প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মালয়েশিয়ার কারাগারে আটক ১৪৬৬ বাংলাদেশি দেশে ফিরতে চায়!

শেখ সেকেন্দার আলী, মালয়েশিয়া : মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগসহ বিভিন্ন বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আটক বাংলাদেশিরা দেশে ফিরতে চায়।

মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের প্রধান দূত খাইরুল দাজামি দাউদ বুধবার মালয়েশিয়ার কুচিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মালয়েশিয়ার ১৪টি কারাগারে আটক বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ৮ হাজার ৭৭৪ জন।

যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইন্দোনেশিয়ার ৩ হাজার ১৭২জন। দ্বিতীয় অবস্থানে মায়ানমারের ১ হাজার ৯১২ জন। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশি ১ হাজার ৪৬৬ জন। বাকিরা বিভিন্ন দেশের নাগরিক।

এসময় তিনি আরো বলেন, ব্যাক ফর গুড’ এর আওতায় বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে। ইতিমধ্যেই ৭৫ হাজার ৩৪৪ জন বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা ইমিগ্রেশন অফিসে দেশ ত্যাগের জন্য নাম লিপিবদ্ধ করেছে। এর মধ্য থেকে ৫৬ হাজার ২৮৪ জন মালয়েশিয়া ত্যাগ করেছে।

মালয়েশিয়ার কারাগারে আটক অভিবাসীর আত্মীয় সফিকুল এই প্রতিবেদককে জানান, মাঝে আমি কারাগারে। এদিকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নিয়োগে একমত হলেও আবারো মালয়েশিয়া থেকে শ্রমিক নেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ যাওয়ার ঘোষণা দিলেন মালয়েশিয়া প্রতিনিধিদল।

আগামী ১৯ অথবা ২০ নভেম্বর ঢাকায় আসবেন মালয়েশিয়া প্রতিনিধিগণ। তারপর ঘোষণা হবে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার শ্রমিক নিয়োগ।

বুধবার ( ৬ নভেম্বর ) স্থানীয় সময় সকাল ১১ টায় শুরু হয় এই বৈঠক। বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। মালয়েশিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলাসেগারান।

মন্ত্রীর সাথে রয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা, অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, যুগ্ম-সচিব ফজলুল করিম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক মো: আজিজুর রহমান এবং বিএমইটির পরিচালক মো: নুরুল ইসলাম। এছাড়া, রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে প্রতিনিধিদলে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শহীদুল ইসলাম, ডেপুটি হাইকমিশনার ওয়াহেদা আহমেদ এবং কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

রুদ্ধদ্বার বৈঠকে শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডিসেম্বর মাসেই দেশটিতে কর্মী পাঠাতে আগ্রহী বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে চলতি মাসের ১১ তারিখে মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের সাথে বৈঠক করবেন দেশটির মানব সম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগারান।

জানা গেছে, কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়।
উল্লেখ্য, গেলো বছরের ১ সেপ্টেম্বর বন্ধ হয়ে যায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অনলাইন পদ্ধতি এসপিপিএ। এরপর সে সময়ের মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বি.এসসি ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়া গিয়ে বৈঠক করেও, শ্রমবাজারটি চালু করতে পারেননি।

এরপর ৩১ অক্টোবর ঢাকায় দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে নতুন করে কর্মী নেয়ার কিছু পদ্ধতি ঠিক হয়। চলতি বছরের ১৪ মে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্হান মন্ত্রী ( তখন প্রতিমন্ত্রী) ইমরান আহমদ মালয়েশিয়া সফরে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তানশ্রি মুহিউদ্দিন ইয়াসিন ও মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলাসেগারানের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকের অগ্রগতি হিসেবে ২৯ ও ৩০ মে মালয়েশিয়ায় দু’দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের আরেকটি বৈঠক হয়।

কয়েক দফা মিটিংয়ে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার একটি গ্রুপ চাচ্ছে আবার সিন্ডিকেটে ফিরে যাক মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। সম্পাদনা : জেরিন মাশফিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত