প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে সংশয়ে আইনজীবীরা
মুখে আন্দোলনের কথা বললেও সিদ্ধান্তহীন বিএনপি

শাহানুজ্জামান টিটু : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ৬২০দিন কারাগারে।দুটি মামলায় জামিন পেলে মুক্তি পাবেন।গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি হওয়ার পর থেকে বিএনপি তার মুক্তির জন্য নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে কিন্তু তাতে মুক্তি মেলেনি খালেদা জিয়ার।সর্বশেষ দলের এমপিরা তার মুক্তির জন্য তৎপরতা দেখালেও তাদের উদ্যোগও শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। দলের নীতিনির্ধারকরা খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনী প্রক্রিয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন। এমনকি তার আইনজীবীরাও একই কথা বলছেন।

যদিও দলটির নেতারা রাজপথে জোরদার আন্দোলনের কথা বলছেন।সরকারের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি পারলে আন্দোলন করে তাদের নেত্রীকে মুক্ত করুক।কিন্তু বিএনপির নীতিনির্ধারকরা দলগোছানোর কথা বলে সময় নিচ্ছেন।আন্দোলনে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় তারা।কিভাবে কোন পথে এ আন্দোলন হবে তা নিয়ে অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে।কিন্তু সঠিক কোনো কর্মকৌশল নির্ধারণে এখনো পৌছাতে সক্ষম হননি।কর্মীদের উজ্জীবিত রাখতেই বিএনপির নেতারা সভা সমাবেশে আন্দোলন আন্দোলন নামে সস্তা বক্তব্য দিচ্ছেন।তবে এভাবে কতদিন কর্মী ধরে রাখা যাবে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া, বাকস্বাধীনতা ফিরে পাওয়া এটা খালেদা জিয়ার মুক্তির সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।দেশনেত্রীর মুক্তির মাধ্যমেই কেবল দেশের মানুষ সেই অধিকার ফিরে পেতে পারে।আমরা আন্দোলনে নেমেছি, আন্দোলন অব্যাহতভাবে চলবে, আরো তীব্রতর হবে।যত দিন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারি তত দিন আন্দোলন চলবে।তিনি বলেন, অনেকে প্রশ্ন করে বিএনপি কিভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।আমি পাল্টা প্রশ্ন করি, আওয়ামী লীগ জনগণকে বাইরে রেখে তাদের ভোট চুরি করে, তাদের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে যারা ক্ষমতায় আছে তারা কিভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।বিএনপি তার জায়গায় অটল আছে।আমরা গণতন্ত্রের পক্ষে, মানুষের অধিকারের পক্ষে ছিলাম, আছি, থাকব।জনগণের শক্তিকে কেউ থামাতে পারবে না।

জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, তার বিরুদ্ধে ৩৭মামলা সবগুলোই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত এবং সব মামলায় জামিন তার প্রাপ্র্য।কিন্তু সরকারের হাত অনেক লন্বা।

তিনি বলেন, আদালত তো আমাদের বেল পিটিশন শোনেই না। সেখানে একটা নির্দেশনা নিয়ে যেতে হয়।আবার সেই নির্দেশনা যদি হাইকোর্ট দেয় তার বিরুদ্ধে সরকার আপিল বিভাগে যায়।আবার আপিল বিভাগ থেকে অর্ডার নিয়ে আমাদেরকে নিম্ম আদালতে যেতে হয়। সেখানে জামিন আবেদন বাতিল হলে আবার হাইর্কোটে এভাবে আবার আপিল বিভাগে। এই করে বেগম খালেদা জিয়া ৩৭ মামলা ৩৫টিতে জামিন পেয়েছেন।এটা হচ্ছে অ্যাডভোকেট জীবনে আমার বিভৎস্য অভিজ্ঞতা।এই হলো খালেদা জিয়ার মামলার অবস্থা।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমদ আযম বলেন, আন্দোলন ছাড়া নেত্রী মুক্তি হবেন বলে আমি মনে করি না।আমাদের নেতাকর্মীদের নামে এতো এতো মামলা যে তাদেরকে কোর্টেই থাকতে হচ্ছে অধিকাংশ সময়।তারপরও আমরা বসে নেই।দলগোছানোর কাজ চলছে। এ প্রক্রিয়া খুব শিগগিরই শেষ হবে। এরপর দলের নীতিনির্ধারকারা বসে আন্দোলনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।আন্দোলন কখনো টাইমলাইন বেধে হয় না বলে জানালেন বিএনপির এই নেতা। সম্পাদনা : সারোয়ার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত