প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাম্রাজ্য হারানো ওমর ফারুক চৌধুরীর একদিন

সমীরণ রায়: যুবলীগের একমাত্র কাণ্ডারী ও সংগঠনের চেয়ারম্যান ছিলেন ওমর ফারুক চৌধুরী। তার মুখের কথাই ছিলো যুবলীগের আইন। কিন্তু রোববার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুবলীগের প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে যুবলীগ চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহত দেওয়া হয় ওমর ফারুককে। ফলে ওমর ফারুকের এতোদিনের সাম্রাজ্য নিমেষেই ভেঙে গেলো। দোর্দ- প্রতাপশালী চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে অব্যাহতি দেওয়ায় ২৩ নভেম্বর ৭ম সম্মেলনেও সভাপতিত্ব করার সুযোগটুকুও হারালেন তিনি।

সম্মেলনের প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চয়ন ইসলাম ও হারুনুর রশিদকে সদস্য সচিব করা হয়। তবে এখন আর কেউ পাশে নেই। পাশে নেই হুন্ডার মহড়া দিয়ে প্রোটকল দিতেন যেসব নেতারাও। তাই সাম্রাজ্য হারানোর পর সোমবার সারাদিনই ওমর ফারুক চৌধুরী ধানমন্ডি ৮/এ’র বাসায়ই সুয়ে-বসে কাটিয়েছেন। তিনি কোথায় বের হননি। যদিও তাকে অব্যাহতি দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বাসা প্রশাসন ঘিরে রেখেছে এমন খবর আসে। এমনকি কেউ কেউ বলছেন, তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। তবে তিনি গ্রেফতার না হলেও গৃহবন্দি রয়েছেন। এমনকি তিনি যে কোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ে যুবলীগের কার্যালয়ে গিয়েও সিনিয়র কোনো নেতাকে পাওয়া যায়নি। দুই একজন নেতাকর্মীকে পাওয়া গেলেও তারা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চয়ন ইসলামকেই খুঁজছেন। কেউ আর ওমর ফারক চৌধুরীর খোঁজ করছেন না। তারা ওমর ফারুক চৌধুরীর নামটাও মুখে আনতে চান না। সম্প্রতি যুবলীগের বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা ও টেন্ডারবাজির অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর থেকে ওমর ফারুক চৌধুরীর নামও উঠে আসে। এ অভিযানে গ্রেফতার করা হয় যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়া, যুবলীগ নেতা জি কে শামীমসহ অনেককেই। এরই আলোকে ওমর ফারুকের ব্যাংক হিসাব তলবসহ বিদেশে যাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর পর থেকেই আড়ালে চলে যান ওমর ফারুক।

কার্যালয়ে অবস্থানরত যুবলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর কাছে ওমর ফারুক চৌধুরীর অবস্থান জানতে চাইলে তারা বলেন, তিনি ধানমন্ডির বাসায়ই আছেন। তিনি যুবলীগকে একনায়কতন্ত্রে পরিণত করেছিলেন। তিনি কারো কথা শুনতেন না। তিনি যা বলতেন সেটিই ছিলো যুবলীগের জন্য আইন। কেউ কথা বলতে চাইলে পদ থেকে অব্যহতি দেওয়ার হুমকি দিতেন। এমনকি বাবা-মা তুলে গালিগালাজও করতেন। তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার পর কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিজের অনুগতদের বসিয়েছেন। ঢাকা মহানগর ও দেশব্যাপী জেলা কমিটিগুলোও হয়েছে তার পকেটের লোক দিয়ে। তিনি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অনেক নেতাকে কমিটিতে রেখেছেন। পদভেদে ১০ লাখ থেকে শুরু করে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। এমনকি ফ্রিডম পার্টি ও যুবদলের অনেকে টাকার বিনিময়ে ঠাঁই পেয়েছেন যুবলীগে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, যুবলীগকে ওমর ফারুক চৌধুরী সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেননি। সে কারণে ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনকে কালিমা বহন করতে হয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুবলীগ নেতাদের নাম আসলে নিজেই লজ্জা পাই। তবে কোনো না কোনও সময় দুষ্ট জায়গার ওপর আঘাত করতেই হয়। তবে নানা সময় প্রধানমন্ত্রী আমাদেরও সতর্ক করেছেন। যদি আমিও অন্যায়কারী হই, তবে প্রধানমন্ত্রী আমাকেও ক্ষমা করবেন না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত