প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজধানীর গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য

খালিদ আহমেদ : পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের কাছে রাজধানীবাসী জিম্মি হয়ে পড়ছেন। নানান অজুহাতে ভাড়া বাড়িয়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। গেটলক, ডাইরেক্ট ও সিটিং সার্ভিসের নামে প্রতারণা অব্যাহত রেখেছে। ‘সিটিং সার্ভিসের নামে চিটিং’ এখন নগরবাসীর কাছে প্রবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানীর ৯৬ ভাগ গণপরিবহন এখন সিটিংয়ের নামে চিটিং সার্ভিসের মাধ্যমে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রতারণার দায় মালিক-শ্রমিকরা একে অপরের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। পুলিশ প্রশাসন বিষয়টিকে অবৈধ ও বেআইনি বলার পরও ‘ব্যবস্থা নেয়া হবে’ বলেই দায় সারছে। যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার ব্যাপারে পুলিশের নেই কোনো মাথাব্যথা।

উদ্বেগের বিষয় হল, ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে সরকারেরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ লক্ষ করা যাচ্ছে না। ফলে রাজধানী ও আশপাশের রুটে সিটিং সার্ভিসের নামে চলাচলকারী বাসগুলোয় লাগামহীনভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলেও যাত্রীরা তা মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। আশ্চর্যজনক হল, সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের পর বেশকিছু কোম্পানির বাসভাড়া আরও বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইতঃপূর্বে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বদনাম ঘোচাতে সিটিং সার্ভিস বন্ধের অভিযানে নেমেছিলেন পরিবহন মালিকরা। ওই অভিযানে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষও (বিআরটিএ) অংশ নিয়েছিলো। সে সময় রাজধানীজুড়ে বাসের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে যাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলা হয়। সংকট সৃষ্টির ঘটনায় বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, বরং সিটিং সার্ভিসের নামে বাড়তি ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে একধরনের বৈধতা দেয়া হয়।

কয়েক বছর আগেও রাজধানীর বিভিন্ন রুটে সুদৃশ্য ও মানসম্মত বাস চলাচল করলেও এখন আর তা দেখা যায় না। অনেক রুটে তখন এসি বাসও চলাচল করত। কাউন্টারভিত্তিক সেসব বাস সার্ভিসে মানুষ নির্দিষ্ট গন্তব্যের টিকিট সংগ্রহ করে সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে যানবাহনে ওঠার সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলো। যাত্রীরা, বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ মোটামুটি নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারত সে সময়। বর্তমানে এ ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। এর বদলে ঢাকার রাজপথ দখল করে নিয়েছে লক্কড়ঝক্কড় মার্কা বাস। এর মধ্যে কিছু বাস কাউন্টার পদ্ধতিতে চলাচল করলেও বেশিরভাগই লোকালে পরিণত হয়েছে, অথচ তারা বাড়তি ভাড়া আদায় করছে সিটিংয়ের নামে।

ফলে রাজধানীর বিপুলসংখ্যক যাত্রীর হয়রানি ও ভোগান্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে অবাক বিষয় হচ্ছে, এসব গণপরিবহনের কোনটি লোকাল, কোনটি সিটিং, তা দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই। দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে মহানগরীর সব রুটেই সিটিং, লোকাল, ডাইরেক্ট, স্পেশাল ইত্যাদি নামধারী বাসগুলোয় যাত্রীদের গাদাগাদি ও বাদুড়ঝোলা হয়ে চলতে হচ্ছে। এছাড়া একই দূরত্বের গন্তব্যে যেতে একেক ধরনের বাস সার্ভিসে ভিন্ন ভিন্ন হারে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। সরকারি মালিকানায় পরিচালিত বিআরটিসি বাস সার্ভিসও এ অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা থেকে মুক্ত নয়।

ঢাকা মহানগরীতে চলাচলরত গণপরিবহনে যাত্রী ভাড়া কার্যকর ও রুট পারমিট দেয়ার দায়িত্ব রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কমিটি সংক্ষেপে আরটিসি’র। আরটিসি বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। মোটরযান আইন-১৯৮৩ অনুযায়ী রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনের গায়ে আঁচড় থাকতে পারবে না, যানবাহন রংচটা হতে পারবে না এবং যান্ত্রিক ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে ওই যানবাহনকে ফিটনেসবিহীন হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এসব ত্রুটি সারিয়ে রাস্তায় নামতে হবে।

আইনটি যে একেবারেই মানা হচ্ছে না, রাজধানীর রাস্তায় চোখ রাখলেই তা স্পষ্ট হয়। দেশে প্রতিবছর সড়কপথে অন্তত ৫ হাজার দুর্ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। এসব দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে কমপক্ষে ৪ হাজার মানুষ এবং পঙ্গুত্ববরণ করছে এর দ্বিগুণ, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কমপক্ষে পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত