প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাউন্সিলররা আত্মগোপনে, জনভোগান্তি চরমে

সুজিৎ নন্দী : কেউ নিজে অসুস্থ, কারো মা-বাবা অসুস্থ, অনেকে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক কাজে দেশের বাইরে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রায় ৩০ কাউন্সিলরের অনুপস্থিতিকে তার অনুসারিরা জানান দিচ্ছে এভাবেই। বাস্তবে তারা পলাতক বা আত্মগোপনে আছেন। ফোনে কথা বলছেন কিন্তু কার্যালয়ে যান না। কোন কাজ ও করেন না। কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পিয়ন বা কর্মচারি উপস্থিত আছে। জানান, ‘কাউন্সিলর স্যার’ বা ভাই নেয়। সরকারের শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর থেকে এরকম চিত্র দেখা গেছে। শুধু কাউন্সিলর না এই অবস্থায় আছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ করপোরেশনের শীর্ষ ঠিকাদার, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা-উত্তর দক্ষিণের র্শীর্ষ নেতারা।

গত কয়েক দিনে মোহাম্মদপুর, কাকরাইল, পল্টন, সেগুণবাগিচা, বাড্ডা, মিরপুর, শেখেরটেক, গোড়ান এলাকায় গিয়ে এরকম চিত্র দেখা যায়।কাউন্সিলরের কার্যালয়ে নাগরিক সনদ ও ওয়ারিশ সনদ নিতে এসেছিলেন। তারা কাউকে না পেয়ে নিরাশ হয়ে ফিরে যান। অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়ছেন তারা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে আছে মোহাম্মদপুর এলাকার মানুষ। ৩২ ও ৩৩ নম্বর কাউন্সিলর গ্রেফতার অনুপস্থিত আর ৩১ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম ওরফে সেন্টু দীর্ঘদিন পলাতক। তার ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে হত্যা, গুম, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এলাকাবাসী জানায়, শুদ্ধি অভিযান’ শুরু হলেও সেন্টুর এলাকায় আগের মতোই চলছে। সেগুণবাগিচা, কার্যালয়ে সচিব ও কর্মচারীদের কেউ নেই।

স্থানীয় ব্যক্তিরা বলছেন, কাউন্সিলর যদি অসুস্থ হয়ে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যান, তাহলে অন্য কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। আর যদি তিনি আত্মগোপনে থাকেন, তাহলে নাগরিকদের ভোগান্তি এড়াতে করপোরেশনের উচিত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া।

ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকায় কারণ জানতে চেয়ে আমরা করপোরেশন থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠির জবাবে বেশির ভাগ জানিয়েছেন, অসুস্থতাজনিত কারণে দেশের বাইরে আছেন।যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত, তাই এই এলাকায় করপোরেশনের একজন মহিলা প্যানেল মেয়রকে দায়িত্ব দেওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে করপোরেশনের একটি সূত্র জানান।

দক্ষিণে ঠিকাদারি, টেন্ডার ও দখলবাজিতে শীর্ষে থাকা যুবলীগ কেন্দ্রীয় নেতা ও ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ রতন অফিসে বসেন না। ফোন ধরেন। জানান, বাড়িতে আছি। বাড়িতে গেল দারোয়ান জানায় ভাই বাসায় নেই। রাজধানীর ‘দ্বিতীয় সম্রাট’ রতন এখানো এভাবেই আছেন।পাশাপাশি ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদ হোসেন (মহসিন), ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম হোসেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশ্রাফুজ্জামান, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোস্তফা জামান পপি, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জসীম উদ্দিন আহমেদ, ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারিকুল ইসলাম সজীব, ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার পারভেজ বাদল, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ হাসান (পিলু), ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিল্লাহ শাহ, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আউয়াল হোসেন, ৪০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মকবুল ইসলাম খান টিপু, ৫২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ নাছিম মিয়া। কার্যালয়ে পাওয়া যাচ্ছে না।

৪ নভেম্বর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নুরুল ইসলামকে ৩২ ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত দুইদিন তাকেও পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ফোনে জানান, দিনে ব্যস্থতার কারণে অফিসে না বসলেও রাতে অফিস করি।

ডিএনসিসির কাউন্সিলরদের মধ্যে অনুপস্থিত বর্তমানে ভাটারা এলাকার ত্রাস ৪০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিসিলর নজরুল ইসলাম ঢালি, ২৬ নম্বর কাউন্সিলর শামীম হাসান, ৩০ নম্বর কাউন্সিলর আবুল হাসেম হাসু, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের নজরুল ইসলাম ঢালি, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড জাহাঙ্গীর আলমকে এলাকায় পাওয়া যায় না।

সর্বাধিক পঠিত