প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঐক্যফ্রন্টে নেই বিএনপি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশেও থাকবে না

খালিদ আহমেদ: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতি আগ্রহ নেই বিএনপির অধিকাংশ নেতার। এমনকি ফ্রন্টের ব্যানারে ঘোষিত কর্মসূচিতেও অংশ নিচ্ছে না তারা। ২২ অক্টোবর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যে সভা হবে তাতেও বিএনপির অংশগ্রহণের সম্ভাবনা খুবই কম।

শনিবার সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। দেশ রূপান্তর

তারা বলেন, যেসব নেতার মুখ থেকে রাজপথের বিভিন্ন কর্মসূচিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারণ হয় না, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি চান না, তাদের কর্মসূচিতে আমরা যেতে চাই না। তারা মনে করছেন, বিএনপি যখন দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবি নিয়ে রাজপথে কর্মসূচি পালন করছে, ঠিক তখনই বিএনপির কর্মসূচিকে থামিয়ে দিতে ফ্রন্ট এগিয়ে এসেছে। ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন সরকারের হয়ে কাজ করছেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের অনাগ্রহের কারণগুলোর বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের সমস্যা নেই। কেউ সরকারের বিরুদ্ধে কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামলে আমাদেরই লাভ। আগে শহীদ জিয়ার নাম নেয়নি, এখন নেবে। কারাবন্দি চেয়ারপারসনের মুক্তি চাইবে।’

ড. কামাল হোসেনের ওপর বিএনপির বেশির ভাগ নেতার অনাস্থা ও অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের সভাপতি ড. কামাল হোসেন কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি চান। আমি নিজেই অনেক সময় স্মরণ করিয়ে দিয়ে আসি। আমি নিজেও বলি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপি। তারা ফ্রন্টের কর্মসূচিতে আসবে কি আসবে না, সেটা তাদের বিষয়। সমস্যা থাকলে তা সমাধান করতে হবে।’

১৩ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আবরার হত্যার প্রতিবাদে গণজমায়েত ও শোক র্যালির কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ও নির্বাহী কমিটির সদস্য নবী উল্লাহ নবী ছাড়া বিএনপির আর কোনো নেতাকে দেখা যায়নি। জমায়েত শেষে যে শোক র্যালি হয় তাতে শুধু ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অংশ নেন। র্যালিতে অংশ না নিয়ে শামা ওবায়েদ ও নবী উল্লাহ নবী আগেই জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকা ছেড়ে যান। জমায়েতে ছাত্রদলের পদ-পদবিহীন কিছু নেতাকর্মী অংশ নিলেও র্যালিতে তারা অংশ নেননি।

দীর্ঘদিন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক হয় না। সম্প্রতি স্টিয়ারিং কমিটির যে বৈঠক হয়েছে তাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খানরা কেউ অংশ নেননি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকায় স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অংশ নেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকা-ের প্রতিবাদে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ২২ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যে সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে তার মূল উদ্দেশ্য বিএনপিকে বড় ধরনের আন্দোলন থেকে সরিয়ে আনা। অনেকেই বলছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন থেকে বিএনপিকে সরিয়ে নিতে সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সমাবেশ থেকে দীর্ঘমেয়াদি কিছু কর্মসূচি ঘোষণা করবে ড. কামালের তৈরি কথিত ঐক্যফ্রন্ট।

তিনি বলেন, তার ধারণা, ২২ অক্টোবরের সমাবেশে সরকার বাধা দেবে না। এই সমাবেশের পর কথিত ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ফ্রন্ট বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে সমাবেশের ঘোষণা দেবে। এসব করে তারা কমপক্ষে ৬ মাস পার করে দেবেন। তাদের কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিএনপিকে কাজে লাগাবে। কিন্তু তাতে বিএনপির কোনো লাভ হবে না। কারণ বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বুঝে গেছেন ড. কামাল হোসেন আসলে খালেদা জিয়ার মুক্তি চান না। তাই কথিত ঐক্যফ্রন্টের নামে কামালের এসব তৎপরতায় বিএনপি নেতাকর্মীরাও মারাত্মক ক্ষুব্ধ।
কেএ/এসবি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত