প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাবরি মসজিদের স্থানের মালিক ‘রামলালা বিরাজমান’

রাশিদ রিয়াজ : ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের তিন বিচারপতি বেঞ্চ রায় দেয় যে স্থানে বাবরি মসজিদ ছিল সেই বিতর্কিত জমির যৌথ মালিক রামলালা বিরাজমান, নির্মোহী আখড়া এবং সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড। বলা হয়, এই তিনজনের মধ্যে জমি ভাগাভাগি করে দেওয়া হবে সমান ভাবে। ২০১১ সালের মে মাসে, ভারতের শীর্ষ আদালত এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় স্থগিতাদেশ দেয়। তার আগে সুপ্রিম কোর্টে এই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করেছিল হিন্দু ও মুসলমান দুই পক্ষই।

ভগবান রামলালা বিরাজমান রাম জন্মভূমি বাবরি মসজিদ মামলার একটি পক্ষ। তার মালিকানা দেয়া হয়েছে ‘রামলালা বিরাজমান’ বা হিন্দুদের ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের শিশুরূপের বিগ্রহকে। যার অর্থ সেখানে রামমন্দিরই তৈরি হবে।অযোধ্যার বিতর্কিত জমির পুরোটাই দাবি করার সঙ্গে সঙ্গে ভগবান রামলালা বিরাজমান সংলগ্ন জমির পুরোটাই দাবি করেছেন, যা ২৯৯৩ সাল থেকে কেন্দ্র অধিগ্রহণ করে রেখেছে। রামলালা বিরাজমান ওই বিতর্কিত জায়গায় যখন সুবিশাল রাম মন্দির তৈরি হবে, তখন ভক্তকুলের সুবিধার জন্য ওই জমি নিজেদের দখলে চায়। নির্মোহী আখড়া – রামের অনুগামী একটি হিন্দু গোষ্ঠী যারা ব্রহ্মচর্য পালন করে। ১৯৫৯ সালে তারা বিতর্কিত কাঠামোর স্বত্ব দাবি করে মামলা দায়ের করে।

এদিকে উত্তর প্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড- ১৯৮৯ সালে রামলালা বিরাজমান এই স্থানের একমাত্র দাবিদার বলে উদয় হওয়ার আগে পর্যন্ত নির্মোহী আখড়া এবং সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড এই সম্পত্তির মূল দাবিদার বলে ধরা হত।

ঐকমত্যের ভিত্তিতে অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে প্রথমেই জানালেন, মামলার অন্যতম পক্ষ শিয়া ওয়াকফ বোর্ডের কোনও দাবিই জন্মায় না ওই বিতর্কিত জমির উপরে। পরে জানানো হয়, আর এক মামলাকারী নির্মোহী আখড়ার দাবিও খারিজ করে দেওয়া হচ্ছে। অতএব আইনি লড়াই পড়ে রইল রামলালা বিরাজমান এবং সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের। সে লড়াইয়ে বিতর্কিত জমির অধিকার পেলেন রামলালা বিরাজমান। এর পেছনে আদালত যুক্তি দেখাচ্ছে আইন শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বহাল রাখার প্রশ্নের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আবার ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে ফেলা বেআইনী ছিল সুপ্রিম কোর্ট তাও বলেছে। সরকার অযোধ্যাতেই কোনো ভাল জায়গায় ৫ একর জায়গা দেবে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড এমন কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি যে ১৮৫৭ সালের পূর্বে বিতর্কিত জমিটি তাদের দখলে পুরোপুরি ছিল। মোঘল সাম্রাজ্যের পতনেরও আগে হিন্দু পুন্যার্থীরা বিতর্কিত জায়গার বাইরে পূজা অর্চনা করতেন তার প্রমাণ মিলেছে। ওই স্থানকে হিন্দুরা ভগবান রামের জন্মস্থান হিসেবে বিশ্বাস করেন তা নিয়েও কোনো সংশয় নেই।

এর আগে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতে বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিজেপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতেই উগ্র কট্টরপন্থী বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা অযোধ্যার ওই বিতর্কিত জমির ওপর অবস্থিত বাবরি মসজিদের স্থাপনাটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। হিন্দু করসেবকরা বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে দেয়, তাদের উদ্দেশ্য ছিল ওই জায়গায় একটি অস্থায়ী মন্দির তৈরি করা। এ ঘটনার জেরে স্বাধীন ভারতের বৃহত্তম দাঙ্গা হয়, যার জেরে নিহত হন ৩০০০ এর বেশি মানুষ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত