প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কুলাউড়ার শরীফপুর সীমান্তে বিজিবির ওপর হামলার ঘটনায় মামলা এলাকায় আতঙ্ক

স্বপন দেব, মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর সীমান্তের ইটারঘাট বাজারে হামলা চালিয়ে এক চোরাকারবারীকে ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ করে বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) রাতে থানায় মামলা করেছে বিজিবি।মামলার পর থেকে এলাকায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে।এছাড়া বিজিবির উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

মামলার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় এলাকার চিহ্নিত চোরাকারবারী লোকমান আলী (৪০) কে চারজন বিজিবি সদস্য ধরে ক্যাম্পে নিয়ে যাচ্ছিলো।এসময় ইটারঘাট বাজারের কিছু লোক অতর্কিত বিজিবি সদস্যদের উপর হামলা চালিয়ে তাদের আহত করে ধৃত চোরাকারবারী লোকমান আলীকে ছিনিয়ে নেয়। এ হামলায় ৪ জন বিজিবি সদস্য আহত হোন।

বৃহস্পতিবার সকালে শ্রীমঙ্গলস্থ ৪৬ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল হক ও সিলেটস্থ ৪৮ ব্যাটলিয়নের উপ অধিনায়ক মেজর নাজমুল সাকিব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সরেজমিনে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, কয়েকদিন আগে বিজিবির গোয়েন্দা বিভাগের এক সদস্যের সাথে চোরকারবারীদের সমস্যা হয়েছিলো। এজন্য বুধবার সন্ধ্যার পর চোরাকারবারীদের ধরতে এসে নিরীহ ব্যবসায়ী লোকমান আলীকে (৪০) ধরে নিয়ে যায়। নেয়ার সময় লোকমান আলী ও বিজিবি সদস্যদের মাঝে ধস্তাধস্তিতে লোকমান আলীর পরনের লুঙ্গি খোলে বিবস্ত্র হওয়ায় বাজারে থাকা লোকজন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়।
ফলে বিজিবি সদস্য ও গ্রামবাসীর মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে ঘটনার সময় মুক্তিযোদ্ধা সোহাগ মিয়া (৭৫), আব্দুল কাইয়ুম (৪০), চা শ্রমিক রামচন্দ্র ভর (৩০) সহ কমপক্ষে ১০জন গ্রামবাসী আহত হয়।

এলাকাবাসী আরও জানান, মামলায় বিজিবি কাদেরকে আসামি করেছে।বিষয়টি না জানায় হয়রানির ভয়ে নিরীহ মানুষ গ্রেপ্তার আতঙ্কে রয়েছেন।

শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুনাব আলী জানান, বিজিবির তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে জোর অনুরোধ করা হয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। কোনভাবেই যাতে নিরীহ লোক হয়রানির শিকার না হয়। এলাকায় গ্রেপ্তার আতঙ্কের কথা স্বীকার করেন তিনি।

কুলাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় চক্রবর্তী বিজিবির করা মামলার সত্যতা নিশ্চিত করলেও তদন্তের স্বার্থে এই মুহুর্তে কোন আসামির নাম প্রকাশ করেননি। তিনি জানান, চাতলাপুর আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিজিবি সিলেট সেক্টরের ৪৮ ব্যাটেলিয়নের উপ অধিনায়ক মেজর নাজমুল সাকিব জানান, গ্রামবাসী যে ঘটনা ঘটিয়েছে তা ঠিক নয়। অপরাধী গ্রেপ্তারের সময় গ্রামবাসীর সহযোগীতা করা উচিত ছিলো। গ্রামবাসীর বক্তব্য অনুযায়ী বিবস্ত্র অবস্থায় বিজিবি লোকমান মিয়াকে নিয়ে আসে সেটাও উচিত হয়নি। সম্পাদনা: জেরিন মাশফিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত