প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড হবে উপকারী ও ব্যাবহারযোগ্য

মো. তৌহিদ এলাহী : বিশ্বে জনসংখ্যার বিষ্ফোরণ, শিল্পবিপ্লব ,বিশ্বায়ন ইত্যদির ফলে দিন দিন পরিবর্তন হচ্ছে বিশ্বের জলবায়ু । জলবায়ু পরিবর্তন এখন বিশ্বে অন্যতম জটিল সমস্যা। প্রকৃতিতে বিভিন্ন কারনে প্রতিনিয়ত বাড়ছে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমান।এই কার্বন ডাই-অক্সাইডের কারণে উষ্ণাতা কার্বন ডাই-অক্সাইড দ্রুত । ফলে প্রকৃতিতে পড়ছে বিরূপ প্রভাব।

উষ্ণায়নের ফলে বরফ গলে প্লাবিত হচ্ছে অনেক নিম্নাঞ্চল, প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে আরো অনেক এলাকা। জাতিসংঘের একটি বিজ্ঞানী প্যানেল হুঁশিয়ার করেছে – মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের পরিণতিতে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন দ্রুত হারে সাগর-পৃষ্টের উচ্চতা বাড়ছে এবং বরফ গলছে।

মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের ফলে পরিবেশে যে বাড়তি তাপ তৈরি হচ্ছে, তার ৯০ শতাংশই শুষে নিচ্ছে সাগর। ১৯৯৩ সাল থেকে শুষে নেওয়ার এই মাত্রা দ্বিগুণ হয়েছে। সেই সাথে গলছে গ্রিনল্যান্ড এবং অ্যান্টার্কটিকার বরফ। বাড়ছে সাগর পৃষ্ঠের উচ্চতা। ২০০৭ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত যে হারে অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলেছে তার আগের ১০ বছরের তুলনায় তিনগুণ।

পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারন হচ্ছে গ্রিনহাউস এফেক্ট।পৃথিবীতে বিভিন্ গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রিনহাউজ সিস্টেম ।এতে বায়ুমন্ডল অতিক্রম করে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্নি প্রবেশ করছে সহজেই।ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে উষ্ণতা ।এই গ্রিনহাউস গ্যাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের উপস্থিতি সব থেকে বেশি, যা ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ। তাই কার্বন ডাই-অক্সাইডই হচ্ছে সব থেকে বড় ক্ষতির কারণ। তাই সময়ের প্রয়োজন এখন কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ।

সম্প্রতি কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ নিয়ে গবেষনা করতে যেয়ে বিজ্ঞানিরা পেয়েছেন আশার আলো।নতুন আশার খবর হলো, কার্বন ডাই-অক্সাইডকে পরিবর্তন করে প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করা যাবে- এমন একটি জটিল সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে পেয়েছেন জাপান ও চীনের ইউনিভার্সিটি অব টোকিও, কোটো ইউনিভার্সিটি ও জিয়াংসু নরমাল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা।

তারা বলছেন, গবেষণায় এমন একটি পদার্থের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা কার্বন ডাই-অক্সাইডকে অন্য একটি উপকারী পদার্থে রূপান্তর করতে পারবে।

পোরাস কো-অর্ডিনেশন পলিমারস (পিসিপি) নামে এক ধরনের উপকরণ ব্যবহার করে ভিন্ন একটি যৌগ তৈরি হবে, যার নাম কো-অর্ডিনেশন কমপ্লেক্সেস। এ পদ্ধতিতে একটি পদার্থের অণু ও পরমাণুকে জোড়া লাগিয়ে অন্য একটি সক্রিয় রাসায়নিক পদার্থে রূপান্তর করা যায়। বিজ্ঞানীরা কার্বন সংরক্ষণ করে তা পরে ব্যবহার করতে বহু প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এ কাজে বর্তমানে যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, তাকে সিকুয়েসট্রেশন বলা হয়। এ জন্য প্রচুর জ্বালানির প্রয়োজন হয়। তবে নতুন গবেষণায় যে পদার্থের কথা বলা হচ্ছে, এটি প্রচুর ছিদ্রযুক্ত হবে, যা মূলত একটি আণবিক পর্যায়ের চালুনির মতো কাজ করবে। এ ছিদ্রগুলোর মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ধরা যাবে।

গবেষণার ক্ষেত্রে জিঙ্ক আয়নের তৈরি কো-অর্ডিনেশন কমপ্লেক্স ব্যবহার করা হয়েছে। এটি প্রপেলারের সঙ্গে ডিপিএ জৈব যৌগের মতো জড়িয়ে থাকে। জিঙ্ক ও ডিপিএর মধ্যে মিথস্ট্ক্রিয়ার ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সঙ্গে একটি সম্বন্ধ তৈরি হয়। এভাবে কার্বন ডাই-অক্সাইড কঠিন পদার্থে রূপ নেয়।

এ পদ্ধতিতে রাসায়নিক রূপান্তর কার্বন ডাই-অক্সাইডকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তুলবে। এ পুনর্ব্যবহারযোগ্য পদার্থটি দীর্ঘমেয়াদে শিল্পে ব্যবহার করা যাবে।

সর্বাধিক পঠিত