প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্বাধীনতা বালকের জন্য নয়, বিপথে গেলে বিশ্ববিদালয়ে টাকা বন্ধ, বললেন প্রধানমন্ত্রী

আবুল বাশার নূরু: শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় শ্রমিক লীগের ১২ তম ত্রি-বার্ষিক কেন্দ্রীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, উস্কানি দিয়ে ও মুখরোচক কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিপথে নেওয়া মেনে নেওয়া হবে না। আর তাদের যদি এসব করতে হয় তাহলে অর্থ নিজেদেরকেই জোগান দিতে হবে। নইলে সরকার সব টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেবে। কথায় বলে স্বাধীনতা ভাল তবে তা বালকের জন্য নয়, এটাও মাথায় রাখতে হবে। অর্থ সরকার দেবে। সব রকম উন্নয়ন প্রকল্প সরকার করবে। সেটা নিতে খুব ভাল লাগবে। আর সরকার সেখানে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না। এটা কখনও হতে পারে না।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি মনে করি পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে আমাদের ছেলেমেয়েররা উচ্চ শিক্ষা পায়, পৃথিবীর আর কোনো দেশে এতো অল্প খরচে তা দেওয়া হয়না। সেখানে স্বায়ত্বশাসন আছে একথা সত্যি। কিন্তু টাকা দিচ্ছে কারা? টাকা তো সরকার দিচ্ছে। সরকারের দেওয়া টাকা ইউজিসিতে যায়, সেখান থেকে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া হয়। সেখানে সমস্ত শিক্ষকদের বেতন, ভাতা যা কিছু তারা পাচ্ছেন। একজন শিক্ষার্থী ইউনিভার্সিটিতে কয় টাকা খরচ করে বা মাসে বড়জোর দেড়শ টাকা খরচ করে। কিন্তু এই টাকায় কি উচ্চ শিক্ষা হয়! যদি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যান, কত লক্ষ টাকা লাগে প্রতি সেমিস্টারে? আর আমাদের পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে কত লাগে? সে টাকা কে জোগান দেয়? জোগান দেয় সরকার। প্রায় দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা খরচ হয়, এক একজন ছাত্রের পিছনে। আর ইঞ্জিনিয়ারিং বা মেডিকেল কিংবা কারিগরিতে আরও বেশী টাকা খরচ হয়। সব টাকা তো সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে ডিসিপ্লিন থাকবে, উপযুক্ত শিক্ষা পাবে। এবং নিজেদের জীবনকে গড়ে তুলবে। সেটাই আমরা চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন যে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নাকি আমরা বুঝি না? যারা কথা বলছেন তারাই কেবল বোঝেন আর বোঝেন যারা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেন তারা। আর পড়াশোনা নষ্ট করে সেখানে স্টাইক করে দিনের পর দিন কর্মঘন্টা নষ্ট করবেন, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় ব্যাহত করবেন, তারা বোঝেন আর বুঝব না আমরা। এটা তো হয় না।

শেখ হাসিনা বলেন, এই ধরণের বালকসুলভ কথাবার্তা না বলাই ভাল বরং ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করবে। তাদের লেখাপড়া শিক্ষার সময় যেন নষ্ট না হয়। উপযুক্ত সময়ে তারা ভাল রেজাল্ট করবে এবং তারা জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলবে। সেটাই আমরা চাই। কাজেই উস্কানি দিয়ে ছাত্রদেরকে বিপথে নেওয়া আর এখানে মুখরোচক কথা বলা, এটা কখনো কেউ মেনে নিতে পারে না। আর তা যদি করতে হয় তাহলে নিজেদের অর্থ নিজেরা জোগান দিতে হবে। নিজেদের বেতন নিজেরা নিতে হবে। নিজেদের খরচ নিজেরা চালাবে, সরকার সব টাকা বন্ধ করে দেবে। কারণ স্বায়ত্বশায়িত প্রতিষ্ঠান, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, পাবলিক দেবে, সরকার কেন খরচ করবে। সরকার কেন খরচ করবে তাহলে সেটাও তাদের চিন্তা করতে হবে, কোনটা করবে? প্রধানমন্ত্রী অভিযোগের সুরে বলেন, আমি এইজন্য বললাম, ইদানিং দেখছি, কোনো কথা নাই বার্তা নাই, ব্যবস্থা নেওয়া হওয়ার পরও কয়েকজন মিলে অহেতুক অভিযোগ তুলছে। আমাদের আইন আছে কেউ যদি কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনে, আর সেটা যদি প্রমাণিত না হয় তাহলে যে অভিযোগকারী ওই আইনে তার বিচার হয়, সাজা হয়। এটা কিন্তু আইনে আছে। কাজেই যারা কথা বলছেন, তারা আইনগুলি ভালভাবে দেখে নেবেন, সেটাই আমরা বলব। কারণ আমরাও তো ইউনিভার্সিটির ছাত্রী ছিলাম, পড়াশোনা করেই আসছি। এটাও তাদের ভুলে গেলে চলবে না।

সর্বাধিক পঠিত