প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ওয়ার্কার্স পার্টিতে অস্থিরতা

ডেস্ক রিপোর্ট : ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের ক্যাসিনো কারবার থেকে ভাগ পাওয়ার অভিযোগ ও নির্বাচন নিয়ে তার বক্তব্যের জন্য পার্টিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, পলিটব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিকসহ হাতেগোনা কয়েকজন নেতা ছাড়া বাদবাকি সবাই মেননের প্রতি প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। দৈনিক আমাদের সময়

ক্ষোভ থেকেই গতকাল মঙ্গলবার ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে পলিটব্যুরোর সদস্য বিমল বিশ্বাস পার্টি ত্যাগ করেছেন। চিঠি দিয়ে তিনি দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

সূত্রমতে, দল ত্যাগ করার তালিকায় আছেন পলিটব্যুরো মেম্বার নুরুল হাসান ও ইকবাল কবির জাহিদসহ কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের অসংখ্য নেতা। কেন্দ্রীয় কমিটির মূল রাজনৈতিক-সাংগঠনিক দলিলের বাইরে গত শনিবার ভিন্নমত দিয়েছেন পলিটব্যুরোর সদস্য নুরুল হাসান ও ইকবাল কবির জাহিদ।

ফলে এখনই ঘোষণা না দিলেও তারা পার্টিতে থাকবেন কিনা এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা দেখা দিয়েছে। জল্পনা রয়েছে পলিটব্যুরোর সদস্য মনোজ সাহা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র নেতা জ্যোতিশঙ্কর ঝন্টুকে নিয়েও। এ ছাড়া জেলায় জেলায় প্রতিনিয়ত ক্ষোভ বাড়ছে। ফলে তৃণমূলের অনেক নেতাও দল ছাড়তে পারেন বলে খবর রয়েছে।

নুরুল হাসান ও ইকবাল কবির রাজনৈতিক-সাংগঠনিক দলিলের বাইরে ভিন্নমত দিয়ে বলেছেন, ‘দেশ আজ গভীর সংকটে। পার্টিও ঠিক আজ অস্তিত্বের সংকটে নিমজ্জিত। এমনি এক সংকটজনক পরিস্থিতিতে আমরা ১০ম পার্টি কংগ্রেসে মিলিত হচ্ছি। পার্টি ৬ষ্ঠ কংগ্রেসে মতাদর্শিক শূন্যতার গভীরতা নির্ণয় করেছিল। বলা হয়েছিল মতাদর্শিক শূন্যতার এ দুর্বলতা কাটিয়ে উঠা না গেলে এই শূন্যতা পূরণ করবে অন্য মতাদর্শ। তাই মতাদর্শিক শূন্যতা নিরসনে উদ্যোগ নিতে হবে। ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম কংগ্রেসে বাম ও দক্ষিণপন্থি বিচ্যুতির সুনির্দিষ্ট বহিঃপ্রকাশগুলো চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে মতাদর্শিক সংগ্রাম করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সে কাজটি একেবারেই অবহেলিত ও গুরুত্বহীন থেকেছে। ফলে মতাদর্শিক শূন্যতার স্থান বুর্জোয়া, পেটি বুর্জোয়া মতাদর্শ পূরণ করেছে; আধিপত্য বিস্তার করেছে। যার ফলে পার্টিকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করা হয়েছে।’

ষাটের দশকের ডাকসু ভিপি হয়ে শিক্ষানীতিবিরোধী আন্দোলনসহ স্বাধিকার-স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন রাশেদ খান মেনন। ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে বিভিন্ন সময়ে বের হয়ে যাওয়া নেতাদের ভাষ্য, বাম রাজনীতি নানা দিকে বাঁক নিলেও অমল সেন ও রাশেদ খান মেননের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ইতিহাসের কারণে তারা ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত ওয়ার্কার্স পার্টিতে যুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু পার্টি গঠনের দুই-তিন বছরের মধ্যেই তিনি দ্বিমত অগ্রাহ্য করা শুরু করেন। ফলে দল থেকে চলে যাওয়ার পর্ব শুরু হয়।

পার্টির দুই পলিটব্যুরো সদস্য আমাদের সময়কে বলেন, পার্টির নীতি-নৈতিকতা থেকে সরে এসে ক্ষমতাসীন দলের পদলেহন শুরু হয়েছে বেশ ক’বছর আগে থেকেই। বর্তমানে ক্যাসিনোর কর্মকা-ের মতো অভিযোগও উঠছে পার্টির সভাপতির নামে। এটা আমাদের মতো বাম রাজনীতিকের জন্য লজ্জার। তাই ভাবছি এবার হয় তারা বদলাবেন, না হয় আমরা দূরে সরে যাব।

১৯৯৫ সালে প্রথমবার ভাঙে পার্টি। তখন টিপু বিশ্বাস, আবদুল মতিন মুনীরের নেতৃত্বে একটা অংশ জাতীয় গণফ্রন্ট নামে আলাদা পার্টি গড়ে। ২০০৪ সালে পলিটব্যুরো সদস্য সাইফুল হকের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। ২০০৮ সালে পলিটব্যুরো সদস্য হায়দার আকবর খান রনোসহ কয়েক নেতা অন্য দলে যোগ দেন।

দল থেকে চলে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে বিমল বিশ্বাস আমাদের সময়কে বলেন, আমি মনে করি, ওয়ার্কার্স পার্টি মার্কস-লেনিনের আদর্শের কথা বললেও বাস্তবে তার নীতি-কৌশল-সংগঠন এবং তাদের কর্মকাণ্ডের তার প্রতিফলন নেই। পার্টির নেতাদের আদর্শগত-রাজনৈতিক-সাংগঠনিক বিচ্যুতির কারণে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ প্রত্যাহার করেছি।

বিমল বিশ্বাসের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে মেনন বলেন, তিনি একটা চিঠি আমাদের দিয়েছেন, আগামী ২৬-২৭ তারিখ আমাদের জাতীয় কমিটির বৈঠক আছে। আমাদের পার্টির নিয়ম অনুযায়ী এর সিদ্ধান্ত বৈঠকেই হবে, বৈঠক ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তের কথা বলতে পারব না।

দলে দ্বিমতের জায়গা না থাকায় অনেকেই দল থেকে চলে যাচ্ছেন-এ প্রসঙ্গে মেনন আমাদের সময়কে বলেন, কথাটা পুরোপুরি সত্য নয়। অনেকে আলাদা দল করবেন বলে চলে গেছেন। কেউ অন্য কারণে গেছেন। কিন্তু আমাদের দলে দ্বিমতের জায়গা নেই এটি পুরোপুরি বলা যাবে না। আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকেই প্রধান্য দিই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত