প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শেরপুরে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করছে নারীরা

আবু জাহের, বগুড়া: বর্তমান সরকারের ‘গ্রাম-শহর সমান উন্নতি’ নীতির কারণে শহরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নত হচ্ছে গ্রাম, গ্রামের অর্থনীতি। আর এই গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন নারীরা।

তাদেরই একজন শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের বামিহাল চৌমুনী গ্রামের মনিরুজ্জামানের স্ত্রী সুরভি আক্তার। সুরভি আক্তার বলেন, শিক্ষার সনদ নিয়ে চাকুরি নামের সোনার হরিণের পিছনে ছুটে চলে ক্লান্ত প্রায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছিলাম।

গত কয়েক বছর ধরে স্বামী মাছ চাষ করে কোনমত কাটছিলো। এভাবে চলতেই ২০১৭ মাছ চাষে বড় ধরণের লোকশান গুণতে হয়। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়ে যেতো সুরভিরদের পরিবারে।

ছুটে আসি শেরপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের সহযোগিতায় ও ভেটেরিনারি সার্জন পিএএ ডা. রায়হানের নিকট হতে ১ বছর পূর্বে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাছ চাষের পাশাপাশি হাঁস ও ১শ’টি দেশি মুরগীর খামার দিয়ে শুরু করি।

সফলতার বিকিরণে আলোকিত হতে থাকে তার নিজের পরিবার, আসে আর্থিক সচ্ছলতা, সাবলম্বিতা আর পরিবারে স্থাপিত হয় সিদ্ধান্ত দেয়ার অধিকার। এখন সব মিলিয়ে ৯টি দেশী মুরগির সেড স্থাপন করেছে। আর এগুলো সবচেয়ে কম খরচে পরিবেশ বান্ধব টেকসই সেড। যেখানে ঘর নির্মাণে খরচ হতো ২-৩ লাখ টাকা সেখানে ৩০-৪০ হাজার টাকায় সেড স্থাপন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে খামারটিতে বিশাল সংগ্রহশালা। এখন সেখান ২ হাজার ৫’শটি দেশী মুরগী ও ১ হাজার হাঁস পালন করছে। যা থেকে প্রায় প্রতিদিন ১২’শ দেশী মুরগীর ডিম উৎপাদন হচ্ছে।

সুরভি আক্তার জানান, প্রতি মাসে আমার আয় লক্ষাধিক টাকা। আর এখন আমরা দুজনসহ খামারে আরো দুইজন মানুষের কর্মসংস্থানও হয়েছে। আমার একটি মেয়ে ইউনির্ভাসিটিতে, আরেকটি মেয়ে কলেজে পড়াশোনা করছে। আমার সংসারের সম্পূর্ণ খরচ চলে এই খামার থেকে।

উপজেলা প্রাণী সম্পদের কারিগরি পরামর্শে সফলতার দৃশ্যমান চিহ্ন দেখে মনটা ভরে যায় গ্রামবাসীর।

বিগত ৩-৪ বছরে শেরপুর উপজেলায়র প্রাণী সম্পদ বিভাগের সহযোগীতায় উপজেলার সর্বস্ত গড়ে উঠেছে গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগীর অনেক খামার।

যেমন- ঘোলাগাড়ি কলেনী গ্রামের মজিদা এক ছাগল থেকে ৪০টি ছাগল ও ৫টি গরু, ১শ দেশী মুরগী, উচরং গ্রামের তামান্না আখিঁ ১৮টি গরু পালন করেন আধুনিক খামার স্থাপন করেছেন সেখানে ২ জনের কর্মসংস্থান, তালপুকুড়িয়ার রাজ বিথি খাতুন ২৬টি গরু, কাশিয়াবালা গ্রামের নাছিমা ৬টি গরু, লক্ষিখোলা গ্রামের তাসলিমা খাতুনের ১৪ ছাগল, চকপাথালিয়া গ্রামের নাদিরা বেগম ৬টি গরু পালন করছে এছাড়ও উপজেলায় রয়েছে প্রায় ৬০/৭০ জন নারী খামারী পালন করছে গরু, হাঁস, মুরগী ছাগল, ভেড়া।

আর এরফলে নারীরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হচ্ছেন আবার গ্রামীণ অর্থনীতিও চাঙ্গা হচ্ছে। উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন পিএএ ডা. মো. রায়হান বলেন, সুরভিসহ অনেক বেকার যুবক নারী আজ সফল উদ্যোক্তা হওয়ার বাস্তব গল্প শেরপুরসহ সারা বাংলাদেশেই ছড়িয়ে পড়ছে।

ইনশাল্লাহ দেশের মানুষের জন্য, দেশের জন্য সকলের সহযোগিতায় ভালো কাজের সম্প্রসারণ করেই যাবো আজীবন।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা ডা. মো. আমির হামজা বলেন, প্রাণী সম্পদের দুয়ার সকলের জন্য খোলা। প্রয়োজনের তাগিদে খামারিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমরা বিনামুল্যে চিকিৎসা প্রদান করে আসছি। আর এ কারেণে উপজেলায় বর্তমানে গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগী পালনের পাশাপাশি অনেক শাক-সবজি চাষ অথবা পুকুরে মাছ চাষ করছেন। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গ হয়ে উঠছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত আলী বলেন, আগে নারীরা তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোর জন্য গ্রাম থেকে শহরে চলে আসত।

এর মূল কারণ ছিলো গার্মেন্টস শিল্প। মূলত নারীরা শহরেই আসত এসব পোশাক কারখানায় চাকরি করে নিজের খরচ চালানোর জন্য। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গ্রামীণ অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করতে চায় এই সরকার।

এজন্য নেয়া হয়েছে বেশ কিছু উদ্যোগ। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে বর্তমান সরকারের একটি বাড়ি, একটি খামার প্রকল্পে আগ্রহী হয়ে এখন অধিকাংশ বাড়িতেই গড়ে উঠেছে খামার এতে সাবলম্বী হচ্ছেন বাড়ির মেয়েরাই বেশি। সম্পাদনা: জেরিন মাশফিক

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত