প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মনিটরিং শুধু শহরে, গ্রামের বাজারে নজর নেই

ওয়ালি উল্লাহ : রাজধানীর বাজারগুলোয় নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন সাত-আটটি অভিযান পরিচালিত হলেও গ্রামের বাজারে নজর নেই কারও। ভোক্তা অধিকারের একজন অফিসার ও একজন কম্পিউটার অপারেটর-কাম-অফিস সহকারী দিয়েই চলছে পুরো জেলার কার্যক্রম। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকাও নামমাত্র। বাংলাদেশ প্রতিদিন

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রাজধানীতে যে অভিযানগুলো পরিচালিত হয়, তাও পর্যাপ্ত নয়। গ্রামের অনেক মানুষ তো ভোক্তা অধিকার আইন সম্পর্কে জানেনই না। তাই নিত্যপণ্যের দাম ঠিক রাখতে সারা দেশের মানুষকে যেমন আইনগুলো সম্পর্কে জানাতে ও সচেতন করতে হবে। একইভাবে উপজেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদকেও ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে বাজার মনিটরিং-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

জানতে চাইলে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) টঙ্গিবাড়ী উপজেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর যেমন তৎপরতা থাকা প্রয়োজন, আমাদের উপজেলায় তেমন তৎপরতা দেখি না।’

এ বিষয়ে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাম্মৎ হাসিনা আক্তার মনে করেন, সক্রিয় বাজার কমিটি না থাকার কারণেই গ্রামের বাজারগুলোর পণ্যের দাম ঠিক রাখা সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, ‘আমরা মাঝেমধ্যেই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করি। কিন্তু বাজার কমিটিগুলো অ্যাকটিভ না থাকায় অভিযানগুলো ফলপ্রসূ হয় না। এজন্য কমিটিগুলোকে সক্রিয় করতে আমরা কাজ করছি।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি সমন্বিত টিম অভিযান পরিচালনা করে। এ টিমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন, বিএসটিআই, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা থাকেন। ঢাকার দুই সিটিতে দুটি টিম অভিযান পরিচালনা করে। এ ছাড়া জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তিন থেকে চারটি টিম প্রতিদিন বাজার অভিযান পরিচালনা করছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর সূত্র জানায়, লোকবল সংকটের কারণে অধিদপ্তরের কাজগুলো থমকে আছে। একটি জেলায় মাত্র একজন সহকারী পরিচালক ও একজন কম্পিউটার অপারেটর-কাম-অফিস সহকারী দায়িত্ব পালন করেন। জেলার অভিযোগগুলো নিষ্পত্তির পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হয়। এজন্য নতুন ২ হাজার ৩০০ পদ সৃষ্টির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হয়ে বিষয়টি এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এ ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক (উপসচিব) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, ‘ভোক্তার অধিকার অক্ষুন্ন রাখতে আমাদের কর্মকর্তারা অনেক তৎপর। লোকবল সংকট থাকলেও বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির আওতায় আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করি। এ বছর সারাদেশে ১০ হাজার অভিযান পরিচালনার একটা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করছি জমা হওয়া হাজার হাজার অভিযোগ নিষ্পত্তির পরও এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।’ একই ব্যাপারে ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘মানুষের ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপণ্যের দাম ঠিক রাখা সরকারের দায়িত্ব। অনেক সময় দেখা যায়, মজুদদারি, সরবরাহ ব্যাহত করা, চাঁদাবাজি এমন নানা অপকর্মের কারণে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে যায়। এসব ক্ষেত্রে সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং দুষ্কৃতকারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখবে। এজন্য মোবাইল কোর্টের পাশাপাশি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকার কিন্তু সবসময়ই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, নিরাপদ খাদ্য আইন, ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইনসহ অনেক আইন করেছে বাজার ঠিক রাখতে। এ আইনগুলো বাস্তবায়নে আরও তদারকি প্রয়োজন।’ ভোক্তা অধিকারের মাত্র একজন কর্মকর্তা দিয়ে জেলা চালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লোকবল সংকট রয়েছে, তবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআইসহ এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা অত্যন্ত জরুরি।’
ডব্লিউএস/এমআই

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত