প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে খুলনা-মোংলায় টানা বৃষ্টিপাত

শরীফা খাতুন, খুলনা : গভীর নিম্নচাপ থেকে শক্তিশালী হয়ে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। এর প্রভাবে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ৯ ও কক্সবাজার ৪ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শনিবার সকাল পৌনে ৯টায় আবহাওয়া অধিদফতর এতথ্য জানিয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা খুলনায় একটানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে।শুক্রবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত শনিবার সকাল ১১টায় অব্যাহত রয়েছে।এদিকে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল থেকে সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে খুলনা জেলা সদরসহ ৯ উপজেলায় ১০টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সুন্দরবনের দুবলার আলোরকোলের রাসমেলাও।

অপরদিকে, কৃষকরা ক্ষেতে আধাপাকা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। জমির সব ধান এখনও পাকেনি।এ কারণে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে।বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নৌযানগুলোকে সাগরে চলাচল না করে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দ্দার বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় ইতোমধ্যে ৩৪৯টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবনগুলো আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য খুলে রাখা হয়েছে।উপজেলা প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিদের কাছে দুর্যোগকালীন করণীয় সম্পর্কে ইতোমধ্যে বার্তা পৌঁছানো হয়েছে এবং খুলনায় একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষও খোলা হয়েছে (নম্বর ০৪১-২৮৩০০৫১)। জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত মেডিকেল টিম।রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কয়েকশ স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নদী তীরবর্তী শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের পাকা ভবনগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে।

স্থানীয় জেলেদেরকে নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত ও চরে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে আসার জন্য বলা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা কয়রা-পাইকগাছা-দাকোপ-বটিয়াঘাটায় সবাইকে নিরাপদে থাকার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত খুলনার সকল ট্যুর অপারেটরদের সুন্দরবনের রাসমেলার উদ্দেশে নৌযান না ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বুলবুল আঘাত আনলে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও বরগুনাসহ উপকূলীয় জনপদে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতার জন্য খুলনা নৌঘাঁটি তিতুমীরে পাঁচটি জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে সাগর ও সংলগ্ন সুন্দরবনের নদ-নদী খুবই উত্তাল রয়েছে। মোংলা বন্দরসহ সুন্দরবন উপকূলের আশপাশের এলাকায় হালকা থেকে মাঝারী বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া বইয়ে যাচ্ছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফকর উদ্দিন জানান, মোংলা সমুদ্রবন্দরে বিশেষ সতর্কতা জারী করা হয়েছে। বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে খোলা হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি কেন্দ্রীয়সহ দুইটি কন্ট্রোল রুম। সম্পাদনা: জেরিন মাশফিক

সর্বাধিক পঠিত