প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে যেতে বল প্রয়োগ করা হবে না, বললেন ডা. মো. এনামুর রহমান

রনি হাসান : সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় তালিকাভুক্ত হওয়ার পর তাদের নিয়ে শীতের আগেই ভাসানচরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো। বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ভাসনচরে স্থানান্তরের উদ্যোগ আটকে গেছে বলে জানা যায়।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ী সম্মতি না দেয়ায় এই উদ্যোগ থমকে গেছে। ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য তালিকাভুক্ত হতে রোহিঙ্গাদের উপরে চাপ তৈরির অভিযোগ উঠেছেন অনেকে। নোয়াখালির ভাসান চরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের জন্য বাংলাদেশ সরকার এর পক্ষ থেকে জোর তৎপরতা শুরু করা হয়েছিল।

পরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শাহরিয়ার আলম বলেন, শীতের আগে রোহিঙ্গাদের ভাসান চরে স্থানান্তরের শুরু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ১ লক্ষ রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরের জন্য ভাসানচর সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

বর্ষা মৌসুমের আগেই সরকার রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর করতে চেয়েছিল। তবে এটি তখন সম্ভব হয়নি। এখন আবার শীতের আগে স্থানান্তরের চেষ্টা ও থেমে গেছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এবং ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, স্থানান্তরের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মতি মিলছে না। কিছু পরিবার স্বেচ্ছায় যেতে চেয়েছিলো। এর জন্যেই আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এটির উপরে নির্ভরশীল। কয়েক দফা মিটিংয়ের পরও তারা তাদের মতামত দিতে পারে নিসেখানে যাওয়ার পক্ষে। এর ফলে আমরা চূরান্ত সিন্ধান্ত নিতে পারিনি। আন্তর্জাতিক কিলিয়ারেন্সের জন্য এটি আটকে আছে।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের ৬৪০টি পরিবারের সাড়ে ৩ হাজার জন ভাসানচরে যাওয়ার জন্য সেচ্ছায় তালিকাভুক্ত হয়েছেন। এরপর তাদের নেয়ার জন্যই সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলোর সাথে বৈঠক করেছে।

কিন্তু আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সম্মতি দেয়নি। এখন এই অনিশ্চিত পরিস্থিতি নিয়ে অলোচনার জন্য ত্রাণ ও পরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় মিলে রোহিঙ্গা সম্পর্কিত জাতীয় ট্রাস্ট কমিটি নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে।

কক্সবাজারে উখিয়ার একটি ক্যাম্পের রোহিঙ্গা শরণাথীরা বলেন, ভাসানচরে যেতে হলে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের চিকিৎসা সেবা এবং শিক্ষাসহ মৌলিক অধিকারগুলো কি হবে তা আগে বিস্তারিত জানাতে হবে।

কক্সবাজার থেকে শিউশি শরমা বলেন, এখানে যাওয়ার জন্য রোহিঙ্গাদের উপর চাপ প্রয়োগ করাটা ঠিক হবে না। তারা সেচ্ছায় গেলে যাবে। মায়ানমার থেকেও তারা চাপের মুখে এদেশে এসেছে। তবে, প্রতিমন্ত্রী ড.এনামুল রহমান তাদের চাপ দেয়ার কখা অস্বীকার করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলছেন করো উপরেই কোন বল প্রয়োগ করা হবে না। যে সব রোহিঙ্গা নাগরিক আছে তাদেরকে মায়ানমার প্রর্তাবাসনে এবং ভাসানচরে যেতে বল প্রয়োগ করা যাবে না। মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১১লক্ষ রোহিঙ্গাকে যারা দুই দশকের ও বেশি ক্যাম্পে রয়েছে তাদের মধ্যে ১ লক্ষ ভাসানচরে স্থানান্তর করতে চাইছেন বাংলাদেশ সরকার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত