প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোলার ঘটনায় বিক্ষোভ, মন্দিরের নিরাপত্তায় হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা

নিউজ ডেস্ক : ফেসবুকে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেয়ায় ভোলার বোরহানউদ্দিনে সাধারণ তৌহিদি জনতার বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে হাটহাজারীতে বিক্ষোভ করেছে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের সময় মন্দিরের নিরাপত্তায় মাদ্রাসা ছাত্রদের এ উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

রোববার বিকালে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী, শিক্ষার্থী ও থানা পুলিশ সূত্র জানায়, ভোলার ঘটনায় হাটহাজারীর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে মাদ্রাসার সম্মুখে, হাটহাজারী বাজার, মেডিকেল গেট, ভূমি অফিসের সামনে, কলেজ গেট ও বাসস্টেশন এলাকার মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে।

এ সময় বাসস্টেশন চত্বরে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীদের মাগরিবের নামাজ আদায় ও অগ্নিসংযোগ করতে দেখা গেছে। হঠাৎ ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলার যাত্রীসাধারণকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ভয়ে দিকবিদিক ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে সাধারণ যাত্রীদের। শত শত দোকান-পাট বন্ধ করে দিয়েছে দোকানিরা।

এ সময় পার্শ্ববর্তী সীতাকালী মন্দিরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করার চেষ্টা করলে মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থীরা তাদের রুখে দেয় এবং মন্দিরে যেন কেউ হামলা করতে না পারে সেজন্য তারা বেশ জোরালো ভূমিকা পালন করে।

হাটহাজারী মাদ্রাসার পাশেই অবস্থিত মন্দিরটি। পাশে হলেও ওই মন্দিরের নিরাপত্তায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা সবসময় প্রশংসিত হয়ে আসছে। এ নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে একবার প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিল।

বছরের পর বছর ধরে এ অঞ্চলে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের পরিচায়ক হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করছে দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রধান জামে মসজিদ বায়তুল করিম প্রকাশ ‘বড় মসজিদ’ এবং ‘শ্রী শ্রী সীতাকালী কেন্দ্রীয় মন্দির’। মসজিদ ও মন্দিরে শুধু এক দেয়ালের ফারাক। প্রায় শত বছরের পুরানো এ মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন দীর্ঘ সময় ধরে পূজা-অর্চনা করে আসলেও এ নিয়ে কারও মধ্যে কোনো বৈরি অবস্থা তৈরি হয়নি।

সীতাকালী মন্দির পরিচালনা কমিটি ও উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি উদয় সেন বলেন, বহির্বিশ্বে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অপ্রীতিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ঘটলেও এ উপজেলার চিত্র ছিল ব্যতিক্রম। শুনেছি, হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার সময়ও এখানে একে-অপরের ওপর হামলা তো দূরে থাক, উল্টো মাদ্রাসার ছাত্ররাই পাহারা দিয়ে মন্দিরকে রক্ষা করেছেন। শত বছর ধরে হিন্দু-মুসলিম যার যার অবস্থানে থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন।

১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হাটহাজারী মাদ্রাসা। ১১৯ বছরের ইতিহাসে হিন্দু সম্প্রদায় ও মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার ইতিহাস নেই।

এমনটা দাবি করে হাটহাজারী মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি জসিম উদ্দিন জানান, শত বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এ মাদ্রাসার সীমানা দেয়ালের সঙ্গে গড়ে উঠেছে কালী মন্দির। মন্দিরটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দুই ধর্মের অনুসারীরা সহাবস্থানে থেকে যার যার মতো করে ধর্মীর আচার-অনুষ্ঠান পালন করছেন। ভিন্ন ধর্মের দুটি প্রতিষ্ঠান পাশাপাশি থেকে যার যার মতো করে ধর্মীয় রীতি পালন করছেন তারা। এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অসাধারণ একটি উদারহরণ। সূত্র: যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত