প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নোবেল বিজয়ী পিটার হ্যান্ডকে যুদ্ধাপরাধী স্লোভেদান মিলোসোভিচের ঘনিষ্টজন, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় মুসলিম নিধনের সমর্থক

দেবদুলাল মুন্না: এবছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন অস্ট্রিয়ান লেখক পিটার হ্যান্ড। কিন্তু তিনি নোবেল বিজয়ী হওয়ার পর থেকে তার পিছু ছাড়ছে না বিতর্ক। বিতর্ক এমন পর্যায়ে চলছে যে অনেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাও সরাসরি জড়িয়ে পড়েছেন। অবশ্য পিটার হ্যান্ডকে ও এর জন্য কম দায়ী নন বলে অনেকে মনে করছেন।

বর্তমান দুনিয়ায় কিংবদন্তীতুল্য দার্শনিক জিজেক স্লাভক সিএনএনকে গতকাল বলেছেন বলেছেন ,‘এবারের নোবেল পুরস্কার এটাই প্রমাণ করে যে, পিটার হ্যান্ডকে অতীতে ঠিক কথাটাই বলেছিলেন।’

পিটার হ্যান্ডকে অতীতে কি বলছিলেন সেটি জানা যায়, গতবছরের ডিসেম্বরে অস্ট্রিয়ান নিউজপেপার ‘ডাই প্রেস’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারের দিকে নজর দিলে।

তিনি তখন বলেছিলেন ‘নোবেলপ্রাইজ শেষ পর্যন্ত বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া উচিত’। তিনি আরও বলেছিলেন ‘সাহিত্যের মিথ্যা সিদ্ধ ঘোষণা’।

‘গার্ডিয়ান’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ লেখক হারি কানজু বলেছেন, ‘যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আমাদের এমন বুদ্ধিজীবী দরকার, যাঁরা আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের অবহেলা ও বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের মুখে মানবাধিকার রক্ষায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারবেন। হান্ডকে তেমন ব্যক্তি নন।’ গতকাল শনিবার টুইটারে আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামা বলেন, ‘কখনো ভাবিনি নোবেল পুরস্কারের কথা ভেবে আমার বমি ভাব হবে।’

কসোভোর প্রেসিডেন্ট হাশিম থাচি টুইটে বলেন, ‘নোবেল পুরস্কারের এই সিদ্ধান্ত ভুক্তভোগীদের জন্য অপরিমেয় বেদনা হয়ে দাঁড়াবে।’ বিশ্বজুড়ে লেখকদের সংগঠন পেন আমেরিকার সভাপতি জেনিফার ইগান টুইটারে লেখেন ‘এমন একজন লেখক যিনি তাঁর কণ্ঠকে ঐতিহাসিক সত্যকে মুছে ফেলতে ব্যবহার করেছেন, তাঁকে নির্বাচিত করা খুবই বিস্ময়কর।’

কেন পিচার হ্যান্ডকে এতো তোপের মুখে পড়েছেন এর কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, নব্বই দশকে বসনিয়া যুদ্ধে সার্বদের সমর্থন দেওয়ার কারণে হ্যান্ডকে অত্যন্ত বিতর্কিত ছিলেন। পিটার হান্ডকের বিরুদ্ধে আলোচিত স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যাকে অস্বীকার করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি যুদ্ধাপরাধী স্লোভেদান মিলোসোভিচেরও ঘনিষ্ঠজন ছিলেন।

বসনিয়া যুদ্ধে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট স্লোভেদান মিলোসোভিচের নেতৃত্বে সার্ব বাহিনী ১৯৯৫ সালের ১১ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ১২ দিনে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার স্রেব্রেনিৎসা শহরের আট হাজারের বেশি মুসলিম পুরুষ ও ছেলেশিশু হত্যা করে। নারীদের বন্দীশিবিরে রেখে ধর্ষণ করা হয়। ২০০৬ সালে পিটার হ্যান্ডকে সার্বিয়ার নৃশংসতার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন এবং সার্বিয়ার ভাগ্যকে ইহুদিদের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।

যদিও তিনি পরে ওই মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন ‘মুখ ফসকে বেরিয়েছে।’ সুইডিশ একাডেমির স্থায়ী সচিব ম্যাটস ম্যালম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘ কমিটি কেবল সাহিত্যিক ও নান্দনিক গুণাবলির ভিত্তিতেই বিজয়ীকে বাছাই করেছে এবং একাডেমির জন্য এরকম বাধ্যবাধকতা নেই যে, তাকে রাজনৈতিক বিবেচনার বিপরীতে সাহিত্যমূল্যের সমন্বয় করতে হবে।’
গত বৃহস্পতিবার ২০১৯ সালের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার পান পিটার হ্যান্ডকে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত