প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বোরহানউদ্দিনে পুলিশের মারমুখী আচরণ ও নিষ্ঠুরতা ক্ষমার অযোগ্য, বললেন খন্দকার মোশাররফ

শাহানুজ্জামান টিটু : আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জবাবদিহিতা করতে হয় না বলেই সামান্য কিছুতেই নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা যেন এখন নিত্যদিনের ঘটনা। ভোটারবিহীন সরকারের দুঃশাসনে মানুষের জীবনের মূল্য এখন পশু-পাখির মূল্যের চেয়ে কমে গেছে। আমরা মনে করি ভোলার ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত। যে কারণে ভোলাকে রক্তে রঞ্জিত করা হয়েছে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদেরকে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিতে হবে। একথা বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

সোমবার রাজধানী নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই নেতা বলেন, জনগণকে যারা অবজ্ঞা করে তাদের পরিণতি শুভ হয় না। গণমানুষের জানমাল নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলবেন না। যথেষ্ট হয়েছে। ভোলার গণহত্যার বিচার করতে হবে। জনগণের দাবি অবিলম্বে মেনে নিতে হবে। ভোলায় সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশের নির্বিচার গুলিবর্ষণে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন ড. মোশাররফ।

তিনি বলেন, বিদেশে অনেক বড় বড় বিক্ষোভে পুলিশকে একটি বুলেট খরচ না করেও ধৈর্য্য সহকারে মোকাবেলা করে। আর এই দেশে কোন ঘটনা ঘটলেই অসহিষ্ণু আচরণ করে পুলিশ বাহিনী, ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় প্রতিনিয়ত অস্থির সরকার এবং তাদের রক্ষাকারী বাহিনী।

মোশাররফ বলেন, মহান আল্লাহ এবং মহানবী (সাঃ) সম্পর্কে অশালীন মন্ত্যবের জেরে সাধারণ মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা প্রতিবাদের জন্য স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জড়ো হয়েছিল। এই প্রতিবাদী মানুষের উপর পুলিশের বেপরোয়া গুলিতে রক্তাক্ত হয় ভোলা। কি ছিল তাদের অপরাধ ? তারা একটি অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য জড়ো হয়েছিল। এটি তো কোনো অপরাধ নয়। তারা কোনো ভাংচুর করেনি। কারো ক্ষতি করেনি। প্রতিবাদ করা কি অন্যায় ? তারা কি কোনো দাঙ্গায় লিপ্ত হয়েছিল ? যেকোন ধর্ম সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করলে মানুষের বিক্ষুব্ধু হয়ে ওঠা নতুন কিছু নয়। এটাই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, আমরা আশ্চর্যের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, স্থানীয় প্রশাসন সুকৌশলে ভোলায় মানুষের প্রতিবাদটিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেয়ার ঘৃণ্য চক্রান্ত চালাচ্ছে। অথচ আপনারা ভোলা হত্যাকান্ডের পর সরকার ও প্রশাসনের বক্তব্য এবং মন্তব্য শুনলে অনুধাবন করতে পারবেন, তারা দুঃখ প্রকাশ না করে হত্যকাণ্ডের পক্ষে সাফাই গাইছে। আর প্রধানমন্ত্রী তার স্বভাবসুলভ ভাষায় প্রতিবাদকারীদের প্রতি হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, বর্তমান গণবিরোধী সরকার পুলিশকে একটা কাজই শিখিয়েছে সেটি হলো প্রতিবাদী জনগণের প্রতি গুলি করা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা। অথচ দেশের সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদে সুষ্পষ্টভাবে লেখা আছে সমাবেশের স্বাধীনতার কথা।

তিনি বলেন, গত এক দশকে পুলিশ প্রমাণ পেয়েছে বিরোধী দল ও মতের মানুষকে হত্যা করলে কোনো বিচার হয়না বরং পদোন্নতি হয়। তাদের পুরস্কৃত করা হয়। এ কারণেই ভোলায় জনগণের ভাষা বোঝার চেষ্টা করেনি বর্তমান সরকার। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, কী হতো প্রতিবাদী মানুষের কথা শুনলে ? সরকারের পতন হয়ে যেত ? কিসের এতো ভয় ? কাদের প্রতি এতো ভয় ? ঘটনার শুরু শুক্রবার থেকে। ঘটনার পর দেয়া পুলিশের ব্যাখ্যায় মনে হয়, তারা পুরো বিষয়টি আগে থেকেই জানতো। তাহলে এতো সময় পেয়েও পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারলোনা কেন ? এর কারণ, সরকার ও পুলিশের কাছে জনমতের কোনো মূল্য নেই। তাদের বিশ্বাস জন্মেছে, মানুষকে খুন, গুম, অপহরণ করেই যেকোন পরিস্থিতি সামাল দেয়া যায়। সম্পাদনা : মুসবা

সর্বাধিক পঠিত