প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শরণখোলায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত: প্র্রতিবাদে দুই গ্রামের মানুষের মানবপ্রাচীর, প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি

আবু নাঈম, শরণখোলা : প্রায় ৪০০একর ফসলি জমি এবং দুই শতাধিক বসতবাড়ি অরক্ষিত রেখে বেড়িবাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাগেরহাটের শরণখোলার সাউথখালী ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত দুই গ্রামের বাসিন্দারা।

নদী শাসন অন্তর্ভূক্তকরণ দাবি আদায় কমিটির ব্যানারে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রতিবাদী মানবপ্রাচীর গড়ে তুলে উপজেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা। স্মারকলিপিতে নতুন বাঁধ নির্মাণের জন্য সঠিকভাবে সীমানা নির্ধারণ ও নদী শাসনের দাবি জানানো হয়েছে।

ভূক্তভোগীরা জানান, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিইআইপি) মাধ্যমে ৩৫/১ পোল্ডারে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

ওই পোল্ডারের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ হচ্ছে বগী ও দক্ষিণ সাউথখালী এলাকা। বলেশ্বর নদের প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে প্রতিনিয়ত ভাঙছে সেখানকার ফসলী জমি, বাড়িঘর। নদীভাঙনে বহু পরিবার ইতিমধ্যে নিঃস্ব হয়ে গেছে। কিন্তু সেই ঝুঁকিপূর্ণ অংশে নদী শাসন না করেই বার বার বাঁধ স্থানান্তর করায় ফসলী জমি ও বসত ভিটা হারাতে হচ্ছে তাদের।

দাবি আদায় কমিটির সমন্বয়ক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রিয়াদুল পঞ্চায়েত জানান, সম্প্রতি সিইআইপি প্রকল্পের কতিপয় ব্যক্তি নতুন বাঁধ নির্মানের জন্য অনিয়কান্ত্রিকভাবে স্থান নির্ধারণ করায় মানুষের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের ওই সীমানা দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে তাতে প্রায় ৪০০ একর ফসলী জমি ও দুই শতাধিক বসতবাড়ি বাঁধের বাইরে অরক্ষিত হয়ে পড়বে। এভাবে বাঁধ নির্মাণ হলে এক-দুই বছরের মধ্যেই বলেশ্বর নদীতে সবকিছু বিলিন হয়ে যাবে।

সহায়-সম্বল হারিয়ে পথে বসতে হবে তাদের। তাই সরকারের কাছে দ্রুত সীমানা পরিবর্তন ও নদী শাসন করে নতুন বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তিনি। এব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহীন বলেন, বুধবার এলাকা পরিদর্শন করে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সম্পাদনা: জেরিন মাশফিক

সর্বাধিক পঠিত