প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জিপিএস বন্ধ হলে স্থবির হবে সভ্যতার গতি

মাজহারুল ইসলাম : জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম ব্যবহার করা যায় এমন ডিভাইস আমাদের অবস্থান নিশ্চিত করে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে এটা যদি কাজ না করে তাহলে গাড়ী চালকদের রাস্তায় থাকা সাইনগুলোর নর্ভির করতে হবে। কমবে চলার গতি। ট্রেনে যাতায়াতের এমন সুবিধা না থাকলে ইনফরমেশন বোর্ডে পরবর্তী ট্রেন আসার সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে কোনো তথ্যই পাওয়া যাবে না। বিবিসিবাংলা,ইনকিলাব
ট্যাক্সির জন্য এখন একটি ফোনই যথেষ্ট। উবার,পাঠাওসহ এরকম অন্যান্য অ্যাপ তার প্রমাণ। জিপিএস ছাড়া অনেক জরুরি সেবা চালানো কঠিন হবে। যেমন, ফোন কে করেছেন তার অবস্থান নির্ণয় করা যাবে না। নিকটবর্তী অ্যাম্বুলেন্স বা পুলিশের গাড়ীর হদিস পাওয়া যাবে না। কারখানাগুলোও স্থবির হয়ে যেতে পারে কারণ তাদের ইনপুট সময়মতো আসবে না। কৃষিকাজ, নির্মাণকাজ, মাছ ধরা কিংবা জরিপ কাজে ৫টি খাতে যুক্তরাজ্য সরকারের রিপোর্ট অনুযায়ী ৫ দিন জিপিএস না থাকার সময় ক্ষতি প্রায় এক বিলিয়ন ডলার। ২৪টি স্যাটেলাইটের সমন্বয়ে করা একটি পদ্ধতির নাম জিপিএস। এগুলোর সঙ্গে ঘড়ির সময় মেলানো বা সিনক্রোনাইজ করা।

স্মার্ট ফোনে জিপিএস ব্যবহার করে নিজের অবস্থান ম্যাপে খুঁজে বের করা যায়। এটা হয় একটি স্যাটেলাইট থেকে সিগন্যাল গ্রহণ করে এবং সিগন্যাল পাঠানোর সময়ের ভিত্তিতে হিসেব করে। পৃথিবী যে দ্রুতই এগিয়ে যাচ্ছে, তার একটি প্রমাণ হয়তো বিজ্ঞানের নিত্য-নতুন আবিষ্কার। স্যাটেলাইটের ঘড়িতে একটি এক মুহূর্তের হেরফের হয় তাহলে আপনি হয়তো আপনাকেই দুই/তিনশ কিলোমিটার দুরে হারিয়ে ফেলবেন। তাই আপনি যদি সময়ের ভিত্তিতে সঠিক তথ্য চান তাহলে জিপিএসই আসলে সেই জায়গা।

এক সেকেন্ডের এক লাখ ভাগের এক ভাগের হেরফেরেও ঘটাতে পারে বড় বিপত্তি। ব্যাংক পেমেন্ট, স্টক মার্কেট, বিদ্যুতের গ্রিড, ডিজিটাল টেলিভিশন, সবই নির্ভর করে বিভিন্ন জায়গায় সময়ের ওপর। জিপিএস এগুলোতে কাজ করতে ব্যর্থ হলে এর পরিণতি কতটা ব্যাপক হবে তা আসলে এখন কেউ ধারণাও করতে পারে না। জিপিএসকে এখন বলা হয় অদৃশ্য সেবা। এর ডলার মূল্য নিরুপণ অসম্ভব। এ ব্যাপারে লেখক গ্রেগ মিলনার বলেছেন, কিভাবে জিপিএস বিশ্বকে পরিবর্তন করলো, মানুষের শরীরের রেসপিরেটরি সিস্টেমের জন্য অক্সিজেন যতটা মূল্যবান, বিশ্বের জন্য জিপিএস তেমনই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনী প্রথমে এর সমর্থন দিয়েছিলো কারণ এটা বোমা হামলা চালাতে সহায়তা করে। এমনকি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি নিশ্চিত হতে এটা সহায়তা করে। প্রথম জিপিএস স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হয় ১৯৭৮ সালে যদিও ১৯৯০ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের আগে সন্দেহযুক্ত ছিলো না। অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম যেখানে চালানো হয়েছিলো যেখানে ১৬ ফুট দুরেও তেমন দেখা যেতো না। জিপিএস ব্যবহার করেই সৈন্যরা মাইন স্থাপনের জায়গা, পানির উৎস খোঁজা এবং একে অন্যের পথে বাধা না হওয়ার কাজ করেছিলো। তাইতো সৈন্যরা তাদের পরিবারকে নিজের পয়সা খরচ করে ডিভাইস কিনতে বলেছিলো। প্রশ্ন হচ্ছে সামরিক কারণে জিপিএস গুরুত্বপূর্ণ হলেও যুক্তরাষ্ট্র কেন অন্যদের এটি ব্যবহারের সুবিধা দিতে রাজী হলো। বাস্তবতা হচ্ছে, তাদের আসলে কিছু করার ছিলো না। তারা স্যাটেলাইটের দুটি সিগন্যাল পেতে চেয়েছিলো। একটি তাদের নিজেদের ব্যবহারের জন্য, আর অন্যটি কম সক্ষমতার সিভিলিয়ানদের জন্য। কিন্তু কোম্পানিগুলো পরেরটিতেই দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তোলে।
২০০০ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন হাই গ্রেড সিগন্যালকে অন্যদের জন্য সহজলভ্য করেন। বস্তুতপক্ষে জিপিএস একমাত্র গ্লোবাল নেভিগ্যাশনাল স্যাটেলাইট সিস্টেম নয়। রাশিয়ারও এ ধরনের একটি পদ্ধতি আছে যার নাম গ্লোনাস। যদিও এটা খুব একটা ভালো মানের নয়। চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও নিজস্ব প্রকল্প আছে। জাপান এবং ভারত এগুলো নিয়ে কাজ করছে।

এসব বিকল্প স্যাটেলাইট জিপিএসের সমস্যা নিরসনে সহায়তা করতে পারে। তবে এটি সামরিক সংঘাতও বাড়াতে পারে। এমনকি কল্পনা করতে পারেন একটি স্পেস ওয়ারের। স্যাটেলাইট পরিচালনায় ভূমিভিত্তিক বিকল্পও আছে। এর প্রধানটির নাম ইলোরান। কিন্তু এটি সারা বিশ্বে কাজ করে না। তবে মানুষ চায় এগুলোর উদ্বেগজনক কাজে ব্যবহার কীভাবে কমানো যায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত