প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতে তিন দিনে ৫৭ হাজার বিএসএনএল কর্মীর স্বেচ্ছাবসর

রাশিদ রিয়াজ : বুধবার ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিএসএনএল কর্মীদের জন্য স্বেচ্ছাবসর প্রকল্প ঘোষণা করা হয়। বিএসএনএলের যে সমস্ত কর্মীর বয়স ৫০ বছর বা তার বেশি তাঁরা স্বেচ্ছাবসরের জন্য ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি যে সমস্ত কর্মচারীর বয়স ৫০ বছর বা তার বেশি হবে, তাঁরাও স্বেচ্ছাবসরের জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। বিএসএনএলের পাশাপাশি এমটিএনএলের জন্যও একই প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

বিগত তিন দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (বিএসএনএল)-এর ৫৭ হাজার কর্মী স্বেচ্ছাবসর (ভিআরএস)-এর জন্য আবেদন করেছেন। আর এক সংস্থা এমটিএনএলকে এই হিসেবে আনলে, মিলিত ভাবে ৬০ হাজারেরও বেশি কর্মী ভিআরএস চেয়ে আর্জি জানিয়েছেন। শুক্রবার এ খবর জানিয়েছেন টেলিকম সচিব অংশু প্রকাশ। বুধবার ভিআরএস প্রকল্পের নোটিশ জারি হয়। তার পর থেকেই আবেদনকারীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। শুক্রবার বেলা পর্যন্ত বিএসএনএলে ভিআরএস আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৪০ হাজার। সন্ধ্যার মধ্যেই একলাফে হয়ে যায় ৫৭ হাজার।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, স্বেচ্ছাবসর নিলেও কর্মীরা সংস্থার কর্মী আবাসনে বসবাস করতে পারবেন। বাড়িতে টেলিফোন সংযোগ, অবসরকালীন চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না।

বিএসএনএলের কোনও কর্মী স্বেচ্ছাবসরের জন্য আবেদন করলে তিনি এককালীন (এক্স-গ্রাশিয়া) যে অর্থ পাবেন, তা তাঁর অবশিষ্ট চাকরিজীবনের মূল বেতন ও মহার্ঘ ভাতার থেকে বেশি হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এক্স-গ্রাশিয়া হিসাবে কর্মীরা প্রতি বছর ৩৫ দিন হিসাবে যত বছর চাকরি করেছেন, তার মাইনে এবং প্রতি বছর ২৫ দিন হিসাবে অবশিষ্ট চাকরিজীবনের মাইনে পাবেন। দেখা গিয়েছে, এই স্বেচ্ছাবসর প্রকল্পটি ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সি কর্মীদের জন্য বেশি লাভজনক।

এককালীন অর্থ ছাড়াও গ্র্যাচুইটি এবং পেনশনের টাকাও পাবেন স্বেচ্ছাবসরের আবেদনকারী কর্মীরা। কর্মীর বয়স ৫৫ বছর বা তার কম হলে তিনি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গ্র্যাচুইটির টাকা পাবেন। বয়স ৫৫ বছরের বেশি হলে তাঁর ৬০ বছর বয়স হওয়ার এক মাসের মধ্যে গ্র্যাচুইটির টাকা পাবেন বলে বিএসএনএল জানিয়েছে। স্বেচ্ছাবসরের জন্য আবেদন করা কর্মী, আধিকারিকের পেনশন ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারির পর থেকেই চালু হয়ে যাবে। কিন্তু, ওই পেনশনের পরিমাণ বর্তমান বেতনের ১২৫ শতাংশের বেশি হবে না।

বিএসএনএলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মনে করেন, টলিকমিউনিকেশন মন্ত্রকের নির্দেশে জারি করা স্বেচ্ছাবসরের এই প্রকল্পটি বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মীদের জন্য শ্রেষ্ঠ। কর্মীদের ইতিবাচক হিসেবে এটি দেখা উচিত। তবে, কর্মী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাবসরের এই প্রকল্পটি একেবারেই আকর্ষণীয় বলে মনে করছেন না। স্বেচ্ছাবসর প্রকল্পে আদৌ সাড়া পড়বে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। এইসময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত