প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আরব ও বঙ্গোপসাগরে পর পর দু’বছর দুই ঘূর্ণিঝড়

রাশিদ রিয়াজ : ২৬তম ঘটনাটি ঘটার জোর সম্ভাবনা আজ, বুধবারই। আন্দামান সাগর লাগোয়া পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়েছে। সাগর দ্বীপ থেকে তার দূরত্ব ৯৫০ কিলোমিটার, পারাদ্বীপ থেকে ৮৪০ কিলোমিটার। ভারতের আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস, বুধবারের মধ্যেই দু’দফায় শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে নিম্নচাপ। তার নাম দেওয়া হবে বুলবুল। নামটি পাকিস্তানের দেওয়া।

মাত্র ক’দিন আগে জোড়া ঘূর্ণিঝড় ছিল আরব সাগরে। কিয়ার আর মহা। কিয়ার দুর্বল হতে না-হতেই, এ বার বঙ্গোপসাগরে হুঙ্কার দিতে চলেছে আরও এক ঘূর্ণিঝড়— বুলবুল। আরব সাগরে একই সময়ে দুই ঘূর্ণিঝড় এই প্রথম। অবশ্য দেশের দু’পাশের দুই সাগরে যুগপৎ ঘূর্ণিঝড় এই প্রথম নয়, বিরলও নয়, আবার নিয়মিত ঘটনাও নয়। গত ১২৮ বছরে এমনটা ঘটেছে মাত্র ২৫ বার। নভেম্বরে মাত্র ছ’বার। শেষবার হয়েছিল ১৯৭৭ সালে।

ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য অভিমুখ হবে ভারতের উড়িষ্যা, পশ্চিম বাংলা ও বাংলাদেশ উপকূল। এই পথে এগোনোর ফাঁকে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা নেবে বুলবুল। তবে ঠিক কোথায় স্থলভাগে আছড়ে পড়বে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আবহবিদদের পর্যবেক্ষণ, ঘূর্ণিঝড় পাঠ্যবইয়ের ছন্দে এগোবে না। তার মতিগতি খানিকটা হলেও গোলমেলে।

আপাতত এটুকু স্পষ্ট, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তাল হবে সমুদ্র। মাঝ-সাগরে ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটার বেগেও দমকা বাতাস বইতে পারে। শনিবার থেকে গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে মৎস্যজীবীদের। যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের ফিরতে বলা হয়েছে। বুলবুলের পরোক্ষ প্রভাবে শুক্রবার থেকেই মেঘলা হয়ে যাবে কলকাতার আকাশ। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে হাল্কা বৃষ্টির সম্ভাবনা। শনিবার বৃষ্টি বাড়তে পারে। দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরের এক-দু’জায়গায় ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। রবিবার আবহাওয়া আরও খারাপ হবে কি না, তা নির্ভর করবে ঘূর্ণিঝড়ের শেষ মুহূর্তের গতিপথের উপর। বাংলার কাছাকাছি সরে এলে দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হবে। ওডিশা বা বাংলাদেশে সরে গেলে মুক্তি।

আপাতত জোর আলোচনা দুই সাগরে একই সময়ে দুই ঘূর্ণিঝড় নিয়ে। আইপিসিসি সাম্প্রতিক রিপোর্টেও বলেছে, তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের আনাগোনা বাড়বে। ঘনঘন ঘূর্ণিঝড় উদয় হওয়া কি তার স্বাক্ষর? তাৎপর্যের বিষয়, গত বছরের অক্টোবরেই বঙ্গোপসাগরের তিতলি ও আরব সাগরের লুবনের হাত ধরে যুগপৎ ঘূর্ণিঝড়ের ঘটনা দেখেছে ভারত। তাই প্রশ্ন উঠছে, এমন ঘটনার প্রবণতা কি বাড়ছে? মৌসম ভবনের আবহবিদরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। বিষয়টিকে এক-দু’বছরের সাময়িক ধারা হিসেবেই দেখছেন তাঁরা। যেমন মৌসম ভবনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান, উপমহানির্দেশক সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘আটলান্টিক, প্রশান্ত মহাসাগর, ভারত মহাসাগর মিলিয়ে দেখলে দেখা যাবে, অনেক সময়েই একাধিক ঘূর্ণিঝড় থাকে। আরব সাগর, বঙ্গোপসাগরেও জোড়া ঘূর্ণিঝড় বিরল ঘটনা নয়। এটাও ঠিক, হামেশাই এমন হয় না। জলতলের তাপমাত্রা (২৯-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) অনুকূল। দু’টি ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে দূরত্ব অনেক, অক্ষাংশেরও ফারাক যথেষ্ট। পরস্পরের মধ্যে কোনও সংঘাত না-থাকায় একটি ঘূর্ণিঝড় থাকাকালীনই আরও একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে পারছে।’

তবে পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মেটেরোলজির জলবায়ু বিজ্ঞানী রক্সি ম্যাথু কলের মন্তব্য, ‘এই ধরনের ঘটনা চট করে দেখা যায় না। সমুদ্রের জলতলের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াতেই ভারতীয় সাগরে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের আনাগোনা বেড়েছে। আরও বাড়ার ইঙ্গিত রয়েছে।’

বুলবুলেই ২০১৯ শেষ হবে, না ‘পবন’, ‘উম্পুন’ এ বছরই আসবে, নজর সেদিকেও।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত