প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আজ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের চিরপ্রস্থানের দিন, তিনি বাংলাদেশের পাশে সবসময় ছিলেন

দেবদুলাল মুন্না: বাংলা ভাষার জনপ্রিয় লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ২০১২ সালের আজকের দিনে মারা যান। তার জন্ম অধুনা বাংলাদেশের ফরিদপুরে। মাত্র চার বছর বয়সে তিনি কলকাতায় বাবা মা’র সাথে চলে যান। সেকারণেই হয়তো সুনীলের টান ছিল বাংলাদেশের প্রতি। বন্ধু ছিলেন তিনি। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গের সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছিলেন। ভারতে বাংলাদেশি শরনার্থীদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন। তিনিই বলেছিলেন, ‘বাংলা সাহিত্যের রাজধানী কোলকাতা নয়, ঢাকাই হবে।’ হাসান আজিজুল হক বলেন, ‘ সুনীল আমার বন্ধু ছিল। সে দেশবিভাগের পর পরিবারের সাথে জন্মস্থান ছেড়ে ভারতে স্থায়ী হয়েছিল। আমি ভারত থেকে বাংলাদেশে এসে স্থায়ী হই। আমরা বুঝতাম জন্মস্থান হারানোর বেদনা কি, সুনীলকে তাই সবসময় বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলতে দেখেছি। এমনকি তিস্তার পানি বন্টন নিয়েও তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বাংলাদেশের দাবি মেনে নিতে বলেছিলেন।’

জন্মভূমির টানে বহুবার তিনি ফিরে এসেছেন বাংলাদেশে। এই আসা-যাওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের লেখক-শিল্পীদের সঙ্গেও গড়ে উঠেছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। বিশষ করে হুমায়ুন আহমেদের সাথে তার ছিল নিবিড় সম্পর্ক। গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে এসে থেকেছেন। তিনি সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৭২ ও ১৯৮৯ সালে দুই দফা আনন্দ পুরস্কার, ১৯৮৫ সালে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার, ২০১১ সালে দ্য হিন্দু লিটারেরি পুরস্কারসহ জীবনভার বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন। জীবিকার জন্য সুনীল পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন সাংবাদিকতা। ভারতের সর্বাধিক পঠিত বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। দায়িত্ব পালন করেছেন ভারতের জাতীয় সাহিত্য প্রতিষ্ঠান সাহিত্য আকাদেমি ও পশ্চিমবঙ্গ শিশুকিশোর আকাদেমির সভাপতি হিসেবেও।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার বরেণ্য এই কথা সাহিত্যিককে ২০০২ সালে সাম্মানিক পদ ‘কলকাতার শেরিফ’ হিসাবে নিয়োগ দেয়। দুই শতাধিক বইয়ের রচয়িতা সুনীল ১৯৬৭ সালে বিয়ে করেন স্বাতী বন্দোপাধ্যায়কে। তাদের একমাত্র সন্তান সৌভিক গঙ্গোপাধ্যায়। বসবাস করছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সুনীলের বিখ্যাত উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে , সেইসময়, পূর্বপশিচম, একা ও কয়েকজন, ভালোবাসা প্রেম নয় পাঠক সমাদৃত। নীরা সিরিজের কবিতাগুলো পাফক সমাদৃত। তার ‘কেউ কথা রাখেনি’ ‘নিখিলেশ তুই একবার এসে দেখে যা আমি কিরকমভাবে বেঁচে আছি’ এখনও অনেকের মুখে উচ্চারিত হয়।

সর্বাধিক পঠিত