প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এ বি ব্যাংকের ১৬৫ কোটি টাকার খোঁজে দুদক দুবাই যাচ্ছে

মাজহারুল ইসলাম : দেশ থেকে অর্থ পাচারের গন্তব্যগুলোর অন্যতম দুবাই। আর তাই পাচার হওয়া অর্থের সন্ধানে এবার দুবাইয়ের দিকে নজর দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর অংশ হিসেবে এবি ব্যাংকের পাচার হওয়া ১৬৫ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে এ সংস্থাটি। তা ছাড়াও বিভিন্ন সময়  সেখানে পাচার হওয়া অন্যান্য অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়াও শুরু হবে বলে জানিয়েছে দুদক। বণিকবার্তা

জানা গেছে, পাচার হওয়া এবি ব্যাংকের ১৬৫ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনতে দুবাই কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিচ্ছে দুদক। এর ধারাবাহিকতায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মাধ্যমে দুবাইয়ে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্টও (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে। এমএলএআর পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান আনোয়ার প্রধান। ভুয়া অফশোর কোম্পানিতে বিনিয়োগের নামে অর্থ পাচারের অভিযোগে ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি আটজনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করে দুদক। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এবি ব্যাংক থেকে এ অর্থ পাচার হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে এবি ব্যাংকের বৈদেশিক শাখা থেকে ১৬৫ কোটি টাকা দুবাইয়ে পাচার ও আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর এম ওয়াহিদুল হকসহ তিন আসামিকে গ্রেফতারও করা হয়। পরে তারা জামিন পান।

সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দুদকের কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন, এবি ব্যাংকের চট্টগ্রামের ওবিইউ শাখা থেকে সুইফটের মাধ্যমে দুবাইয়ের এডিসিবি ব্যাংকের চেং বাউ জেনারেল ট্রেডিং এলএলসি নামের একটি কোম্পানির হিসাবে এ অর্থ স্থানান্তর হয়েছে। হিসাবটি ছিল জনৈক আব্দুস সামাদ খানের নিয়ন্ত্রণে। পরে চেং বাউ জেনারেল ট্রেডিং এলএলসি নামীয় প্রতিষ্ঠানের হিসাব থেকে পে-অর্ডারের মাধ্যমে ২ কোটি ডলার অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু এ অর্থ কোথায়, কার নামে বা কার হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য এবি ব্যাংক বা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সরবরাহ করতে পারেনি। কিন্তু মামলা প্রমাণে এ তথ্য খুবই জরুরি। তাই দুবাই থেকে এ তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে এমএলএআর পাঠানোর জন্য কমিশনের অনুমতি চান তদন্তকারী কর্মকর্তা।

বিদেশে ভুয়া কোম্পানি খোলার পাশাপাশি আমদানি-রফতানিতে জালিয়াতির মাধ্যমেও প্রতি বছর বিপুল অর্থ পাচার হচ্ছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) সর্বশেষ হিসাব বলছে, বাংলাদেশ থেকে ২০১৫ সালে পাচার হয়েছে প্রায় ৫৯২ কোটি ডলার। ২০১৪ সালে পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ ছিলো ৮৯৭ কোটি ডলার। এরআগে ২০১৩ সালে ৯৬৬ কোটি ডলার পাচার হয়েছিলো। ২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ হিসাব করলে অংকটি দাঁড়ায় ৬ হাজার ৩১৫ কোটি ডলার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাচার হওয়া এসব অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশের গন্তব্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই। তাই সেদিকেই নজর দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

এমআই/এসবি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত