প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আটকের পর কাঠুরিয়া কবিরাজকে থানায় নিতে পারেনি পুলিশ

যুগান্তর ডেস্ক : তেল-পানির বোতলে ঝাড়ফুঁকের কাঠুরিয়া কবিরাজখ্যাত সবুজ মিয়াকে ভণ্ডামির অভিযোগে ১৭ দিন আগে আটক করেছিল কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থানার পুলিশ। কিন্তু তাকে থানায় নিয়ে যেতে পারেনি। সেদিন শতশত অন্ধবিশ্বাসী জনতা তাকে পুলিশ ভ্যান থেকে ছিনিয়ে নেয়।

এ ঘটনার ১৫ দিনের মাথায় একই জেলার এবং হোসেনপুরের পার্শ্ববর্তী পাকুন্দিয়া থানায় বিশাল আয়োজন করে মাইকে মাইকে ফুক দিলেন কাঠুরিয়া কবিরাজ সবুজ মিয়া। নানা রোগবালাই ও মসিবত থেকে উদ্ধার পেতে পানি ও তেল ভর্তি বোতল উঁচিয়ে ধরলেন পঞ্চাশ সহস্রাধিক নারী-পুরুষ।

বাংলা সিনেমার আজগুবি ঘটনা-গল্পকে হার মানানো এ অপচিকিৎসার নাটক সারা দেশ, মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে।

ভণ্ডামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে এ ঘটনার নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে ওই কবিরাজরূপী সবুজ মিয়াকে আইনের আওতায় আনারও দাবি তুলেছেন সচেতন নাগরিক সমাজের অনেকে।

জানা গেছে, গত ২৫ অক্টোবর সকালে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থানার সাহেদল ইউনিয়নের এস আর ডি শামসুদ্দিন ভূঁইয়া স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে ঝাড়ফুঁক দিতে আসেন পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানার রাজ্য ইউনিয়নের পায়লাবেড় গ্রামের কথিত কাঠুরিয়া কবিরাজ সবুজ মিয়া। তার আগমন উপলক্ষে লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে ওই প্রতিষ্ঠানটির বিশাল মাঠ।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে কবিরাজির নামে ভণ্ডামির বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হলে হোসেনপুর থানার এসআই রুবেল মিয়ার নেতৃত্বে একদল পুলিশ এসে কবিরাজ সবুজকে আটক করে।

তাকে পুলিশ ভ্যানে তুলে থানায় নেয়ার চেষ্টা করলে অন্ধবিশ্বাসী শত শত লোকজন পুলিশ ভ্যান আটকিয়ে আটক কবিরাজকে ছিনিয়ে নেয়।

এ ঘটনার ১৫ দিনের মাথায় শনিবার একই জেলার পাকুন্দিয়া থানার সুখিয়া ইউনিয়নের চরপলাশ গ্রামের ফসলের বিস্তীর্ণ মাঠে মঞ্চ তৈরি করে ঝাড়ফুঁকের আসর বসায় কথিত কবিরাজ সবুজ মিয়া।

পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম রেণু ও সুখিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হামিদ টিটু মঞ্চে উপস্থিত থেকে তাকে সহায়তা প্রদান করেন।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে চর পলাশ মাঠে ৫০ সহস্রাধিক নারী-পুরুষ তেল-পানির বোতল নিয়ে উপস্থিত হয়। অদৃশ্য প্রচার-প্রচারণার ফলে সেদিন কাক ডাকা ভোর থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এ উপজেলা ও আশপাশের সব রাস্তা এসে মিশে যায় চর পলাশের ওই ফসলের মাঠে।

ফসলের বিস্তীর্ণ মাঠ লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠলে মঞ্চে উপবিষ্ট হন কাঠুরিয়া কবিরাজ সবুজ মিয়া। এক পর্যায়ে সমাগত লোকজনের উদ্দেশ্য বক্তব্য রেখে সবাইকে তেল পানির বোতল উঁচিয়ে ধরতে বলে কবিরাজ সবুজ মিয়া ফুক দিতে গিয়ে বলেন, ‘ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্না লিল্লাহি রাজিউন, আল্লাহ সাফি আল্লাহ মাফি, আল্লাহ মাফ করুক, বিপদ আপদ থেকে হেফাজত করুক, তেত্রিশ কোটি দেবতার মধ্যে কোনো দেবতার লক্ষ্মণ মাইকের আওয়াজ যে পর্যন্ত যাইতেছে যদি কেউ থাইকা থাকো হাজির হও। আরশ-কুরসি লৌহ কালাম, চন্দ্র -তারা, যে কোনো জায়গায় থাকো না কেন হাজির হও’ ইত্যাদি বলে মাইকে ফুক দেন।

আর এ ফুক পড়া তেল-পানির বোতল নিয়ে অন্ধ বিশ্বাসী নারী-পুরুষ মনের আনন্দে বাড়ি ফিরলেন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত