প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমানতকারীদের সব ধরনের সহায়তা দেবে সরকার, বললেন অর্থমন্ত্রী

সাইদ রিপন : পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেসের (পিএলএফএস) আমানতকারীদের টাকা দ্রæত ফেরত পেতে সব ধরনের সহায়তা দিবে সরকার। অবসায়ন প্রক্রিয়ায় থাকা এই প্রতিষ্ঠানটি সাথে যারাই যুক্ত আছে কাউকে ছাড় দেয়া না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে পিএলএফএসের ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল স্বাক্ষাত করেন। স্বাক্ষাত শেষে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। পিএলএফএসের পক্ষে স্বাক্ষাতকারীরা হলেন- প্রশান্ত কুমার দাস, রানা ঘোষ, সামিয়া বিনতে মাহবুব, আবু নাসের বখতিয়ার ও কামার আহমেদ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এ কোম্পানীতে অনিয়ম সংক্রান্ত কাজে কোন পরিচালক স্থায়ী থাকলে ছাড় দেয়া হবে না। সাবেক অনেকেই জেলে আছেন, বর্তমানের স্থায়ী পরিচালকরেও জেলে ভরা হবে। স্বাক্ষতে তারা, পিএলএফএস অবসায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ক্ষুদ্র ও ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয় আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফেরত দিতে ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন। সাক্ষাৎ শেষে পিএলএফএসের পক্ষে আতিকুর রহমান আতিক বলেন, পিপলস লিজিংয়ের ক্ষুদ্র আমানতকারীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ রেখে এখন তা ফেরত না পেয়ে চরম অসহায় অবস্থায় দিন পার করছে। তারা কোথায় গেলে এই টাকা ফেরত পাবে, সেটার কোনো নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় হাজারো আমানতকারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এক অনিশ্চিত জীবনযাপন করছে। এই টাকা থেকে অনেক অবসরপ্রাপ্ত মানুষের সংসারের ব্যয় নির্বাহ, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া ও চিকিৎসা খরচ চলত। এখন সব বন্ধ আছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি অসাধু চক্র সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা মাফিক আমাদের সর্বশান্ত করে দেবার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। তারা বিভিন্ন কৌশলে, নামে-বেনামে আমানতকারীদের অর্থ বাগিয়ে নিয়েছে। এখানেই তারা ক্ষ্যান্ত হয়নি। পরিকল্পনা মাফিক তারা এই প্রতিষ্ঠানটিকে অবসায়নের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। আমরা ভীত যে, এভাবে এগোতে থাকলে এই চক্র সব থেকে মুক্তি পাবে এবং বিদেশে পাচার হয়ে যাবে শত কোটি টাকা। আমাদের সব সঞ্চয় লুট করে এই লিজিংয়ের পরিচালকসহ অন্যরা আরাম-আয়েশি জীবন-যাপন করছে। বিদেশে তারা সেকেন্ড হোম বানাচ্ছে।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলে সাংবাদিকদের তিনি জানান, এখানে আমানতকারীরা লাভের আশায় বিনিয়োগ করেছিল। কিন্তু তাদের আশার গুড়ে বালি পড়েছে। তারা এখন লোকসানের সম্মুখিন হচ্ছেন। এই ধরনের কোম্পানী কিভাবে অনুমোদন পায় প্রশ্ন করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি অর্থমন্ত্রী হওয়ার আগেই এটার অবসায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে কোর্টে মামলা চলছিল। বিনিয়োগকারীরা এখন এসেছেন, এখন খোঁজখরব নেয়া হবে। ‘একনাবিন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান এদের সম্পদের মূল্যায়ন করছে। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হবে, ওই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কতদিন লাগবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত