প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সেই বিপ্লবের ভগ্নিপতি, চাচাতো ভাই নিখোঁজ

ডেস্ক রিপোর্ট : আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে রয়েছে পুরো ভোলা। এর মধ্যেই বোরহানউদ্দিনে যার ফেসবুক থেকে ধর্ম অবমাননার পোস্ট দেওয়া হয়, সেই বিপ্লবচন্দ্র বৈদ্য শুভর ভগ্নিপতি বিধান মজুমদার (৩৫) ও চাচাতো ভাই সগরকে (১৮) ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন লোক তুলে নিয়ে গেছে। গত সোমবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটলেও পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থল রৌদেরহাটে ডিবি পুলিশের কোনো অভিযান ছিল না। এদিকে নিষিদ্ধ থাকলেও গতকাল মঙ্গলবার।

শহরের হাটখোলা মসজিদে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ। যদিও শেষ পর্যন্ত সভাস্থলে কেউ আসেননি। ঐক্য পরিষদের নেতারা অবশ্য বলছেন, পুলিশি বাধার মুখে তাদের সভা স্থগিত করা হয়েছে।

ভোলার পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মোহাম্মদ কায়সারের ফেসবুক আইডি হ্যাকড হয়েছে। এ ঘটনায় ভোলা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এসপি। বোরহানউদ্দিনে সহিংসতার দুদিন পর আইডিটি হ্যাক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, বিপ্লবচন্দ্র শুভ নামে এক ব্যক্তির হ্যাকড হওয়া আইডি থেকেই আল্লাহ ও মহানবী (স)কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনায় গত রবিবার বোরহানউদ্দিন উপজেলা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে চারজন নিহত হন। পুলিশসহ আহত হন দেড় শতাধিক। তাই এসপির আইডি হ্যাকড হওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনায়েত হোসেন।

বিপ্লবের কাকা অসীম কুমার বৈদ্য জানান, বিধান মজুমদারের দুলারহাট থানার রৌদেরহাটে ‘মা জুয়েলার্স’ নামে একটি দোকান রয়েছে। সাগরকে নিয়ে তিনি লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ গ্রামের বাড়ি থেকে সোমবার সকালে সেই দোকানে যান। রাতে ৭-৮ জনের একদল যুবক দোকানে এসে ডিবি পরিচয়ে তাদের ডেকে নিয়ে যায়। পরে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তাদের খোঁজ মিলছে না। দুলারহাট থানার ওসি মিজানুর রহমান পাটোয়ারী জানান, বিপ্লবের ভগ্নিপতি বিধান মজুমদার ও তার দোকানের কর্মচারী সাগর নিখোঁজ রয়েছেন বলে মঙ্গলবার দুপুরে এসে থানায় জিডি করেছেন বিধানের বাবা বিনয় ভূষণ মজুমদার। পুলিশ তাদের খুঁজছে। সেই সঙ্গে বেতার বার্তার মাধ্যমে দেশের সব থানায় খবর পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ওসি মিজান।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিখোঁজ দুজনের সন্ধান না মেলায় তাদের পরিবারের সদস্যরা উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। কে বা কারা তাদের তুলে নিয়ে গেছে তারা কেউই জানে না। এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় বর্তমানে বিপ্লবের বাড়িতে বোরহানউদ্দিন থানার পরিদর্শক (এসআই) সুশীল কুমারের নেতৃত্বে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সাত সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন।

এদিকে সোমবার থেকেই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভোলায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে জেলা প্রশাসন। ফলে জেলার কোথায়ও সমাবেশ কিংবা বিক্ষোভ মিছিল হয়নি। তবে ছয় দফা দাবিতে মঙ্গলবার বিকালে জেলা শহরের হাটখোলা মসজিদে সমাবেশ ডাকায় সকাল থেকেই ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। বিকালে আরও বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন হলে শেষ পর্যন্ত সমাবেশস্থলে কেউ আসেননি। তবে সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সদস্য সচিব মিজানুর রহমান বলেন, ‘পুলিশি বাধার কারণে আমাদের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। তবে পরবর্তী কর্মসূচি পালন করা হবে।’ ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মো. কায়সার জানান, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

জেলা শহরের মোড়ে মোড়ে মহড়া দিচ্ছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতেই তাদের এমন অবস্থান বলে দাবি নেতাদের। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারেফ হোসেন বলেন, ‘শহরে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের জন্য পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছেন।’

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত