প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অযোধ্যায় মন্দির তৈরি হতে অন্তত ৫ বছর লাগবে!

রাশিদ রিয়াজ : গত নয়ের দশকে ভিএইচপি অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের জন্য এই ওয়ার্কশপ তৈরি করেছে। প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা এখানে পাথর ও মার্বেল খোদাইয়ের কাজ চলে। তার পরেও গত তিন দশকে মাত্র অর্ধেক কাঠামো তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এর অধিকাংশই আবার গ্রাউন্ড ফ্লোরের। যার অর্থ অযোধ্যার মন্দির ওয়ার্কশপে এখনও পর্যন্ত ২১২টি স্তম্ভের মধ্যে মাত্র ১০৬টি কাজ শেষ হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ছাড়পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের প্রস্তুতি তুঙ্গে। তবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের তৈরি নকশা অনুসারে কাজ চললে মন্দির নির্মাণে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে বলে মন্দির ওয়ার্কশপের প্রধান জানিয়েছেন।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের খসড়া অনুসারে, মোট ২১২টি স্তম্ভের ওপরে অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মিত হবে। এর মধ্যে অর্ধেক স্তম্ভ ইতোমধ্যে তৈরি হয়ে গিয়েছে। বাকিগুলি নির্মাণ করতে হবে। দু’টি ভাগে স্তম্ভগুলি সজ্জিত থাকবে। আর তার ওপরে থাকবে ছাদ। ছাদে একটি সুউচ্চ ‘শিখর’ থাকবে বলেও জানা গিয়েছে।

প্রস্তাবিত মন্দিরটি ১২৮ ফুট উঁচু হবে। সেইসঙ্গে এর প্রস্থ এবং দৈর্ঘ্য হবে যথাক্রমে ১৪০ ফুট এবং ২৭০ ফুট। এমন সুবৃহৎ একটি কাঠামোতে সাপোর্ট বেস হিসেবে কোনও ইস্পাত ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ মন্দিরটি নির্মাণে কমপক্ষে ১.৭৫ লক্ষ ঘন ফুট পাথরের প্রয়োজন হবে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের অযোধ্যা রায়ের আগে নিজেদের কর্মশালায় পাথার এবং মার্বেল খোদাইয়ের কাজ বন্ধ রেখেছিল ভিএইচপি। যে সমস্ত কর্মীরা করসেবকপুরমে কাজ করেছিলেন তাঁরা গুজরাতের ভুজ এবং সৌরাষ্ট্রে ফিরে গিয়েছেন। ফলে ওই কর্মশালায় এখন কোনও কর্মী নেই। ফলে এই মুহূর্তে ফের কাজ শুরু হলে এবং অন্তত ২৫০ জন দক্ষ শিল্পী দিনরাত কাজ করলে সমস্ত মন্দিরের কাঠামো তৈরির জন্য অন্তত ৫ বছর সময় লাগবে বলে ভিএইচপি-র কর্মশালার সুপারভাইজার অন্নুভাই সোমপুরা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।

এই প্রসঙ্গে ভিএইচপি-র অবোধ প্রান্ত শাখার প্রধান শরোধ শর্মা বলেছেন, ‘গোটা কাজ কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, সে সম্পর্কে আমরা কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি। এই বিষয়ে রাম জন্মভূমি ন্যায়াসের সদস্যরা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন। এই মুহূর্তে দেশে শান্তি বজায় রাখা আমাদের মূল লক্ষ্য।’

এদিকে সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী দোসরা এপ্রিল রামনবমীর দিন শুরু হতে পারে মন্দির নির্মাণের কাজ। গত তিন বছর ধরে সেখানে চলছে রাম মন্দির নির্মাণের ব্লু প্রিন্ট। গুজরাতের সোমনাথ মন্দিরের নকশা বানিয়েছিলেন প্রভাশঙ্কর সোমপুরা। তাঁর পুত্র চন্দ্রকান্তকে ১৯৯০ সালে রাম মন্দির নির্মাণের দায়িত্ব দেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের তৎকালীন সভাপতি অশোক সিঙ্ঘল। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বংশানুক্রমিকভাবে মন্দির গড়ে তোলে সোমপুরা পরিবার। দেশজুড়ে শতাধিক বড় বড় মন্দির বানিয়েছেন তাঁরা। এর মধ্যে সবথেকে দামি মন্দির বানিয়েছেন চন্দ্রকান্তই। দশ কোটি টাকায় পালনপুরে অম্বা মাতার মন্দির। তবে সেই অতীতের যাবতীয় রেকর্ড ভেঙে ফেলবে রাম মন্দির। এমনটাই বলা হচ্ছে ন‌্যাসের পক্ষ থেকে। তা মাহাত্ম্যেই হোক বা সৌন্দর্যে, অথবা আর্থিক মূল‌্যে।

চন্দ্রকান্তর সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই রাজস্থানের ভরতপুরের গোলাপি রংয়ের পাথর বাছাই করা হয়েছে রাম মন্দির নির্মাণের জন‌্য। নকশা অনুযায়ী মন্দির, তৈরিতে প্রয়োজন আড়াই লাখ ঘনফুট পাথর। গত তিন দশকে অযোধ‌্যা, ভরতপুর-সহ বেশ কিছু জায়গায় সওয়া লাখ ঘনফুটের পাথর ঘষেমেজে তৈরি হয়ে রয়েছে। বলা হচ্ছে, এতেই মন্দিরের প্রথম তল তৈরি হয়ে যাবে।

মন্দিরের কাজ শেষ করার লক্ষ‌্য ২০২২ সাল। ন‌্যাসের কর্মশালায় রাখা রয়েছে প্রস্তাবিত রাম মন্দিরের একটি মডেল। সেই অনুযায়ী ২৬৮ ফুট লম্বা, ১৪০ ফুট চওড়া ও ১১২ ফুট উঁচু হবে মন্দির। গোটা মন্দিরে ২৫১টি স্তম্ভ আছে। যার মধ্যে প্রতি তলে থাকবে ১০৬টি করে। যার পরিধি চার ফুট। প্রত্যেক স্তম্ভে থাকবে ১৬টি করে মূর্তি। প্রথম তলের উচ্চতা হবে সাড়ে ১৬ ফুট, দ্বিতীয় তল সাড়ে ১৪ ফুটের। বাকি ১১০ ফুট সিঁড়ি ও গম্বুজ। গম্বুজের উচ্চতা সওয়া ৬৫ ফুট। বাকি উচ্চতায় সিঁড়ি।

মন্দিরে থাকবে পাঁচটি দ্বার। সিংহদ্বার হবে পূর্বদিকে। বাকি চারটি হল, অগ্রভাগ, নৃত‌্যমণ্ডপ, রণ্ডমণ্ডপ ও গর্ভগৃহ। মূল মন্দিরের চারদিকে থাকবে লক্ষ্ণণ, সীতা, হনুমান ও গণেশ মন্দির। এছাড়া বিজয়স্তম্ভ, লাইব্রেরি, অতিথিশালা-সহ থাকবে বিভিন্ন ভাগ। মূল মন্দিরের প্রথম তলে থাকবে ছ’ফুটের রামলালা (শিশু রাম)-এর মূর্তি। শিশু রামের যে মন্দির এখন রয়েছে রাম জন্মভূমিতে, সেই আদলেই তৈরি হবে বিগ্রহ। দ্বিতীয় তলে থাকবে সীতা, বাকি তিন ভাইয়ের সঙ্গে রামের মূর্তি, শ্রীরামের রাজদরবার ইত‌্যাদি। দেশ-বিদেশ থেকে ভক্তরা রেখে গিয়েছেন ‘শ্রীরাম’ লেখা ইট। তার সবক’টিই ব‌্যবহার হবে মন্দির নির্মাণে। আগে থেকে ঠিক করে রাখা নকশার সঙ্গে আরও একটি বিষয় ঘুরছে ন‌্যাসে। অনেকেই চাইছেন এতদিন ধরে চলা বিতর্কের পর যখন মন্দির নির্মাণের অনুমতি এসেছে, তখন শ্রীরামের একটি বিশালাকার মূর্তি তৈরি হোক। যদিও এখনই এই নিয়ে সিদ্ধান্তের অবকাশ নেই। এই সিদ্ধান্ত নেবে নতুন তৈরি ট্রাস্ট।

রাম জন্মভূমি সমন্বয় সমিতির সভাপতি আচার্য নারায়ণ মিশ্র বলছিলেন, “সব ঠিকঠাক থাকলে আশা করি আড়াই-তিন বছরের মধ্যে মন্দিরের কাজ শেষ হয়ে যাবে। তবে এসব পরে। আগে তো ট্রাস্ট তৈরি হোক। তারাই তো সব পরিকল্পনা নেবে। তবে সবারই ইচ্ছা রাম নবমীর দিন মন্দিরের কাজ শুরু হোক।”

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত