প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জঙ্গি সংগঠন আল্লাহর দল নিষিদ্ধের কারণ অনুসন্ধানে ডয়চে ভেলে, উঠে এসেছে নতুন তথ্য

মঈন মোশাররফ : বাংলাদেশে আরো একটি জঙ্গি সংগঠন ‘আল্লাহর দল’কে নিষিদ্ধ করেছে সরকার৷ বড় ধরনের নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে৷ জনসাধারণের কাছে প্রায় অপরিচিত এই সংগঠন হঠাৎ করে কেনো নিষিদ্ধ করা হলো, তা জানতে গিয়ে জানা গেছে বেশ কিছু নতুন তথ্য৷ ডয়চে ভেলে

আগস্টে রাজধানীর হাতিরঝিল এবং দক্ষিনখান এলাকা থেকে আল্লাহর দলের ভারপ্রাপ্ত আমির ইব্রাহিম আহমেদ হিরোসহ ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় বিস্তারিত তথ্য৷

জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে যুক্ত র‌্যাবের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার ডয়চে ভেলেকে জানান, সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে ১৯৯৫ সালে৷ পরে তারা জেএমবির সঙ্গে একীভূত হয়ে যায়৷

নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক ওই কর্মকর্তা জানান, জেএমবি দুর্বল হয়ে পড়ায় আল্লাহর দল আবার নতুন করে নিজেরাই সংগঠিত করার চেষ্টা করে৷ মতিন মেহেদি গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত আমির ইব্রাহিম আহমেদ হিরো মূল দায়িত্বে ছিলেন৷ দলে অধিনায়ক হিসেবে পরিচিত ইব্রাহিম৷

আইনশৃ্ঙ্খলা বাহিনীর কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ধীরে ধীরে নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করছিলো ‘আল্লাহর দল’৷ সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা কত তা র‌্যাব এখনও নিশ্চিত হতে না পারলেও অন্য জঙ্গি সংগঠনের চেয়ে এটি বেশ ভালো অবস্থানে আছে বলেই ধারণা তাদের৷ রিক্রুটমেন্টের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের টার্গেট করছিলো ‘আল্লাহর দল৷ ট্রেইনড বাহিনী গড়ার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের দলে ভেড়ানোর ছিলো নতুন কৌশল৷

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, দেশে তাদের অর্থের উৎস আমরা জানতে পেরেছি৷ তবে বিদেশ থেকে তারা অর্থ পায় কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি৷ তাদের কতগুলো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের খোঁজ পাওয়া গেছে৷ তাদের ফান্ড বেশ বড়৷

এ প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুর রশীদ বলেন, জঙ্গিরা তাদের পৃষ্ঠপোষকদের নির্দেশনা অনুযায়ী পক্ষ পরিবর্তন বা নতুন গ্রুপে যোগ দিয়ে কাজ করে৷ আল্লাহর দলের ব্যাপারে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাতে তাই প্রতীয়মান হয়৷ তারা প্রথমে স্বাধীনভাবে আত্মপ্রকাশ করলেও পরে জেএমবির সঙ্গে কাজ করে৷ জেএমবি দুর্বল হওয়ার পর এখন তারা আবার আলাদাভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে৷ এটা তাদের আরেকটি কৌশল।

তিনি বলেন, জঙ্গিদের আরেকটি কৌশল হলো যখন কোনো একটি গ্রুপ পরিচিত হয়ে যায়, চাপের মুখে পড়ে, তখন তারা নতুন নামে অথবা নতুন কৌশলে কাজ করে৷ তাই নতুন নতুন জঙ্গি গ্রুপের নাম আমরা জানতে পারি৷ তাদের নিষিদ্ধ করলেই তো তারা আর শেষ হয়ে যায় না৷ তারা নানাভাবে তাদের তৎপরতা চালাতে চেষ্টা করে৷

সর্বাধিক পঠিত