প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রাথমিক স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিকে স্নাতক পাস হতে হবে

তন্নীমা আক্তার : প্রাথমিক স্কুলের ১১ সদস্য বিশিষ্ট ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ করে এই কমিটি গঠনের নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সভাপতির সর্বনিম্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক এবং সদস্য পদে এসএসসি পাস হতে হবে। গুণগত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতেই ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের নীতিমালায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যায়যায়দিন

জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। গত ২৯ অক্টোবর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বৈঠকে এ নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়। নীতিমালায় সভাপতি ও রাজনৈতিক বিবেচনায় মনোনীত বিদ্যোৎসাহী সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অভিভাবক প্রতিনিধিসহ অন্য ক্যাটাগরির সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে দেশের প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলের এসএমসি গঠনে স্নাতক পাস সভাপতি পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, প্রাথমিকে এসএমসিতে শিক্ষিত ও যোগ্য লোকের প্রয়োজন। যে কারণে সভাপতির স্নাতক এবং বিদ্যেৎসাহী সদস্যদের এসএসসি পাস হতে হবে। অবশ্যই তাদের সন্তানকে স্কুলে পড়তে হবে। স্কুল নিয়ে কেউ যেন বাণিজ্য করতে না পরে সেজন্য এসএমসি গঠনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। খুব দ্রুতই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে মন্ত্রী জানান।

জানা গেছে, প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১১ সদস্য বিশিষ্ট এসএমসি গঠিত হবে। তাতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কমিটির সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপির সুপারিশে স্কুলে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্য হতে একজন বিদ্যেৎসাহী মহিলা ও একজন পুরুষ সদস্য মনোনয়ন দিবেন প্রধান শিক্ষক। তাদের অবশ্যই এসএসসি পাস হতে হবে। বিদ্যালয়ের জমিদাতা বা তাদের উত্তরাধিকারীদের মধ্য থেকে একজন সদস্য মনোনিত হবেন। জমিদাতারা নিজেরা প্রতিনিধি মনোনিত করতে না পারলে উপজেলা শিক্ষা কমিটি নির্ধারণ করে দিবেন। সংশ্লিষ্ট স্কুলের নিকটবর্তী সরকারি-বেসরকারি হাইস্কুলের একজন শিক্ষক কমিটির সদস্য মনোনিত হবেন। ওই হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক তা নির্ধারণ করবেন। স্কুলের শিক্ষকদের মধ্য হতে একজন শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ভোটে দুই জন মহিলা ও দুইজন পুরুষ সদস্য নির্বাচিত হবেন। স্কুলটি ইউনিয়ন বা পৌরসভার যে ওয়ার্ডে অবস্থিত সেখানকার ইউপি সদস্য বা কাউন্সিলর পদাধিকার বলে সদস্য মনোনিত হবেন। এই ১১ জনের ভোটে সভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচিত হবেন। একই স্কুলে টানা দুই বারের বেশি কোন ব্যক্তি সভাপতি হতে পারবেন না।

কমিটির সদস্যরা সভাপতিকে লিখিতভাবে না জানিয়ে টানা তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকলে সদস্য পদ বাতিল হবে। কমিটির মেয়াদ হবে তিন বছর। কোন কারণে নির্ধারিত সময়ে কমিটি গঠনে ব্যর্থ হলে ছয় মাসের জন্য এডহক কমিটি গঠন করতে পারবে। এডহক কমিটির সভাপতি হবেন সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা।

কমিটি প্রতি বছর মে, আগস্ট ও ডিসেম্বর মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে স্কুল ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের ওপর প্রতিবেদন উপজেলা বা থানা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দিতে হবে। কমিটির সকল সদস্যদের প্রতি মাসের শেষ কর্ম দিবসে ক্লাস শেষে অন্তত এক ঘন্টা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও সুপারিশ শুনতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা শিক্ষা কমিটির কাছে প্রতিবেদন দিতে হবে। স্কুলের উন্নয়ন পরিকল্পনা (এসএলআইপি) কমিটির সদস্যদের স্কুলের শিখন-শেখানো পরিবেশ সম্পর্কিত অবস্থা বিশ্লেষণ এবং সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে। স্থানীয় জনগনের কাছ থেকে স্কুলের উন্নয়নে তহবিল সংগ্রহ করতে হবে। স্কুলের ক্যাচমেন্ট এলাকার সকল শিশুকে স্কুলে ভর্তি ও গুনগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এসএমসিকে শিশু জরিপে সহায়তা করতে হবে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু চিহ্নিতকরণ ও ভর্তিসহ তাদের সহযোগিতা করতে হবে। তাদের চাহিদা কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। এসএমসি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা সামগ্রী ক্রয়সহ সার্বিক তদারকি পাশাপাশি স্কুলের অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কারে এসএমসি তিন লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে পারবে। তবে উপজেলা শিক্ষা কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। তবে স্থানীয়দের অনুদানের মাধ্যমে নির্মাণ কাজে এ শর্ত কার্যকর হবে না।

এসএমসির ১১ সদস্যের মধ্যে শিক্ষক ছাড়া অন্যদের পর্যায়ক্রমে চারজনকে প্রতি মাসে অন্তত ছয় দিন স্কুলের কার্যক্রম পর্যাবেক্ষণ করতে হবে। এসএমসির মাসিক সভায় উপস্থাপন করতে হবে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির শিশুদের স্কুলে ভর্তি ও নিয়মিত উপস্থিত নিশ্চিত করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করতে হবে। এসএমসি অনুমোদনের পরবর্তী তিন বছর দায়িত্ব পালন করবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাস আগে প্রধান শিক্ষক পরবর্তি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিবেন। সরকারি আদেশ অমান্য, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ, আর্থিক অনিয়ম এবং যেকোন শৃঙ্খলাপরিপন্থী কারণে এসএমসি বাতিল করে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষা কর্মকর্তা। এ প্রজ্ঞাপন জারির আগে গঠিত এসএমসি পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারবে। তবে প্রজ্ঞাপনটি পার্বত্য তিন জেলা ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। টিএ/এসবি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত