প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শীতের শুষ্কতায় ত্বকের বিশেষ যত্ন

সানমুন নিশাত: বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় শীতের সময়ে ত্বক হয়ে উঠে রুক্ষ। এই ঋতুতে ত্বক কোমল ও সুরক্ষিত রাখতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা জরুরি। শীতে ত্বক ফাটা, চুলকানি, বলিরেখা, মৃতকোষ হওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। – বিডিনিউজ২৪

আসুন জেনে নেই কিভাবে ত্বকের যত্ন নিবেন –

১) নিত্য ব্যবহার্য্য প্রসাধনীতে পরিবর্তণ আনুন: সারা বছরই ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার জরুরি। তবে গ্রীষ্মে যে ধরনের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা হয় তা শীতে উচিত নয়। কারণ এই সময় ত্বক আবহাওয়ার কারণে আরো বেশি শুষ্ক হয়ে যায়। এ জন্য প্রয়োজন হয় কিছুটা ভারী ময়েশ্চারাইজার। শিয়া বাটার, অলিভ অয়েল, বাদাম তেল ইত্যাদি এই মৌসুমে ত্বকের জন্য খুব উপযোগী।

২) হাতের যত্ন নিন: শীতে মুখের মতো হাতও ঠাণ্ডায় জমে যায়। তাই হাতের ত্বকও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাতের ত্বক তুলনামূলক পাতলা এবং তেল গ্রন্থিও কম থাকে, তাই হাতের নমনীয়তা ধরে রাখতে প্রতিবার হাত ধোয়ার পর এবং যখনই হাত শুষ্ক মনে হবে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। রাতে অলিভ অয়েল মেখে ঘুমাতে পারেন। আর অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় হাত মোজা পরা উপকারী।

৩) পানি পান: শীতে স্বাভাবিকের তুলনায় পানির পিপাসা কম পেলেও পানির চাহিদা কিন্তু কম থাকে না। শীতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় তাই বাহ্যিক যত্নের পাশাপাশি ভিতর থেকে পানির চাহিদা পূরণ করা জরুরি। তাছাড়া শরীরের সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা দরকার।

৪) পায়ের যত্ন: গোড়ালি ফাঁটা, চামড়া ওঠা বা পা শুষ্ক হয়ে যাওয়া এই শীতে বেশ স্বাভাবিক সমস্যা। তাই পায়ের জন্য ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। গ্লিসারিন ও পেট্রোলিয়াম জেলি সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার পায়ের জন্য উপযোগী। রাতে ঘুমানোর আগে অলিভ অয়েল বা পুরু করে পেট্রোলিয়াম জেলি পায়ে মেখে মোটা মোজা পরে ঘুমাতে যান। তবে পায়ের গোড়ালি ফেঁটে গেলে বিশেষ যত্ন নিতে হবে।

৫) কেমিকেল প্রসাধনী এড়িয়ে চলুন: যাদের ত্বক শুষ্ক তাদের এই মৌসুমে পিল অফ মাস্ক, অ্যালকোহল সমৃদ্ধ টোনার এবং অন্যান্য কেমিকল প্রসাধনী এড়িয়ে চলা উচিত। মুখ ধোয়ার জন্য সোপ ফ্রি ফেইসওয়াশ উপযোগী এই সময়। টোনার হিসেবে গোলাপ জল ব্যবহার করা যেতে পারে।

৬) অতিরিক্ত গরম পানিতে গোসল নয়: শীতে গরম পানি দিয়ে গোসল আরামদায়ক মনে হলেও এই অভ্যাস ত্বক ও চুলের জন্য মোটেও উপকারী নয়। অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল করার ফলে ত্বকের স্বাভাবিক তেল হারায় যার ফলে শুষ্কভাব বাড়ে। তাই শীতে কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করতে হবে।

৭) ঠোঁটের যত্ন: শীতে ঠোঁট ফাঁটা এবং চামড়া ওঠার সমস্যায় ভোগেন কম বেশি সবাই। তাই সব সময় ঠোঁটে লিপ বাম বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে রাখতে হবে। গ্লিসারিনও ঠোঁটের জন্য উপযোগী। এই মৌসুমে সব সময় সঙ্গে লিপ বাম রাখা উচিত।

৮) সানস্ক্রিন ব্যবহার: অনেকেই মনে করেন শীতে রোদের তেজ কম থাকে তাই এই সময় সানস্ক্রিন অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে এই মৌসুমেও কুয়াশার চাদর ভেদ করে আসে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি যা ত্বকের জন্য সমান ক্ষতিকর। তাই ত্বক সুরক্ষিত রাখতে এসপিএফ সমৃদ্ধ ক্রিম বা লোশন মাখতে হবে ঘর থেকে বের হওয়ার ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগে।

৯) নাকের ত্বকে যত্ন: শীতে নাক অনেক ঠাণ্ডা হয়ে যায়, এটি সহসা বোঝা যায় না। আর নাক ঠাণ্ডা হওয়ার কারণে সেখানকার চামড়া বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক সময় চামড়া ওঠার সমস্যা দেখা দেয়। তাই দরকার বাড়তি ময়েশ্চারাইজিং। এছাড়া নাক বেশি ঠাণ্ডা হয়ে গেলে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া সর্দি হওয়া এমন বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। তাই এ দিকগুলো খেয়াল রাখতে হবে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত