প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভিসি ড. মীজান স্যারের বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তিগ্রাহ্য ১০ কারণ

আবদুল অদুদ : যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ ছেড়ে দেয়ার অভিপ্রায়ের কথা জানিয়েছেন প্রফেসর ড. মীজানুর রহমান। তিনি কেন তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন মিডিয়ার সঙ্গে দেয়া তার বক্তব্য অনুযায়ী যুক্তিগ্রাহ্য ১০টি কারণ নিম্নরূপ:

১. যুবলীগে এখন যে ইমেজ সংকট চলছে তা উত্তরণে বা যুবলীগে সংস্কারের প্রশ্নে তার মতো প্রজ্ঞাবান ও ক্যাসিনো-ফ্রি ক্লিন ইমেজের লোকই তো বেশি দরকার।

২. তিনি বলেন, আমি ভিসি পদের জন্য কখনো নিজে থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করিনি। নেত্রী নিজে থেকে আমায় এই পদ দেন। আমি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে এসেছি। যুবলীগের দায়িত্ব পেলেও তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবো।

৩. তিনি অনৈতিকভাবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে একসঙ্গে থাকতে চান না। এটাই তার বড় যোগ্যতা। যুবলীগের দায়িত্ব আসলে তিনি ভিসি পদটি ছেড়ে দেবেন বলে বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন। কারণ, একসঙ্গে দুটি সুযোগ আসলে কোনটি নেবেন, এমন প্রশ্নে তিনি সংগঠনের প্রতি তার ভালবাসা দেখিয়েছেন।

৪. তিনি বলেন, ‘যুবলীগ নিয়ে সারা দেশে সমালোচনা শুরু হওয়ার পর অনেক নেতাকর্মী আমাকে দায়িত্ব নেয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। সে কারণে আমি বলছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি আমায় যুবলীগের দায়িত্ব দেন, তবে তা আমি সঠিকভাবে পালন করে নেত্রীর সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখব। এমনিতেই একদিন আমার ভিসি পদের সময় শেষ হবে। তাই আমি এ কথা জানিয়েছি।

৫. অধ্যাপক মীজানুর রহমানের যুবলীগ-সম্পৃক্ততা প্রায় ২০ বছরের। এই অধ্যাপক বর্তমানে সংগঠনটির প্রথম প্রেসিডিয়াম সদস্য। ওমর ফারুক চৌধুরী যদি বাদ পড়েন, তবে স্বাভাবিকভাবেই তিনি ১ নং ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে চেয়ারম্যান পদটি পান। এটা কোনো লোভনীয় ব্যাপার নয়। বরং প্রশ্ন হলো, লোভনীয় ব্যাপার এখানে আসছে কেনো?

৬. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার পর থেকে যুবলীগের কোনো কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। তার মনে সংগঠনের প্রতি ভালবাসা রয়েছে, সে ভালবাসা থেকেই তিনি তার প্রথম পছন্দ হিসেবে যুবলীগের চেয়ারম্যান পদটিকে গ্রহণ করতে চান।

৭. গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার কয়েকটি ক্লাবে র্যা বের অভিযানে ক্যাসিনো চালানোর প্রমাণ পাওয়ার পর এতে যুবলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এমন মুহূর্তে ক্লিন ইমেজের একজন নেতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। ভিসি মীজানুর রহমানের কথা অনেকেই বলছেন, যদিও কিছু কিছু সমালোচনাও আছে।

৮. একজন ভদ্র, মার্জিত ও সজ্জন ব্যক্তি হিসাবে আমরা তাঁকে দেখে এসেছি। রাজনীতিতে যখন অশুদ্ধতার অনুপ্রবেশ শুরু হয়েছে তখনও তাঁকে একজন শুদ্ধ রাজনীতিবিদ হিসাবেই দেখেছি। শিক্ষক রাজনীতিতেও যে রকম কাদা ছিটানোর খেলা চলছে তা’ থেকেও তিনি সম্মানজনক দূরে। পেশা জীবনে তাঁর সকল সফলতাই নিজ অধ্যাবসায়, মেধা ও শ্রমের ফসল। রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে ত্যাগের পরিমাণ অনেক বেশি।এমন ত্যাগী নেতারা শীর্ষপদে অধিষ্ঠিত হলে দল উপকৃত হয়।

৯.মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাকে অন্তরে ধারণ করেই তিনি দেশের সকল দুঃসময়ে লড়াই করেছেন। এই সময়ে বরং তাকে যুবলীগের নেতৃত্বে পেলে সংকট উত্তরণের পাশাপাশি মেধাভিত্তিক একটি নতুন মাত্রা পাবে যুবলীগ। সুতরাং তার এ বক্তব্য শুনে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই।

১০.যুবলীগের একজন ত্যাগী নেতা হিসাবে সংগঠনের প্রতি তাঁর এমন আবেগ থাকতেই পারে।তিনি বলেছেন, এটা আমার এত ভালোবাসার একটি সংগঠন, একে রক্ষা করতে আমি উপাচার্যশিপ ছেড়ে দিতে রাজি । যাঁরা মনের তাগিদে রাজনীতি করেছেন, সংগঠনের প্রতি তাদের ভালবাসাটা তো এ রকমই হয়। সুতরাং তাকে আমাদের স্যালুট করা উচিত।

লেখক : উপ-সম্পাদক, দৈনিক আমাদের নতুন সময়

সর্বাধিক পঠিত