প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নেত্রকোনার দুর্গাপুর বাসিন্দাদের মধ্যে ভূমিকম্প ও পাহাড়ি ঢলের আতঙ্ক বিরাজমান

শাহীন খন্দকার : নেত্রকোণা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার সেলিকা বালি কয়লা নুরিপাথর সমৃদ্ধ জনপদ গারো পাহড়ের পাদদেশ। যে কোনো সময়ে ভূমিকম্প বা ভারি বর্ষণে ভারতীয় পাহাড়ী ঢলে দুর্গাপুর শহরসহ দক্ষিণে বিরিশিরি ইউনিয়ন ও উত্তরের ইউনিয়ন যে কোনো সময়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে! জনশ্রুতি রয়েছে ভূমিকম্পে সূসং রাজাদের শাসনামলে সুসং রাজবাড়িসহ এঅঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

দুর্গাপুরের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব দূর্গা প্রসাদ তেওয়ারী জানান, বাংলায় ১৩০৪ ও ইংরেজি ১৮৯৪ সালের ভূমিকম্পে সুসং রাজবাড়ী সম্পর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। দুর্গাপুরের বিশাল অংশে ফাটল ধরে খালের সৃষ্টি করে। রাজবাড়ীর পিছনের অংশ বিলীন হয়ে যায়। ১৯৫০ সালে সুসংয়ের জমিদার প্রথার সমাপ্তি ঘটলে রাজাদের বংশধর কলকাতায় চলে যান। সর্বশেষ রাজা মহারাজ ভুপেন্দ্র-চন্দ্র সিংহ শর্মা চলে যাওয়ার পরে সমস্ত ভূ-সম্পদ সরকারের অধীনে চলে যায়।

চন্দ্র গোপাল শুক্ল জানান, ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত এঅঞ্চলে রাজাদের আদেশ অনুযায়ী পাকা বাড়ি ঘর নির্মাণ হয়নি। তিনি বলেন, ব্রিটিশ শাসনামলে দুর্গাপুরে যে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিলো, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে আর হয়নি! জনশ্রুতি রয়েছে বালিকান্দির আবু মোড়লের বাড়িতে সুনামগঞ্জের জমিদার তোতা মিঞার আগমন উপলক্ষে পাকা বাড়ীর করার অনুমতির জন্য সুসংয়ের মহারাজের নিকট গেলে, তিনি কাঠের দোতলা বাড়ি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কারণ, ব্রিটিশ সরকারের নির্দেশে এঅঞ্চলে বিল্ডিংয়ের পরিবর্তে কাঠের ঘর নির্মাণ ছাড়া কোনো রকম ইট-পাথরের বিল্ডিং তৈরি নিষেধ ছিলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রবীণরা জানান, দুর্গাপুর তৈরি প্রাকৃতিক সম্পদ সমৃদ্ধ বলেই এলাকার মানুষের মধ্যে সর্বত্র আতঙ্ক কাজ করছে। সোমেশ্বরী নদীর ভাঙ্গনে শিবগঞ্জ, দুর্গাপুর, বিরিশিরি বিজয়পুর, কুল্লাগড়াসহ বিভিন্ন এলাকা প্রতিবছরই বিলীন হচ্ছে। এছাড়া, বিজয়পুর-শিবগঞ্জ সড়কটির বেশিরভাগই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সোমেশ্বরী নদী ভাঙ্গণ অব্যাহত থাকলে এবং পাহাড়ি ঢলসহ বড় ধরণের ভূকম্পণ হলে যে কোনো সময়ে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে দুর্গাপুর শহরসহ ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা ।

ইতিমধ্যে নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে হাট-বাজার, ফসলীজমিসহ বসতবাড়ি এবং সড়ক। ভাঙ্নের ফলে ছোট হয়ে আসছে দুর্গাপুরের পরিধি। এদিকে নদী তীরবর্তী মানুষেরা ভাঙ্নের মুখে নি:স্ব হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে রাতারাতি কোটিপতি হচ্ছে একটি বিশেষ মহল সরকারি দলের ছত্রছায়ায় থেকে ।
যুবলীগ সভাপতি আব্দুল হান্নান বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন, দূর্গাপুর শহর রক্ষাবাঁধসহ নদী খননের জন্য। সরকারে অঙ্গীকার তৃণমূলের উন্নয়ন, সেই ধারাবাহিকতায় শহর রক্ষাবাঁধ, বাইপাস সড়ক আগামী অর্থ বছরের মধ্যেই একনেকের মাধ্যমে কাজ দ্রুতগতিতে করা হবে। সেই সঙ্গে শিবগঞ্জ বিরিশিরি সোমেশরীর নদীর ওপর ব্রিজসহ জারিয়া হতে বিজয়পুর পর্যন্ত রেললাইন সংযোগ রাস্তার কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন। সম্পাদনা : রেজাউল আহ্সান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত