প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সোমবার কামিনী রায়ের জন্মদিন, আপনি জানেন কামিনী রায় কে?

সানমুন নিশাত: কথা তো কবেই ফুরিয়েছে। নোটে গাছ কিন্তু এখনো একটুও মুড়িয়ে যায়নি। দিব্য স্নেহের শাসন। আজকের ভোগবাদী দুনিয়ার আমরা যারা পৃথিবীতে সুখের কাণ্ডারী, তাদের নোটেগাছ মুড়িয়ে যায় ছলনায়।যা আমরা ধরতেও পারি না। বোধহয় সেকথা স্মরণে রেখেই তিনি এমনটা লিখে যেতে পেরেছিলেন। – এইসময়

সুখ সুখ করি কেঁদোনা আর / যতই কাঁদিবে যতই ভাবিবে / ততই বাড়িবে হৃদয় ভার। তিনি কামিনী রায়। সোমবার তাঁর জন্মদিন।

১৫৫ বছরের এই মহিয়সীর জন্মদিনে বিশেষ ডুডলের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানিয়েছে গুগল। এদেশে তিনিই প্রথম মহিলা স্নাতক। বিষয় ছিল সংস্কৃত। ওই বছরই বেথুন স্কুলে পড়ানো শুরু করলেন। পাঁচ বছর পর বেথুন কলেজেই যোগ দেন অধ্যাপনায়। মেয়েদের পড়াশোনা, স্বনির্ভর হয়ে ওঠার বিষয়ে তিনি বরাবরই ভাবতেন। এগিয়ে আনতে চেয়েছেন মেয়েদের। শুধু ভাবনাতেই আটকে রাখেননি। তা বাস্তবায়িত করার জন্য যাবতীয় প্রয়াস তিনি নিয়েছেন।

রবীন্দ্র সমকালের মানুষ কামিনী রায়। কবির সঙ্গে দিব্য একটা অম্লমধুর সম্পর্ক ছিলো। ১৯০০ সালে ৫ অক্টোবর প্রিয়নাথ সেনকে লেখা একটি চিঠিতে কামিনী রায়ের আলো ও ছায়া, পৌরাণিকী, কাব্যগ্রন্থ নিয়ে রবীন্দ্রনাথ আলোচনা করেছেন। তার মনে হয়েছিলো লেখিকার ভাব, কল্পনা এবং শিক্ষা আছে, কিন্তু তার লেখনীতে ইন্দ্রজাল নেই তার ভাষায় সঙ্গীতের অভাব। আর কামিনী রায়ের মনে হয়েছিলো রবি ঠাকুরের কবিতা পড়ে, কিছু যেন একটা নেই তার কবিতায়। সেকথা লিখেছিলেন মন্মথ ঘোষকে কিন্তু কেবল এইগুলি দিয়েই হৃদয় পরিতৃপ্ত হয়না, আরও কিছু চাই। এই পারস্পরিক চাওয়া এবং না পাওয়ার নিস্পত্তিটা কিন্তু বড় মধুর। কামিনীর কথায় বলি ? আমার মনে হয় আমি কিছু অকালপক্ব ছিলাম। কতকগুলি বিষয় আমি রবীন্দ্রনাথের পূর্বেই লিখিয়াছি। কিন্তু তিনি যখন লিখিয়াছেন অনেক সুন্দর করিয়া লিখিয়াছেন।

সোমবার আমাদের সমাজে মন খারাপ, বিষন্নতা, আত্মহত্যা খুবই সহজ শব্দ হিসেবে পরিচিত। কথায় কথায় কিশোর সমাজ ঝুঁকছে আত্মহননের দিকে। কারণে অকারণেই মন খারাপ। সত্যিই কি এর পিছনে উপযুক্ত কারণ থাকে? কেনই বা শৈশব এত বিপন্ন এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এবার বোধহয় কামিনী রায়ের কবিতাগুলি আর একবার খুঁটিয়ে পড়া জরুরি। যা তিনি লিখে গিয়েছেন ৮৬ বছর আগেই।

সর্বাধিক পঠিত