প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গাজীপুরের কালীগঞ্জ এএইচ মেমোরিয়াল হাসপাতালের ম্যানেজার, মঈন উদ্দীন খানের ছোট ভাই নাসির বললেন, আমার বড় ভাই নিজ হাতে কষ্ট করে উপার্জন করতে শিখিয়েছেন আমাদের,অসৎ পথ কী তা আমরা চিনি না

শেখ মিরাজুল ইসলাম : চট্টগ্রাম – ৮ আসনের সংসদ সদস্য মঈন উদ্দীন খান বাদলের পরিবারের সাথে আমার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ২০০৭ সাল থেকে। তখন কর্মসূত্রে পটিয়ার চন্দনাইশে বিজিসি ট্রাস্ট মেডিক্যাল কলেজে উপ-পরিচালক হিসেবে কাজ করছিলাম। বয়সে নবীন ছিলাম, কিন্তু আমার অধীনে সকল গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ নিয়ে আমাকে বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাতে হতো। আমার এডমিন টিমে সবচেয়ে বয়োজ্যোষ্ঠ ছিলেন নাসিরউদ্দীন খান সাহেব। পরিচয়ের পর কখনো তিনি নিজ থেকে বলেননি যে তিনি জনপ্রিয় জাসদ নেতা মঈন উদ্দীন খান বাদলের আপন ভ্রাতা। কথা প্রসঙ্গে জানলাম যখন, দেখলাম নাসির সাহেব কোনোভাবেই তার পারিবারিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে বাড়তি সুবিধা বা প্রভাব দেখাতে অভ্যস্ত নন। কাজের ক্ষেত্রে তার দক্ষতা থাকলেও মাঝে মাঝে ভুলোমনের জন্য আমার স্বভাবসুলভ ‘বুলিং’ (বকা-ঝকা) তিনি মেনে নিতেন। সেই সময় ২০০৯ সালের দিকে নাসির সাহেব বোয়ালখালীতে তাদের পৈত্রিক ভিটায় আমাকে নিমন্ত্রণ করেছিলেন। আমি গিয়েছিলাম মূলত বীর মুক্তিযাদ্ধা বাদল ভাইয়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে।

এরপর বিজিসি ছেড়ে ২০১১ সালে নতুন কর্মস্থলে চলে আসি। আমি চলে আসার পর নাসির সাহেব এবং কাজের সূত্রে আমার এডমিনের ঘনিষ্ঠ স্টাফরা প্রতিনিয়ত আমাকে বিরক্ত করতে থাকলেন। কারণ তাদেরও আমার সাথে নিয়ে যেতে। আমি বোঝালাম নতুন জায়গায় তাদের সবাইকে সংযুক্ত করা আমার জন্য সম্ভব নয় নানা কারণে। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ বছর একসাথে কাজ করার সুবাদে আমি জানতাম তাদের আদ্যোপান্ত। অবশেষে ঢাকায় নতুন হাসপাতাল হিসেবে কালীগঞ্জে এএইচএমএইচএল প্রতিষ্ঠা করার সময় আমি পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে কাজের সুবিধার্থে নাসির সাহেবসহ আরও কয়েকজন পুরনো স্টাফকে রিক্রুট করলাম। আবার ২০১৪ থেকে নাসির সাহেব এই হাসপাতালের ম্যানেজার হিসেবে আমার সঙ্গে আছেন।

কথাগুলো এজন্য বললাম, এর মাঝে একজন ব্যতিক্রমী মঈন উদ্দীন খান বাদলের পরিচয় বের হয়ে আসে। ইচ্ছে করলে তিনি তার ছোট ভাইটিকে নানাবিধ ব্যবসা বাণিজ্যিক সুবিধা দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন। বৃদ্ধ বয়সে জীবিকার কারণে নাসির সাহেবকে চট্টগ্রামে স্ত্রী-কন্যা ফেলে এতোদূর সাধারণ মানের সকাল-বিকাল চাকরিটা হয়তো করতে হতো না। মাঝে মাঝে আমি জিজ্ঞাসা করতাম, আপনার ভাই রুলিং পার্টির এমপি, প্রধানমন্ত্রীর গুডবুকে আছেন, কেন আপনারা পয়সাওয়ালা হতে পারেননি? কেন এখানে পড়ে আছেন এই বয়সে? নাসির সাহেবের এককথা, আমার বড় ভাই আমাদের নিজ হাতে কষ্ট করে উপার্জন করতে শিখিয়েছেন। অসৎ পথ কী তা আমরা চিনি না। বীর মুক্তিযোদ্ধা মঈন উদ্দীন খান বাদলের আত্মার শান্তি কামনা করছি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত