প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজির কাছে নয়, অব্যয়িত টাকা প্রকল্পের হিসাব খাতেই ছিলো

আনিস তপন : প্রতি আর্থিক বছরের বরাদ্দ বাজেটের অব্যয়িত (উদ্বৃত্ত) টাকা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের হিসাব খাতেই ছিল। সরকারি বরাদ্দের এই টাকা কোনো অবস্থাতেই ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে থাকে না।
অথচ কিছু গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে ‘ধরা খেয়ে প্রকল্পের টাকা ফেরত দিলেন ইফা মহাপরিচালক।’ যা কোনো ক্রমেই সঠিক তথ্য নয় বলে দাবি করলেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা।

জানা গেছে, দেশের ৬৪ জেলার সব উপজেলা/ইউনিয়নে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেনি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইসলামি শিক্ষা দেয়ার লক্ষে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। ইসলামিক ফাউ-েশনের (ইফা) মাধ্যমে পরিচালিত এই প্রকল্প শুরু হয় ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে। দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা বাজেটের ৫ বছর মেয়াদি এই প্রকল্প শেষ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে।

এ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের সব উপজেলা/ইউনিয়নে প্রায় ৭৩ হাজার ৭৬৮ জন শিক্ষকের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ের কোমলমতি শিশুদের ইসলাম বিষয়ক শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের আওতায় শিক্ষকদের শিক্ষাদান পর্ব নিয়মিত হচ্ছে কিনা বা শিক্ষকরা সঠিক সময়ে শিক্ষালয়ে (মক্তব/মসজিদ) উপস্থিত হচ্ছে কিনা তা মনিটরিংয়ের জন্য দুই হাজার ৫০ জন কেয়ারটেকার নিয়োগ দেয়া হয়। এসব শিক্ষক ও কেয়ারটেকারদের সম্মানী ভিত্তিতে প্রকল্পের আওতায় নিয়োগ দেয়া হয়। পাশাপাশি এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক রয়েছন প্রায় দুই হাজার। মূলত এসব শিক্ষক এবং কেয়ারটেকারদের সম্মানী পরিশোধের জন্যই এই প্রকল্পের টাকা ব্যয় করা হয়।

এ বিষয়ে ইফার মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল কোনো মন্তব্য না করে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। ডিজির ৭৩ কোটি টাকা ফেরত প্রসঙ্গে প্রকল্পের সহকারী পরিচালক আহসান হাবিব জানান, এখানে মহাপরিচালকের টাকা ফেরত দেয়ার কোনো বিষয় নেই। কারণ টাকা প্রকল্পের, আর এই প্রকল্পের টাকা ব্যয় করার একমাত্র ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেন প্রকল্প পরিচালক। তিনি সরকারি কোষাগারে প্রকল্পের অব্যয়িত টাকা জমা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, প্রকল্প শুরু থেকেই কিছু কিছু টাকা অব্যয়িত বা উদ্বৃত্ত ছিল। নিয়ম অনুযায়ী অর্থ বছর শেষে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ থেকে অব্যয়িত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা (ফেরত) দিতে হয়। এক্ষত্রে তা করা হয়নি। কেন করা হয়নি জানতে চাইলে সহকারী পরিচালক বলেন, সাধারণত প্রতি অর্থ বছরে প্রকল্পের ব্যয় নির্বাহের জন্য নির্দিষ্ট একটা বরাদ্দ দেয় সরকার। এটা বছরে ৪ বার অর্থাৎ অর্থবছরের শুরুতে সেপ্টেম্বরে একবার এবং এরপর ধারাবাহিকভাবে ডিসেম্বর, মার্চ ও জুনে ছাড় দেয় সরকার। তবে অনেক ক্ষেত্রে এই টাকা সময়মতো ছাড় হয় না। যেহেতু এই প্রকল্পের ৯০ শতাংশ টাকা শিক্ষকদের সম্মানীতে ব্যয় হয় তাই সম্মানীর জন্য যাতে শিক্ষকদের কোনো অসুবিধা না হয় এবং এ কারণে যাতে শিশুদের শিক্ষাদানে যাতে কোনো প্রভাব না পড়ে তাই অর্থবছরের শেষে এই উদ্বৃত্ত/অব্যয়িত টাকা সরকরি কোষাগারে জমা না দিয়ে প্রকল্পের নিজস্ব হিসাব খাতেই জমা রাখা হতো। পরবর্তী সময়ে কোনো মাসে যদি প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ পেতে দেরিও হতো তাতে শিক্ষকদের সম্মানী পরিশোধে কোনো সমস্যা হতো না। কারণ আগের বছরের অব্যয়িত অর্থ থেকে শিক্ষকদের সম্মানী পরিশোধ করে তাদের মাসিক সম্মানীর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়েছে।

কিন্তু তারপরও এটা নিয়মের বাইরে হওয়ায় অডিট আপত্তি হয়। আর যেহেতু প্রকল্পেরও এখন শেষ সময় তাই প্রকল্পের শুরু থেকে অব্যয়িত যত টাকা শিক্ষকদের সম্মানী নিয়মিতকরণের লক্ষ্যে প্রকল্পেরই হিসাবখাতে সংরক্ষণ করা হয়েছে তা এখন ফেরত দেয়া হচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ৭৩ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট আরো কিছু অর্থ পাওনা থাকলে তা ফেরত দেয়া হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে সরকারি নিরীক্ষক দল ইফার বিষয়ে ১৩৪টি অডিট আপত্তি দিয়েছে এবং প্রকল্পের বিষয়ে ১২ থেকে ১৪ টি বিষয়ে আপত্তি দিয়েছে বলেও এসময় জানান প্রকল্পের অপর এক শীর্ষ কর্মকর্তা। সম্পাদনা : রমাপ্রসাদ বাবু

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত