প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজধানীর সবুজবাগ শশ্মানঘাটে কালিদাসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়

শাহীন খন্দকার : আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বাংলাদেশের খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী কালিদাস কর্মকারকে সোমবার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ রাখা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে।সকাল ১১টায় কালিদাস কর্মকারের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হবে। সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা রাখা হয়।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ল্যাবএইড হাসপাতালের হিমঘর থেকে গুণী এ চিত্রশিল্পীর মরদেহ নেয়া হয় তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে। সেখানে তার সহকর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।এরপর মরদেহ নেওয়া হয় শহীদ মিনারে। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুরের পরে রাজধানীর সবুজবাগ শশ্মানঘাটে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন শিল্পী হামিদুজ্জামান খান, হাশেম খান, মনিরুল ইসলাম, শহীদ কাজী, নেপালি বন্ধু ডি প্লামা, ডাকসুর সাবেক ভিপি আখতারুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান ও উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ সামাদ, নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী প্রমুখ। কালিদাসের মেয়ে কঙ্কা কর্মকার বলেন, বাবা প্রতি মুহূর্তে দেশ ও দেশের শিল্পকর্মকে প্রচার করেছেন। এখন থেকে প্রতিবছর বাবার নামে প্রদর্শনী করবো। তার সৃজনশীল কাজের কারণে মানুষ তাকে মনে রাখবে। এ সময় বাবার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য তিনি সবার সহযোগিতা চান। এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শেষ এ শ্রদ্ধানুষ্ঠান।

শহীদ মিনার থেকে কালিদাস কর্মকারের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে রাজধানীর সবুজবাগের বরেদশ্বরী কালি মন্দিরে। সেখানকার শ্মশানে তাকে দাহ করা হবে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও বাংলাদেশ চারুশল্পী সংসদের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণের এ নাগরিক শ্রদ্ধানুষ্ঠান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার দুই মেয়ে কঙ্কা কর্মকার ও কেয়া কর্মকার ।

সাংগঠনিকভাবে শ্রদ্ধা জানায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদ, সম্প্রীতি বাংলাদেশ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গ্যালারি কসমস, ঢাকা গ্যালারি, বিসিক নকশাকেন্দ্র, শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘরসহ বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন।

অচেতন অবস্থায় ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা এ শিল্পীকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে তাঁর দুই মেয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। ১৫ ঘণ্টা ফ্লাইট বিলম্বের কারণে তাদের পৌঁছাতে দেরি হয়েছে আর কারণেই একদিন পিছিয়ে সোমবার সকালে শ্রদ্ধা নিবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কালিদাস কর্মকার। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৭৩ বছর। নিরীক্ষাধর্মীতার জন্য বিখ্যাত ছিলেন কালিদাস কর্মকার। ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্গত ফরিদপুরে তাঁর জন্ম হয়। শৈশবেই তিনি আঁকতে শুরু করেন।স্কুল জীবন শেষে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব আর্টস থেকে তিনি ১৯৬৩-৬৪ খ্রিস্টাব্দে চিত্রকলায় আনুষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত