প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাঁচ মাসেই ফিকে ‘মোদি ম্যাজিক’?

ডেস্ক রিপোর্ট  : গত মে মাসে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দ্বিতীয়বার দিল্লির মসনদে বসেছেন নরেন্দ্র মোদি৷ তার জনপ্রিয়তার কাছে ম্লান লেগেছে দেশের বিরোধী শিবিরকে৷ কিন্তু, মাত্র কয়েক মাস পর দুই রাজ্যের নির্বাচনে ছবিটা অন্য রকম৷

হরিয়ানায় জোর ধাক্কা৷ মহারাষ্ট্রে কোনোমতে পাস৷ দুটি রাজ্যে সরকার গড়লেও উদ্ধব ঠাকরের বশ্যতা স্বীকার করা ছাড়া অন্য পথ নেই ভারতীয় জনতা পার্টির কাছে৷ সদ্য সমাপ্ত দুই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ডাহা ফেল করেছে প্রাক্‌নির্বাচনী এবং নির্বাচন পরবর্তী যাবতীয় সংস্থার সমীক্ষা৷ আসন সংখ্যা এবং ভোটের শতকরা হার, দুই ক্ষেত্রেই বিজেপি’র গ্রাফ নিম্নমুখী৷ হরিয়ানায় প্রাপ্ত ভোটের হারে ২২ শতাংশ কমেছে বিজেপির৷ লোকসভায় রজ্যে ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল তারা৷ স্পষ্টতই দুটি রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে জনতা৷ উধাও ‘‌মোদি ম্যাজিক’‌!‌রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, খসছে পদ্মের পাপড়ি!‌‌

এবার নির্বাচনে কাজ করেনি জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপ, পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতীয় সেনার এয়ার স্ট্রাইক এবং উগ্র জাতীয়তাবাদের বহু পুরোনো তত্ত্ব৷ উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই দুই রাজ্যের নির্বাচনে মোদির ওপর খুব একটা ভরসা না করে জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত ছিলেন দলের শীর্ষ নেতারা৷ এরপরেও যেখানে যেখানে প্রধানমন্ত্রী প্রচারে গিয়েছেন, সেখানেও ভালো ফল করেনি বিজেপি৷

ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী জানালেন, ‘সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক শ্লথগতির আঁচ পাচ্ছে৷ এই নির্বাচনে তৃণমূল স্তরের বাস্তবতা ফুটে উঠেছে৷ হাউডি মোদি‌র পরে এমন নির্বাচনী ফল বিজেপি নেতাদের রাতের ঘুম কেড়ে নেবে৷ তবে, বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করে, আরও বেশি মনোনিবেশ করলে এই নির্বাচনর ফল অন্যরকম হতে পারত৷ ‌যা হয়েছে সেটা বিজেপি‌র জন্য ধাক্কা৷ কিন্তু, ধাক্কা বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারত৷ হয়নি কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে৷ তবে, প্রমাণ হয়েছে মোদিকে সামনে রেখে লড়াই এবং মোদির নাম নিয়ে লড়াইয়ের ফল দু-‌রকম।’

আসলে হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র-‌সহ গোটা বিভিন্ন রাজ্যের উপনির্বাচনে বিজেপিতে গ্রহনযোগ্য আঞ্চলিক নেতার অভাব স্পষ্ট হয়েছে৷ উল্টোদিকে, কোনো একটি মুখের পরিবর্তে আঞ্চলিক নেতা ও সংগঠনের ওপর ভরসা রেখে কিছুটা হলেও সাফল্য পেয়েছে কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধীরা৷ গতবারের তুলনায় হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্র দুটি রাজ্যেই তুলনামূলক ভালো ফল করেছে কংগ্রেস৷ তাদের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে৷ যার ফলে বিজেপি‌র ‘‌কংগ্রেস শূন্য ভারত’‌‌গড়ার স্বপ্ন পূরণ হবে কি না তা নিয়ে সংশয়ের অবকাশ রয়েছে৷

হরিয়ানায় ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি’‌র ‘‌অবকি বার ৭৫ পার’‌ শ্লোগান৷ মহারাষ্ট্রে মোট ২৮৮টি আসনের মধ্যে গতবার বিজেপি’র ঝুলিতে ছিল ১২২টি আসন৷ এবার ১০৫টি আসন পেয়েছে তারা৷ শিবসেনা ৫৬টি৷ জোটের আশা ছিল ২০০ পার হওয়ার৷ হয়নি৷ স্বভাবতই ধাক্কা৷

ওদিকে, গোটা দেশেই দলত্যাগী নেতাদের কার্যত প্রত্যাখান করেছে জনতা৷ দুই রাজ্যের বিধানসভা নির্বানের পাশাপাশি ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত পুদুচেরি মিলিয়ে মোট ৫১টি বিধানসভা ও দু’টি লোকসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচ সম্পন্ন হয়েছে৷ সেখানেও উধাও ‘‌মোদি ম্যাজিক’‌৷ খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির খাস তালুক গুজরাটে হতাশ হতে হয়েছে বিজেপি’‌কে৷ সেখানে ছয়টি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন ছিল৷ চারটে আসনে হেরেছে বিজেপি৷ পরাজিত হয়েছেন স্থানীয় ভাষায় ‘‌দলবদলু’‌অল্পেশ ঠাকোর৷ অল্পেশের সঙ্গেই কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপি’‌র হাত ধরেছিলেন বাভাড কেন্দ্রের ধবলসিং জালা৷ তিনিও হেরেছেন৷ হতাশা এনডিএ শরিক নীতীশ কুমারের বিহারেও৷ –ডয়চে ভেলে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত