প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে আজ থেকে মনিটরিং কমিটির অ্যাকশন

মাজহারুল ইসলাম  : বাংলাদেশ ফুড সেফটি অথরিটি বা বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খাদ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সম্প্রতি রাজধানীর বেশ কিছু হোটেলকে মানভেদে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে। তারপরই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তা অগ্রাহ্য করে ওইসব হোটেলকে জরিমানার আওতায় আনে। এরপর এ নিয়ে দুই সংস্থার মধ্যে সৃষ্টি হয় এক ধরনের টানাপড়েন। আমাদেরসময়

জানা যায়, এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্যকর্তৃপক্ষ। শিগগির এটি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই), ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো হবে। দেশে খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, গুদামজাতকরণ, বিতরণ, বিপণন কিংবা খাদ্য আমদানি প্রক্রিয়ায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্য পর্যবেক্ষণ ও পরিবিলক্ষণকরণে প্রতিষ্ঠিত খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার একমাত্র ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান।

এ সংস্থাটির সঙ্গে আরও বেশ কিছু সংস্থা কাজ করলেও সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সমন্বয় নেই।  এতে অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যা নিয়ে রীতিমতো বিরক্ত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। অন্য সংস্থাগুলো নির্দেশনা বা গাইডলাইন মেনে না চললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বা নির্দেশনা মানতে বাধ্য করবে, এমন ক্ষমতাও নেই এই কর্তৃপক্ষের।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা সারওয়ার জাহান বলেন, আমাদের নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট নেই। জনবলও সীমিত। তার পরও কাজ চলছে অবিরাম। ১০৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। বিএফএসএ ও বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় মানোত্তীর্ণ না হওয়া পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার ও জব্দকরণ, আমসহ ফল পাকানো ও সংরক্ষণে ক্ষতিকর রাসায়নিকের অপব্যবহার রোধ এবং নিরাপদ পাস্তুরিত তরল দুধের মান বজায় রাখা ও তা রক্ষায় বাজার, আড়ৎ, দোকান ও বিক্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনপূর্বক মনিটরিং করতে ৩টি বাজার মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি সারা বছরই তৎপর থাকবে। আজ বুধবার থেকে এসব মনিটরিং কমিটির অ্যাকশন শুরু হবে।

আরও জানা যায়, ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর নিরাপদ খাদ্য আইন পাস হয়। এর অধীনে ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি গঠন হয় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এর বাইরে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ও বিএসটিআই সহায়তা দিয়ে থাকে। তবে এসব সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। সংস্থাগুলো যে যার নিজের মতো কাজ করে। এ সমন্বয়হীনতার কারণে খাদ্যে ভেজাল রোধ ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের কার্যক্রমে গতি আসছে না।

এ ব্যাপারে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের একজন আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের হাত-পা বাঁধা। আমাদের পরামর্শ অন্য সংস্থা শোনে না। আবার তারা যেসব পরামর্শ দেন, সেগুলো কার্যকরের ক্ষমতা আমাদের নেই। এর জন্য তাকিয়ে থাকতে হয় অন্য মন্ত্রণালয় বা সংস্থার ওপর। কিন্তু তারাও নানা অজুহাতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট পরামর্শ মানতে চায় না। তিনি আরও বলেন, অন্য দেশে নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর সবার ওপরে থাকে। আর আমাদের কারও না কারও আওতায় থাকতে হয়। এভাবে কাজ করা সম্ভব নয়। অবশ্যই স্বাধীনতা দরকার। অবকাঠামোগত ও লোকবলের স্বল্পতাও ভোগাচ্ছে সংস্থাকে। নিজস্ব গবেষণাগার নেই। কর্মচারী-কর্মকর্তা যে কয়জন আছেন, তাদের পক্ষে এত বড় একটি খাতে তদারকি করা কঠিন। আমরা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করলেও খোদ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরাই আমাদের সাহায্য করছে না। অথচ ব্যর্থতার সব দায় নিতে হয় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে। তিনি আরও বলেন, মাছ ও মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো হচ্ছে। এ খাত নিয়ে যারা কাজ করবে, তারা কিন্তু আমাদের অধীনে নয়। আমরা পর্যাপ্ত সভা করেছি এসব বিষয় নিয়ে। বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছি। কিন্তু কৃষি মন্ত্রণালয় কিংবা সংশ্লিষ্টরা তা মানছেন না। এভাবে চলতে থাকলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ থেকে ফলপ্রসূ কিছু আশা করা কঠিন। আমাদের লোকবল আর ক্ষমতা দিতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগারও প্রয়োজন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত