প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কারাগারে আটক জঙ্গিরাই বড় হুমকি, মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা, ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদন

কেএম নাহিদ : কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, এ কারণে আটক জঙ্গিদের কঠোর নজরদারিতে রাখছেন। কিন্তু যারা জামিন পায় তাদের ব্যাপারে তাদের করণীয় কিছু নেই। হলি আর্টিজান হামলার পর ব্যাপক জঙ্গিবিরোধী অভিযানে জঙ্গিদের সক্ষমতা এখন অনেকটাই কমে গেছে। এপর্যন্ত বড় ধরনের ২২টি অভিযানে একশরও বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছে। আর আটক হয়েছে এক হাজারেরও বেশি জঙ্গি। তাদের একটি অংশ এখন কারাগারে আছে। আবার কেউ কেউ জামিনেও ছাড়া পেয়েছে। তবে হলি আর্টিজান হামলার আগেও জঙ্গিরা বিভিন্ন সময় আটক হয়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমোডর (অব.) ইশফাক ইলাহী চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন,‘বাইরের জঙ্গিরা দুর্বল হয়ে পড়লেও বাংলাদেশে এই কারাবন্দি জঙ্গিরাই সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশেও দেখা গেছে কারাগার থেকেই জঙ্গিরা আরো প্রশিক্ষিত হয়ে বের হয়। নিহত আবুবকর আল-বাগদাদিও শুরুতে বড় জঙ্গি ছিল না। সে কারাগার থেকেই বড় জঙ্গি হয়ে ওঠে। আমাদের এখানে কারাগারে জঙ্গিদের জন্য আলাদা কোনো সেল নেই। থাকলেও দুই একজনের জন্য আছে। তারা কারাগারে নিজেদের মধ্যে কথা বলতে পারছে। মিশতে পারছে। এর ফলে তারা সেখান থেকেই নতুন পরিকল্পনার সুযোগ পাচ্ছে। যারা জামিনে বের হচ্ছে তারাও বা কি করছে আমরা জানি।

তিনি আরো বলেন,‘কারাগারে এইসব জঙ্গিদের ডিরেডিক্যালাইজেশনের কোনো উদ্যোগ নেই। আমার সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে সম্প্রতি আইজি প্রিজনের কথা হয়েছে। তিনিও বলেছেন এটা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ এজন্য সরকারের দেয়া কোনো ফান্ড নেই। তাই যারা কারাগারে আছে এবং যার জামিনে বের হচ্ছে তারাই এখন বড় হুমকি বলে মনে করেন এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক। তিনি বলেন,‘ডিরেডিক্যালাইজড না হয়ে যারা জামিনে ছাড়া পাচ্ছে তারা আরো ভয়ঙ্কর হতে পারে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এবং কাউন্টার টেররিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম মনে করেন,‘বাগদাদি নিহত হওয়ায় বাংলাদেশে জঙ্গিদের মনোবল আরো ভেঙে যাবে। হোলি আর্টিজানের পর অভিযানে তারা দুর্বল হয়ে পড়লেও শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের ঘটনার পর তারা কিছুটা উজ্জিবীত হয়েছিল। দ্বিতীয় দফা অভিযানে তাও শেষ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন,‘বাংলাদেশে জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক এখন ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে। ভার্চুয়াল জগতেও তারা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

আটক জঙ্গিদের ডিরেডিক্যালাইজেশনের ব্যাপারে কারা কতৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প বা ফান্ড নেই । তবে কারা কর্তৃপক্ষ তাদের ধর্মীয় এবং সাইকোজিক্যাল মোটিভেশনের কাজ বরছে বলে জানান তিনি।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘যারা কারাগারে আটক আছে তাদের একাংশ আমাদের হেফাজতে থাকার সময়ই ডিরেডিক্যালাইজড হয়েছে। আর যারা জামিনে ছাড়া পায় তাদেরও আমরা নজরদারীতে রাখি। কারাগারে এখনো রেডিক্যালাইজড যারা আছে তাদেরকে আমরা বড় ধরনের থ্রেট মনে করছিনা। তবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কারা সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কারাগারে ৫৭৭ জন জঙ্গি আটক ছিলো। কিন্তু এখন আছে ৪৭০ জন। বাকিরা এরই মধ্যে জামিন পেয়েছে। জানা গেছে আটক জঙ্গিদের মধ্যে যারা দুধর্ষ তারা আছে গাজীপুর কারাগারে । বাকিরা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে আছে।

দেশের কারাগারগুলোতে এখন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ ( জেএমবি), নব্য জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি), আনসার আল ইসলাম, হিযবুত তাহরির, হিযবুত তাওহীদ ও হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশসহ আরো কিছু জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা আটক আছে। তাদের মধ্যে কমপক্ষে ৫০ জনকে দুধর্ষ জঙ্গি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত আইজি প্রিজন কর্নেল আকবর হোসেন জানান,‘দুধর্ষ জঙ্গিদের গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে রাখা হয়েছে। আটক সব জঙ্গিদের ব্যাপারেই আমাদের কঠোর নজরদারি আছে। তারা যাতে অন্য বন্দিদের সাথে মিশতে না পারে। নামাজে ইমমাতি করতে না পারে সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া আছে। তাদের সাথে যারা দেখা করতে আসেন তাদের ব্যাপারেও আমরা নজরদারি করি। তবে যেসব জঙ্গি জামিনে বের হয়ে যায় তারা কি করে তা আমরা জানি না। সম্পাদনা: রাশিদ রিয়াজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত