগিতা দেয়া এমনকি হেলিকপ্টার পর্যন্ত ব্যবহার করেছেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ!১৯৭২ ও ১৯৭৩ সালে অন্তত চারবার বিমানযোগে বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী পাকিস্তান থেকে রংপুরে তার বাড়িতে পাঠান। আটকে পড়া বাঙালি সামরিক অফিসাররা তখন তো বিভিন্ন বন্দীশিবিরে নানারকম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। তখন পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে কোন নিয়মিত বিমান চলাচলও ছিল না। তথাকথিত বন্দি এরশাদের পক্ষে ISI-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও সার্বিক সহযোগিতা ছাড়া এধরনের কাজ কোনক্রমেই সম্ভব ছিল না। আমার জানা মতে আটকে পড়া প্রায় ১২’শ অফিসারের কারোই তার মতো সুযোগ পাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি।১৯৭৩ সালের শেষের দিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদে কর্মরত বাঙালি অফিসার ও সদস্যদের পাকিস্তান থেকে ফেরত পাঠানো হয়। পাকিস্তান-ফেরত অফিসারদের মধ্যে তৎকালীন লে. কর্নেল এরশাদও আসেন। মাত্র দুই বছরের মধ্যে তিনটি পদোন্নতি পেয়ে মেজর জেনারেল হন। শান্তিকালীন সময়ে এরকম পদোন্নতি নজিরবিহীন।পাকিস্তান ফেরত সেনাবাহিনী ও মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সেনাদের মধ্যে মানসিকভাবে যুদ্ধ চলতে থাকে। এর মূল কারণ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এক সরকারি আদেশে সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ে সরকারী চাকরিজীবী মুক্তিযোদ্ধাদের দুই বছরের জ্যেষ্ঠতা দেওয়া হয়। যা পাকিস্তান ফেরত কোন সেনা অফিসার ও সদস্য মেনে নিতে পারেনি। এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে, এরশাদ বাংলাদেশে আগমনের পর আর্মি হেড কোয়ার্টারের প্রথম কনফারেন্সে মুক্তিযোদ্ধাদের দুই বছরের সিনিয়রটিকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।"আমি লেফটেন্যান্ট জেনারেল হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদ সর্বশক্তিমান আল্লাহর সাহায্য ও করুণায় এবং আমাদের মহান দেশপ্রেমিক জনগণের দোয়ায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসাবে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ বুধবার থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সকল ও পূর্ণ ক্ষমতা গ্রহণ করছি এবং ঘোষণা করছি যে গোটা বাংলাদেশ অবিলম্বে সামরিক আইনের আওতায় আসবে। প্রধাণ সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে আমি বাংলাদেশের সকল সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করছি।"২৩শে সেপ্টেম্বর ১৯৮১, ঠিক ৩৭ বছর পূর্বে মুক্তিযোদ্ধা হত্যাকারী, পতিত শয়তান, স্বৈরাচার, ধর্ম এবং নারী ও কবিতা দূষণকারী, বিশ্ব বেহায়া এরশাদ আমাদের সেনাবাহিনী'কে মুক্তিযোদ্ধা শুন্য করার চূড়ান্ত ধাপে নজিরবিহীন হঠকারীতার সাথে কথিত 'সেনা বিদ্রোহ'র দায়ে ফাঁসি দিয়েছিল ১২জন মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাকে।সামরিক আদালতে সম্পন্ন এই বিচার ছিল সম্পূর্ণ প্রহসন। সেসময় মুক্তিযোদ্ধা নিধনের যে নীল নকশা বাস্তবায়ন চলছিল তারই অংশ হিসেবে কোন ধরনের দোষ বা সম্পৃক্ততা না থাকার পরেও কেবল মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার কারণেই অন্যায়ভাবে এসকল কর্মকর্তাদের দণ্ড দেওয়া হয়েছিল।‘নীল নকশা বাস্তবায়নের এ বিচারে’ মোট ৩১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। যাদের মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে জেল, তিন-চারজনকে চাকরিচ্যুত এবং বাকীদের খালাস দেওয়া হয়। যে সেনা কর্মকর্তাদের ফাঁসি দেওয়া হয় তারা সবাই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা এবং অধিকাংশই খেতাবপ্রাপ্ত।সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের জন্য গঠিত কোর্ট মার্শালের কোনো নথি সেনাবাহিনীতে নেই। সবই নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। (সূত্রঃ সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারুন-অর-রশিদ)১৯৮১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ১২ সেনা কর্মকর্তার ফাঁসির দিনে নজিরবিহীনভাবে সব সেনানিবাসে কারফিউ দেওয়া হয়, যাতে সেনাসদস্য বা কর্মকর্তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে না পারেন।সেনাপ্রধানরা প্রায়শই ভাবেন তিনি ছাড়া আর কেউ বাংলাদেশটাকে ঠিকঠাক চালাতে পারবেন না, এরশাদও এরকম হাজারটা ফিরিস্তি দিয়ে ২৪ মার্চ '৮২ তারিখে গোটা দেশটা দখল করেছিল। শুরু হয়েছিল স্বৈরশাসন।ঘোড়ায় চড়িয়া মর্দ হাঁটিয়া চলিলো — কথাটির অর্থ জানিনা। বেশ পৌরষ যেন লুকিয়ে আছে কথাটায়। দুনিয়ার তাবৎ একনায়কদের ব্যাকরণ মেনে এটাও নিজেকে ধর্মপ্রাণ ও সৎ প্রমানের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো।★" যদি তাঁর প্রজনন ক্ষমতা থাকতো, তবে সমগ্র দেশ কচি-কাঁচার আসরে পরিণত হতো " (কথাটি তার প্রাক্তন প্রেমিকা জিনাত মোশাররফের)★" আব্দুল মান্নান নামের, একাত্তরের কুখ্যাত ঘাতক'কে ধর্মমন্ত্রী বানিয়েছিলো। সেই মান্নাইন্যা মাদ্রাসা শিক্ষকদের সংগঠন জমিয়াতুল মোদাররেসিনের টাকা মেরে জন্ম দিলো, 'ইনকিলাব' নামের এক আবর্জনা। মহাখালী এলাকায় গাউসুল আজম মসজিদে রাজাকার মান্নাইন্যা মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সক্রিয় ছিল। অথচ, এই জানোয়ারটাকে একাত্তরের ডিসেম্বরেই জাহান্নামে পাঠানো যেত।"★"রাষ্ট্র ক্ষমতা থেকে শুরু করে কবিতা পর্যন্ত, এই দুর্দান্ত লম্পটের বিষ থেকে মুক্ত থাকেনি"★" প্রতি জুমা'র নামাজে বিভিন্ন মসজিদে হাজির হতো, গিয়ে নির্জলা মিথ্যে বলতো, "আমি গতকাল রাতে স্বপ্নে দেখেছি এই মসজিদে নামাজ পরবো "★" আটরশির মুরিদান ছেড়ে, ঢাকার নয়া ভণ্ড ইন্দিরা রোডের কুতুববাগী'র পায়ে চুমু খেয়েছিল এই সাবেক স্বৈরাচার "★" বিটিভি'র সংবাদের প্রথম ১০ মিনিট থাকতো এই বিশ্বাসঘাতকের নোংরা হাসি, পরের ৫ মিনিট বেগমের কাজকাম, বাকি ৩ মিনিট তাঁদের অলৌকিক শিশু সা'দের জন্য"স্বাধীন দেশে মুক্তিযোদ্ধা হত্যার সর্বশেষ ধাপে এই জল্লাদের হাতে লেগেছে অগণিত মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা ও সেনা সদস্যের রক্ত।রাজনীতির আলো-আঁধারের রহস্যময় ও সাধারণের কাছে ব্যাখ্যাহীন পদক্ষেপের ফলে, স্বৈরাচারটি ৯০ সালে পতনের পরেও বেঁচে ছিল ২৯ বছর। মৃত্যু পর্যন্ত ক্ষমা চায়নি আপামর মানুষের কাছে। কৃতকর্মের জন্য লজ্জিতও হয়নি। অগণিত ছাত্রের রক্ত তাঁকে প্রতি মুহূর্তে অভিশাপ দিয়েছে, আগামীতেও দেবে।যে নারী ও পুরুষের বয়স ২৯ সে জানেনা এরশাদের ভয়াবহ দুঃশাসন। সে জানেনা ক্ষমতায় আরোহণের পথ নিরঙ্কুশ করতে নির্দ্বিধায় হত্যা করেছে মুক্তিযোদ্ধাদের।আজ,পতিত শয়তানের প্রতি ভালোবাসায় অনেকেই কেঁপে কেঁপে উঠছেন। তা আপনারা ভালবাসুন আপত্তি নেই, নিজ জন্ম ও দহনের ইতিহাসও স্মরণে রাখুন।ভুলে যেন না যাই, ভুলে যেতে নেই………….. ভুলে যেতে নেই অতীত…(ফুটেজটি, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সকল শহীদের পুণ্যময় স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করছি। তাঁদের পবিত্র রক্ত মারিয়ে আজ হিসেব নিকেশের রাজনীতি চলমান)

Gepostet von গেরিলা ১৯৭১ am Montag, 11. November 2019

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত